রাণীশংকৈলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভিনদেশী ফলের চাষ
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ৪০০ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভিনদেশী ফলের চাষ
চারা কিংবা বীজ রোপন করে মানুষের প্রোটিন, ভিটামিন এ,সি,ই এবং পটাসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে ধারণা করছেন উপজেলা কৃষি অফিস।এই ফল দেখতে অনেক টা বেল বা পেয়ারার মতো তবে আসলে বেল বা পেয়ারা কোন টায় নয়।এটি অনেক টা সবজির আকার ধারণ করলেও ফলটি আসলে ভিনদেশী একটি উপকারী ফল যা বিদেশে অ্যাভোকাডোর ফল নামে বেশ পরিচিত। বলা হয় এ ফল পৃথিবীর মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তার একটি বড় নিয়ামত স্বরুপ পাওয়া। কারণ এর মধ্যে রয়েছে মানব দেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ভিটামিন ও মিনারেল।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ভিনদেশী পৃথিবীর অন্যতম এ পুষ্টিকর ফল টি এখন বাংলাদেশেই চাষ হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যে এটি বাণিজ্যিক আকার ধারণ করবে বলে আশা বাদী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারে অ্যাভোকাডোর চারা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। একসময় সারাদেশে এ ফলের চারা বিস্তার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কৃষি অধিদপ্তর।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের উপজেলা শহর থেকে দক্ষিণে উত্তরগাঁও গ্রামের একটি বাড়িতে দেখা মেলে বিদেশি এ অ্যাভোকাডো গাছের। সেখানে ১টি গাছে অর্ধ শতাধিক ফল এসেছে। গাছটি ছোট আকারের হলেও এর ফলগুলো দেখতে অনেকটা পেয়ারার মতোই, একসঙ্গে কয়েকটি ফল ধরে রয়েছে, যা দেখতে গাঢ় ও সবুজ রঙের। এর মধ্যে গাছটিতে কয়েক বছর থেকে ফল ধরছে বলে জানিয়েছেন গাছের মালিক। এবার বিশেষ যত্নে এ গাছের অর্ধশত ফল পাওয়া গেছে। এতে খুশি ওই গাছ রোপনকারী উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ। উত্তগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল্লাহ তিনি আরো বলেন,শখের বসে আমেরিকায় থাকা নিজ শ্যালকের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ছিলাম এ গাছের বীজ। আজ এ গাছে ধরেছে থোকা থোকা ফল, দেখতে ভীড় করছে স্থানীয়রা।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন এ, সি, ই ও কে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পটাসিয়াম, যা কলার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি। এছাড়া ১৮ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং ৩৪ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে।
সেজন্য অন্যান্য ফলের তুলনায় এ ফলের মিষ্টতা কম। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সবচেয়ে উপযোগী ফল।
এছাড়া উল্লেখ্য যে পরিমাণে ভালো কোলেস্টেরল রয়েছে, যা শরীরে থাকা ক্ষতিকর কোলেস্টরেল কমায়। সেগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট মানের খাবার। শিশুদের পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। যকৃৎকে সুরক্ষা দেয়। জন্ডিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে গর্ভপাত রোধ করে এবং স্বাভাবিক গর্ভধারণে সহায়ক হয়। সবার জন্য মানসিক চাপ, হতাশা দূরীকরণ, ক্ষুধা বৃদ্ধি, সুনিদ্রা নিশ্চিত করা এবং দেহের ক্ষতিকর দ্রব্যাদি প্রস্রাব ও মল আকারে বের করে দেহকে সুস্থ রাখতে এ ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একেকটা অ্যাভোকাডোর ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৭০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি বাজারে বিদেশ থেকে এনে এ ফল বিক্রি হচ্ছে, যা প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। সেগুলো পুষ্টিগুণের কারণে উচ্চবিত্তদের কাছে জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।
এ ফলের ভেতরে বেশ বড় ডিম্বাকার বীজ থাকে। আহাযর্য অংশ মাখনের মতো মসৃণ, হালকা মিষ্টি স্বাদের। পেঁপের মতো কাঁচা-পাকা ফল, সবজি, ভর্তা, সালাদ, শরবতসহ বিভিন্ন ভাবে খাওয়ার সুবিধা আছে। টোস্টে মাখনের পরিবর্তে অ্যাভোকাডো ক্রিম দিয়ে খাওয়া, সালাদে, স্যান্ডুইচে মেয়নেজের পরিবর্তে অ্যাভোকাডোর ক্রিম দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত।
রাণীশংকৈল কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ সহিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ও মাটির গুণগতমান ঠিক থাকলে দেশের অনেক জায়গায় বানিজ্যিক ভাবে এটি চাষ করা যাবে। আমরা এ অ্যাভোকাডো গাছের বীজ রোপন করে মানুষের প্রোটিন,ভিটামিন এ,সি,ই ও পটাসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবো।




















