ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীর ওপর হা’মলা, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট; আটক ১ গোদাগাড়ীতে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ৭ বছরের শিশুর মান্দায় গো’বর ফেলা নিয়ে বিরোধ, লা’ঠির আ/ঘাতে আহত ১ মহাদেবপুরে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ রাণীশংকৈলে সজিনা চাষ সম্প্রসারণে রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন পঞ্চগড়ে বৃষ্টিতে টমেটোর ক্ষতি, দামে কিছুটা স্বস্তি কৃষকদের পবার টিসিবি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পণ্য পুড়ে ছাই রাজশাহীতে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু গুরুতর আহত রুহির চিকিৎসায় ইউএনও কার্যালয়ের সহায়তা, এগিয়ে আসার আহ্বান

ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ। ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক মীর আনোয়ারুল কবীরের বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে থাকা কয়েক লাখ টাকার কাঁঠাল গাছ বিক্রি করেন তিনি।

করোনাকালিন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় মাস খানেক আগে গাছগুলো কাটার পর কৌশলে বিক্রির পর মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তার সত্যতা মিলে।

জানা যায় ১৯৯০ সালের দিকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কিছু কাঁঠাল গাছ রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যায় সেই গাছগুলো বেড়ে উঠে। এক সময় তা ফল দিতে শুরু করে। গাছের কাঁঠাল বিক্রি করে বিদ্যালয়ের ছোট খাটে খরচ হতো। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজসে প্রায় পনেরটি গাছ বিক্রি করে দেন।

বন বিভাগের কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারি অফিসের কোনো গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এরপর বন বিভাগে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে গাছের মূল্য নির্ধারণ করে কাটার অনুমোদন দেয় বন বিভাগ। কিন্তু পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের খেয়াল খুশিমতো গাছ কেটে বিক্রি করে দেন।

স্থানীয়রা জানান, মাস খানেক আগে পনেরটি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে সেসব গাছের শিকড় মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। প্রধাণ শিক্ষকের নির্দেশে গাছগুলো বিক্রি করা হয়। অথচ গাছে প্রচুর ফল আসতো।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মামুন উর রশিদের দাবি গাছগুলো শুকিয়ে মারা যাচ্ছিল। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য তা বিক্রি করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক মীর আনোয়ারুল কবীর জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়দের নিয়ে রেজুলশন করে মারা যাওয়া ৯টি কাঁঠাল গাছ নিলামের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। সব টাকাই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে খরচ হয়েছে। সরকারি গাছ কাটার প্রক্রিয়া জানা ছিলো না বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা জানান, বিদ্যালয়ের গাছ কাটতে হলে নিয়ম মেনে কাটতে হবে। কিন্তু  প্রধান শিক্ষক কোনো অনুমোদন না নিয়ে গাছগুলো কেটে অপরাধ করেছেন। আমরা নিশ্চিত হয়েছি গাছ কাটার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান জানান, যদি কেউ আইনবহির্ভূতভাবে গাছ কেটে বিক্রি করেন তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:২১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২

ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ। ঠাকুরগাঁওয়ে টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষক মীর আনোয়ারুল কবীরের বিরুদ্ধে। সদর উপজেলার পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে থাকা কয়েক লাখ টাকার কাঁঠাল গাছ বিক্রি করেন তিনি।

করোনাকালিন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় মাস খানেক আগে গাছগুলো কাটার পর কৌশলে বিক্রির পর মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তার সত্যতা মিলে।

জানা যায় ১৯৯০ সালের দিকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বিদ্যালয় চত্বরে বেশ কিছু কাঁঠাল গাছ রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যায় সেই গাছগুলো বেড়ে উঠে। এক সময় তা ফল দিতে শুরু করে। গাছের কাঁঠাল বিক্রি করে বিদ্যালয়ের ছোট খাটে খরচ হতো। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজসে প্রায় পনেরটি গাছ বিক্রি করে দেন।

বন বিভাগের কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারি অফিসের কোনো গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এরপর বন বিভাগে আবেদন করতে হয়। সেই আবেদন সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে গাছের মূল্য নির্ধারণ করে কাটার অনুমোদন দেয় বন বিভাগ। কিন্তু পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের খেয়াল খুশিমতো গাছ কেটে বিক্রি করে দেন।

স্থানীয়রা জানান, মাস খানেক আগে পনেরটি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পরে সেসব গাছের শিকড় মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। প্রধাণ শিক্ষকের নির্দেশে গাছগুলো বিক্রি করা হয়। অথচ গাছে প্রচুর ফল আসতো।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মামুন উর রশিদের দাবি গাছগুলো শুকিয়ে মারা যাচ্ছিল। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য তা বিক্রি করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক মীর আনোয়ারুল কবীর জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়দের নিয়ে রেজুলশন করে মারা যাওয়া ৯টি কাঁঠাল গাছ নিলামের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। সব টাকাই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে খরচ হয়েছে। সরকারি গাছ কাটার প্রক্রিয়া জানা ছিলো না বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা জানান, বিদ্যালয়ের গাছ কাটতে হলে নিয়ম মেনে কাটতে হবে। কিন্তু  প্রধান শিক্ষক কোনো অনুমোদন না নিয়ে গাছগুলো কেটে অপরাধ করেছেন। আমরা নিশ্চিত হয়েছি গাছ কাটার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোঃ সামসুজ্জামান জানান, যদি কেউ আইনবহির্ভূতভাবে গাছ কেটে বিক্রি করেন তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।