শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
- আপডেট সময় : ১১:১৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
এম এম মামুন:
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব বাস কাউন্টার বন্ধ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বাস না পেয়ে কেউ বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
গাজীপুরগামী যাত্রী নওগাঁর শাহীনা বেগম বলেন, “গাজীপুর যাওয়ার জন্য রাজশাহীতে এসেছি। এসে দেখি কোনো বাস চলছে না। এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।”
জানা গেছে, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এক পক্ষের শ্রমিকরা। তবে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে নির্বাচন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলে বিরোধ আরও তীব্র হয়। এর প্রতিবাদে শ্রমিকদের একটি অংশ কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে কয়েক ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাত ৮টার দিকে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে নতুন করে কর্মবিরতি শুরু হলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাসও চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ২৩ এপ্রিল তাদের ওপর হামলার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি করে একটি কমিটি ঘোষণা করে। সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে একাংশের শ্রমিকরা মে মাসে কয়েক দফা ধর্মঘট পালন করেন। পরে জেলা প্রশাসন ঈদের পর নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেয়।
সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে আবারও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
শ্রমিকনেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বাসমালিক হওয়ায় নজরুল ইসলাম হেলালের নির্বাচন কমিটিতে থাকা উচিত নয়।
অন্যদিকে নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, বৈঠকে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে বাস চলাচল বন্ধ করা কিংবা কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার আগেই তার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তিনি দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।



















