ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে আলোচিত মানিক হ/ত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি, বড় বোন গ্রেপ্তার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ঠাকুরগাঁওয়ে ডিসি অফিসের কর্মচারী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আদালতের তলব সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর নিহত, গ্রামে শোকের মাতম রায়পুরায় নদীতে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে বাগাতিপাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাজশাহীতে ধ/র্ষ/ণ মামলার রায় পুনর্বিবেচনা ও শি/শু ধ’র্ষ’ণে’র বিচার দাবিতে মানববন্ধন যাত্রীবেশে নারীকে কু’পিয়ে ছিনতাই, ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে মহারাজার দিঘি থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, পাশে মিলল চিরকুট

রাণীনগরে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে শত শত নৌকার নৌবহর

মনোরঞ্জন চন্দ্র, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাণীনগরে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে শত শত নৌকার নৌবহর

একেকটা নৌকায় একেক রকমের সাজানো। ঢাক-ঢোল আর সাউন্ড বক্স ও মাইকের সাউন্ডে মুখরিত চারেদিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়ে, শিশু, কিশোর, কিশোরী, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের নাচানাচি। আর সেই দৃশ্য উপভোগ করতে নদীর দু’পারের ভিড় করেন হাজারো মানুষ। এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ফুটে উঠেছে নওগাঁর রাণীনগরে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ছোট যমুনা নদীতে শত শত নৌকার নৌবহরে। এ পূজা উপলক্ষে শুক্রবার উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল বাজারে বসে গ্রামীণ মেলা। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ এ মেলা এখনো ধরে রেখেছে তার ঐতিহ্য।

লক্ষ্মী মানে শ্রী সুরুচি। লক্ষ্মীকে ধন সম্পদ আর সৌন্দর্যের দেবী বলে মনে করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাই লক্ষ্মীপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের কয়েকদিন পর পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজার আরাধনা করা হয়। নারী-পুরুষ উভয়েই এ পূজায় অংশ গ্রহণ নেয়। বুধবার লক্ষ্মীপূজা শুরু হয়। এরপর শুক্রবার ছোট যমুনা নদীতে লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি হয়।

স্থানীয়রা তাদের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে কুজাইল বাজারে দুই দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলার আয়োজন করে থাকেন। মেলায় বসে হরেক রকমের দোকানপাট। মেলার প্রথম দিন শুক্রবার মূল আর্কষণ নৌবহর। দ্বিতীয় দিন হয় বউ মেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর রাজবাড়ির রাজবাহাদুর শ্রী. অন্নদা প্রসন্ন লাহিড়ীর রাজত্ব পরিচালনার আগে থেকে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রায় দুই’শ বছর থেকে লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে এ মেলা শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী এ মেলার বিশেষ আর্কষণ লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ছোট যমুনা নদীতে নৌবহর। এদিন দুপুরের পর থেকে রাণীনগর, আত্রাই, মান্দা, নওগাঁ সদরসহ কয়েকটি উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় চড়ে আসতে থাকে। পাশাপাশি মেলা ও নৌবহর উপভোগ করার জন্য নৌকায় ঘুরে বেড়ান অন্যান্য ধর্মের মানুষও। সাউন্ড বক্স, মাইক আর ঢাকের তালে তালে নৌকায় বিনোদনপ্রেমীদের নৃত্যে মুখরিত হয়ে উঠে ছোট যমুনা নদী। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলনমেলায় পরিণত হয় নদীর দু’পার। শুক্রবার প্রায় তিন শতাধিক নৌকা নদীতে নৌবহরে মেতে উঠে। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এরপর নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

কুজাইল হিন্দুপাড়া গ্রামের আশীস কুমার বলেন, পূর্ব পুরুষেরা এ মেলা শুরু করে গিয়েছেন। আমরা শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছি। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলেও আমাদের এখানে লক্ষ্মীপূজার আনন্দটা বেশি হয়।

গৃহবধূ মুক্তা প্রামাণিক বলেন, প্রায় ৭ বছর থেকে নৌকায় চড়ে নৌবহর উপভোগ করেছি। এবার মেলার উপভোগ করবো, তাই নৌকায় চড়িনি। মেলায় এসেছি কিছু খাব এবং কেনা কাটা করবো।

মিষ্টি দোকানদার সুশিল সরকার বলেন, এই মেলা উপলক্ষে একাধিক রকমের মিষ্টি ও জিলাপি বানিয়েছি। লোকজন মেলাতে ভালোই হয়েছে। আশা করছি মেলা ভালো হবে এবং আমাদের বিক্রিও ভালো হবে।

কুজাইল বাজার জাগরণ সংসদ ক্লাব ও মেলা কমিটির সভাপতি শাহিদুর রহমান বলেন, শত শত বছর আগে থেকে লক্ষ্মীপুজা উপলক্ষে এখানে মেলা হয়ে থাকে। এই মেলার মূল আকর্ষন নৌবহর। যা নদীর উভয় পাশে হাজার হাজার নারী পুরুষ উপভোগ করে। এরপর মেলায় জামাইদের বড় বড় মাছ, মিষ্টিসহ হরেক রকমের খাবার কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। এছাড়া পরের দিন বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আমরা হিন্দু মুসলিম উভয়ে মিলেমিশে এই আনন্দ উপভোগ করি। আমাদের এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। যা বলা যায় এক প্রকার সেতু বন্ধন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাণীনগরে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে শত শত নৌকার নৌবহর

আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪

রাণীনগরে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে শত শত নৌকার নৌবহর

একেকটা নৌকায় একেক রকমের সাজানো। ঢাক-ঢোল আর সাউন্ড বক্স ও মাইকের সাউন্ডে মুখরিত চারেদিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়ে, শিশু, কিশোর, কিশোরী, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের নাচানাচি। আর সেই দৃশ্য উপভোগ করতে নদীর দু’পারের ভিড় করেন হাজারো মানুষ। এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ফুটে উঠেছে নওগাঁর রাণীনগরে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ছোট যমুনা নদীতে শত শত নৌকার নৌবহরে। এ পূজা উপলক্ষে শুক্রবার উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল বাজারে বসে গ্রামীণ মেলা। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ এ মেলা এখনো ধরে রেখেছে তার ঐতিহ্য।

লক্ষ্মী মানে শ্রী সুরুচি। লক্ষ্মীকে ধন সম্পদ আর সৌন্দর্যের দেবী বলে মনে করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাই লক্ষ্মীপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের কয়েকদিন পর পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজার আরাধনা করা হয়। নারী-পুরুষ উভয়েই এ পূজায় অংশ গ্রহণ নেয়। বুধবার লক্ষ্মীপূজা শুরু হয়। এরপর শুক্রবার ছোট যমুনা নদীতে লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি হয়।

স্থানীয়রা তাদের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে কুজাইল বাজারে দুই দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলার আয়োজন করে থাকেন। মেলায় বসে হরেক রকমের দোকানপাট। মেলার প্রথম দিন শুক্রবার মূল আর্কষণ নৌবহর। দ্বিতীয় দিন হয় বউ মেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর রাজবাড়ির রাজবাহাদুর শ্রী. অন্নদা প্রসন্ন লাহিড়ীর রাজত্ব পরিচালনার আগে থেকে লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রায় দুই’শ বছর থেকে লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে এ মেলা শুরু হয়। ঐতিহ্যবাহী এ মেলার বিশেষ আর্কষণ লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ছোট যমুনা নদীতে নৌবহর। এদিন দুপুরের পর থেকে রাণীনগর, আত্রাই, মান্দা, নওগাঁ সদরসহ কয়েকটি উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় চড়ে আসতে থাকে। পাশাপাশি মেলা ও নৌবহর উপভোগ করার জন্য নৌকায় ঘুরে বেড়ান অন্যান্য ধর্মের মানুষও। সাউন্ড বক্স, মাইক আর ঢাকের তালে তালে নৌকায় বিনোদনপ্রেমীদের নৃত্যে মুখরিত হয়ে উঠে ছোট যমুনা নদী। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলনমেলায় পরিণত হয় নদীর দু’পার। শুক্রবার প্রায় তিন শতাধিক নৌকা নদীতে নৌবহরে মেতে উঠে। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এরপর নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

কুজাইল হিন্দুপাড়া গ্রামের আশীস কুমার বলেন, পূর্ব পুরুষেরা এ মেলা শুরু করে গিয়েছেন। আমরা শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছি। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলেও আমাদের এখানে লক্ষ্মীপূজার আনন্দটা বেশি হয়।

গৃহবধূ মুক্তা প্রামাণিক বলেন, প্রায় ৭ বছর থেকে নৌকায় চড়ে নৌবহর উপভোগ করেছি। এবার মেলার উপভোগ করবো, তাই নৌকায় চড়িনি। মেলায় এসেছি কিছু খাব এবং কেনা কাটা করবো।

মিষ্টি দোকানদার সুশিল সরকার বলেন, এই মেলা উপলক্ষে একাধিক রকমের মিষ্টি ও জিলাপি বানিয়েছি। লোকজন মেলাতে ভালোই হয়েছে। আশা করছি মেলা ভালো হবে এবং আমাদের বিক্রিও ভালো হবে।

কুজাইল বাজার জাগরণ সংসদ ক্লাব ও মেলা কমিটির সভাপতি শাহিদুর রহমান বলেন, শত শত বছর আগে থেকে লক্ষ্মীপুজা উপলক্ষে এখানে মেলা হয়ে থাকে। এই মেলার মূল আকর্ষন নৌবহর। যা নদীর উভয় পাশে হাজার হাজার নারী পুরুষ উপভোগ করে। এরপর মেলায় জামাইদের বড় বড় মাছ, মিষ্টিসহ হরেক রকমের খাবার কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। এছাড়া পরের দিন বউমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আমরা হিন্দু মুসলিম উভয়ে মিলেমিশে এই আনন্দ উপভোগ করি। আমাদের এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। যা বলা যায় এক প্রকার সেতু বন্ধন।