তানোরে ভূয়া প্রাণী চিকিৎসক জীবন-গৌতমের দৌরাত্ম্য!
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩ ২১৯ বার পড়া হয়েছে

তানোরে ভূয়া প্রাণী চিকিৎসক জীবন-গৌতমের দৌরাত্ম্য!
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
তানোরে ভূয়া প্রাণী চিকিৎসক জীবন-গৌতমের দৌরাত্ম্য! রাজশাহীর তানোরে ভূয়া প্রাণী চিকিৎসকের ছড়াছড়ি। স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাণী চিকিৎসকের কোনো ডিগ্রী নেই। তবুও এরা অভিজ্ঞ প্রাণী চিকিৎসক। তানোর উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার আনাচে-কানাচে অবৈধ চিকিৎসালয় খুলে প্রাণী দিয়ে যাচ্ছে এসব কথিত প্রাণী চিকিৎসক।
অধিকাংশক্ষেত্রে তাদের অনেকেই স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারেনি। কিন্ত্ত নামের আগে বাহারি নামের সব ডিগ্রী বসিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করছেন। উপজেলা জুড়ে কথিত প্রাণী চিকিৎসকেরা প্রাণী চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারী করছে। কিন্ত্ত উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় এক যুগেও এসব কথিত প্রাণী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষ অনেকটা হতাশ। এসব কথিত প্রাণী চিকিৎসকদের প্রতারণা বন্ধে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানান, এসব কথিত প্রাণী চিকিৎসকদের চিকিৎসা কার্যক্রম ও দোকান সরেজমিন পরিদর্শন করা হলেই এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। অল্প পুঁজিতে বা কখানো কখানো বিনা পুঁজিতে অধিক মুনাফা হওয়ায়, উপজেলা জুড়েই বাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে প্রাণী চিকিৎসক।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কামারগাঁ ইউপির মাদারীপুর বাজারের জীবন কুমার ও গৌতম কুমার ওষুধের দোকান খুলে প্রাণী চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রাণীর সব ধরণের রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নাম সর্বস্ব কোম্পানির নিম্নমাণের ওষুধ বিক্রি করে প্রতারণা করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির।
অথচ এদের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের অভিজ্ঞতা। কিন্তু চিকিৎসক পরিচয়ে অনুমার নির্ভর হয়ে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করে আসছে। অধিকাংশক্ষেত্রে এদের খপ্পরে পড়ে গবাদি প্রাণীর মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। জমশেদপুর, রঘুনাথপুর ও মাড়িয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, জীবন ও গৌতম অনুমতি ব্যতিত ওষুধের দোকান খুলে প্রাণী চিকিৎসক হয়েছেন। উচ্চমুল্য বিক্রি করছেন ভুঁইফোড় নিম্নমানের কোম্পানির ওষুধ। কারণ তারাই চিকিৎসক, আবার তারাই ওষুধ বিক্রেতা। ফলে অধিক মুনাফার আশায় উচ্চ মুল্যর অপ্রোজনীয় ওষুধ কিনতে প্রাণী মালিকের বাধ্য করা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, তাদের চিকিৎসায় অনেক গবাদি প্রাণীর মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে অভিযোগ করেও কোনো ফায়দা হয়নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জীবন কুমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি রাজাবাড়ি হাট যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রাণী চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাণী চিকিৎসা দিতে দিতে তার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। তিনি যেকোনো প্রাণীর দেহ নাড়া চাড়া করলেই বলে দিতে পারেন রোগের ধরণ। তার চিকিৎসায় গবাদিপশু সুস্থ হয় সেটাই বড় কথা।
এবিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমন মিয়া বলেন, তিনি এখানো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে। এবিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড জুলফিকার মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, জীবনের কুমারের প্রাণী চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ নাই। তিনি বলেন, এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




















