শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং প্রশ্নপত্রের ত্রুটি সংশোধনের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি দেওয়ার পর স্লোগান বন্ধ হলেও শিক্ষার্থীরা বোর্ড চত্বরে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। কেউ ভেজা কাপড়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, আবার অনেকে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মতো দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষাও সাময়িকভাবে স্থগিত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হোক।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ভুল থাকায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া প্রশ্নপত্রের মান পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেন তারা। তাদের মতে, ভর্তি পরীক্ষার মতো কঠিন প্রশ্ন দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থাকা উচিত নয়। নতুন প্রশ্নপত্রের ধরন ও পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন না করে শুধু পরীক্ষার ধরন পরিবর্তনেরও বিরোধিতা করেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, প্রশ্নপত্রের ত্রুটির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা।
পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও বোর্ড সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা বন্যা পরিস্থিতি, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি, পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।



















