রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে বিজয়ী হবে কে?
- আপডেট সময় : ১১:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুন ২০২৩ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে বিজয়ী হবে কে?
আলিফ হোসেন, তানোরঃ
রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়ন যুদ্ধে বিজয়ী হবে কে? রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) ভিআইপি এই সংসদীয় আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন যুদ্ধে একাধিক নেতা মাঠে নেমেছেন। এতে নির্বাচন নয় দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন সেটা মুলত সেটা নিয়েই নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের মাঝে আলোচনার ঝড় উঠেছে। দীর্ঘদিন পর সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে এবার মনোনয়ন যুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মূখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনে চার বার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে তিন বার বিজয়ী হয়ে একবার শিল্প প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ওমর ফারুক চৌধুরী। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার বহু ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবে নেতিবাচক আলোচনাও কম নয়। ইতমধ্যে এখানে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গোলাম রাব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আখতারুজ্জামান আখতার ও শিল্পপতি আয়েশা আক্তার ডালিয়াপ্রমুখ। ফলে যেই আসনে এক সময় ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দী নেতৃত্ব ও ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। এখন সেই আসনে তাকেই টেক্কা দিতে মাঠে নেমেছেন তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর তৃণমুলের নেতা গোলাম রাব্বানী ও আখতারুজ্জামান আখতার। ফলে ফারুক চৌধুরীর সুখের ঘরে এখন জ্বলছে তুষের আগুন বলে মনে করছেন এমপিবিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাব্বানী ও আখতার দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেছেন। তাদের তৎপরতায় তানোর ও গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগে স্পষ্টত বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ফারুক চৌধুরীর বিরোধীতা করে এসব নেতার সঙ্গে প্রকাশ্যে মাঠে সরব স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রথম সারির একাধিক নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ। এদিকে পরিস্থিতি উপলব্ধি করে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী। তবে আশাব্যঞ্জক সাঁড়া পাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না। এছাড়াও তানোর ও মুন্ডুমালা মেয়রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটাতে ঐক্যে গড়ে তুলেছেন। তবে সেই ঐক্যের আড়ালে বাজছে অনৈক্যর সুর। তাদের অনুসারী নেতা-কর্মীরা বলছে, কাঁচের পাত্র ভাঙলে জোড়া দেয়া যায়,তবে তার দাগ থেকে যায়। ঠিক তেমনি এমপির সঙ্গে দুই মেয়রের দীর্ঘদিনের বিরোধে তাদের মধ্যে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও ভোলার নয়।যে কারণে ঐক্যের আড়ালে অনৈক্যের সুর বাজছে। এদিকে নিজের টলমল অবস্থায় পাঁয়ের নিচের মাটি শক্ত করতেই এমপি ফারুক চৌধুরীর এমন ঘন ঘন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বলে মনে করছে এমপিবিরোধী শিবিরের নেতা ও কর্মী-সমর্থকেরা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রাব্বানী বলেন, ওমর ফারুক চৌধুরী তিন মেয়াদে সাংসদ একবার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। এক সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দী কেউ ছিলনা। তিনি বলেন, তিনি তৃণমুল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন নি। এজন্য তানোর-গোদাগাড়ী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন আর তাকে চায় না। রাব্বানী অভিযোগ করে বলেন, এমপি ফারুক চৌধুরী তাঁর ক্ষমতার জোরে তানোর-গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করেছেন। তিনি এখানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কমিটির নামে বির্তকিতদের দ্বারা পকেট কমিটি করে রেখেছেন। প্রবীণ, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নিজের অনুগতদের পদ দিয়েছেন।
এবিষয়ে আক্তারুজ্জামান আকতার বলেন, রাজনীতির মাঠে ফারুক চৌধুরীর চরম ইমেজ সংকট দেখা দিয়েছে তিনি অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন তার আগের সেই জনপ্রিয়তা এখন নেই। যে কারণে অধিকাংশ নেতাকর্মী তাঁর বিকল্প নেতৃত্বর দাবি করছেন। এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, রাজশাহী-১ আসনে আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি মহোদয়ের কোনো বিকল্প নাই, এখানে তিনি এখানো জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন। তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের ভালো চাই না তারা এমপি মহোদয়কে নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আবারো এমপি মহোদয়ের মনোনয়ন নিশ্চিত এনিয়ে কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ আছে বলে তিনি মনে করেন না।




















