ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীর ওপর হা’মলা, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট; আটক ১ গোদাগাড়ীতে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ৭ বছরের শিশুর মান্দায় গো’বর ফেলা নিয়ে বিরোধ, লা’ঠির আ/ঘাতে আহত ১ মহাদেবপুরে ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ রাণীশংকৈলে সজিনা চাষ সম্প্রসারণে রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন পঞ্চগড়ে বৃষ্টিতে টমেটোর ক্ষতি, দামে কিছুটা স্বস্তি কৃষকদের পবার টিসিবি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পণ্য পুড়ে ছাই রাজশাহীতে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশু গুরুতর আহত রুহির চিকিৎসায় ইউএনও কার্যালয়ের সহায়তা, এগিয়ে আসার আহ্বান

গাছে গাছে মুকুল উঁকি দিয়েছে আমের রাজধানী রাজশাহীতে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে আমের গাছে মুকুল

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাছে গাছে মুকুল উঁকি দিয়েছে আমের রাজধানী রাজশাহীতে!

এম এম মামুন, রাজশাহী:
গাছে গাছে মুকুল উঁকি দিয়েছে আমের রাজধানী রাজশাহীতে! রাজশাহী আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাগান গুলোর গাছে গাছে উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। রাজশাহীতে সারি সারি আমের গাছে এখন সৌরভ ছড়াচ্ছে মুকুল। আম চাষিরাও পরিচর্যায় নেমেছেন বাগানে বাগানে। এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তীব্র শীত পেরিয়ে আম গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্তত মাস খানেক আগেই মুকুলের দেখা মিলেছে এবার। আম চাষিরা গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন। তবে পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।

রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা উপজেলার বাগানঘুরে আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরে প্রলম্বিত শীতের কারণে ছোট গাছের তুলনায় পুরাতন আম বাগানের বড়-বড় গাছগুলোতে মুকুল কম এসেছিল। এই বছরে সব ধরনের আম গাছে মুকুল আসছে। তবে কীটনাশক, সেচের খরচ আর শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কৃষকদের।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর শীতের প্রভাব আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন মুকুলের ম-ম গন্ধ। যে কারও প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। কোনো গাছ থেকে ক্ষুদ্র আকারে মুকুল বের হচ্ছে, আবার কোনো গাছে পরিপূর্ণ মুকুল এসে গেছে। ফলে বাগান পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই ধারে সারি সারি আম বাগানের গাছে গাছে সোনা রং ধারণ করতে শুরু করেছে পুরিস্ফুটিত মুকুল। জেলার বাঘা-চারঘাট ও পুঠিয়া  উপজেলার কৃষকরা জানান, গত বছর অধিকাংশ বাগানে আমের ভালো ফলন হয়নি। তবে এ বছর বাগানে পরিপূর্ণ মুকুল এসেছে। স্থানীয় আমচাষিদের মতে, এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে বিগত বছরের তুলনায় এবার আমের মুকুল ভালো হবে, এতে ভালো ফলন হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, রাজশাহী জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টিতে যে পরিমাণ আম বাগান রয়েছে। তার সমপরিমাণ বাগান রয়েছে শুধু বাঘা উপজেলায়। এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল আম।
বাগান মালিকরা জানান, প্রতি বছর মাঘের শুরুতে আম গাছের ডালে ডালে মুকুল ফুটতে শুরু করে। এবার একটু আগাম মুকুল এসেছে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যা শুরু করেছেন।

বাঘার আমোদপুর গ্রামের আম চাষি শামসুল হক জানান, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৫-৬ বার কীটনাশক  প্রয়োগ করতে হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮-৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক লাগে। সে হিসাবে বাঘায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির আমগাছে বছরে প্রায় ৭ লাখ টাকার কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার হয়ে থাকে। যার কমতি হবে না এবারও।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়া এলাকার বাগান মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আম বাগানের সারি সারি গাছে গাছে মকুল বেশি এসেছে আর সেই মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের ডালপালা। বাতাসে মিশে আসে মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণ মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে আমের মুকুল। তিনি আরো বলেন, আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ চাষি। চারঘাট উপজেলার ফিরোজ মন্ডল জানান, আম বাগানগুলোতে মুকুল আসায় যেনো মনে হচ্ছে হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভাল মুকুল ধরেছে এবং এখন পুরোদমে পরিচর্যা চলছে।

আমচাষিরা জানান, এ বছর সার, কীটনাশকের দাম বেড়েছে। বাগানের পরিচর্যার জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ করার একটি মেশিনের ভাড়া আগে ছিল ১৫oo-১৭০০ টাকা। কিন্তু এখন ২৩০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচের মূল্য ছিল ১০০-১২০ টাকা। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় প্রতি ঘণ্টায় ১২০-১৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

চাষিরা বলেন, বাগান থাকলেই গাছের পরিচর্যা করতে হবে। গাছের যত্ম না নিলে ভালো ফলনও আশা করা যায় না। এদিকে এবার সার, কীটনাশকের দাম বাড়ছে। পরিচর্যা খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চিন্তা হচ্ছে। খরচ করে যদি আমের ন্যায্য দাম না পাই তাহলে খরচ করায় বৃথা হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাছে গাছে মুকুল উঁকি দিয়েছে আমের রাজধানী রাজশাহীতে!

আপডেট সময় : ০৬:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

গাছে গাছে মুকুল উঁকি দিয়েছে আমের রাজধানী রাজশাহীতে!

এম এম মামুন, রাজশাহী:
গাছে গাছে মুকুল উঁকি দিয়েছে আমের রাজধানী রাজশাহীতে! রাজশাহী আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাগান গুলোর গাছে গাছে উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। রাজশাহীতে সারি সারি আমের গাছে এখন সৌরভ ছড়াচ্ছে মুকুল। আম চাষিরাও পরিচর্যায় নেমেছেন বাগানে বাগানে। এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। তীব্র শীত পেরিয়ে আম গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্তত মাস খানেক আগেই মুকুলের দেখা মিলেছে এবার। আম চাষিরা গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন। তবে পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।

রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা উপজেলার বাগানঘুরে আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরে প্রলম্বিত শীতের কারণে ছোট গাছের তুলনায় পুরাতন আম বাগানের বড়-বড় গাছগুলোতে মুকুল কম এসেছিল। এই বছরে সব ধরনের আম গাছে মুকুল আসছে। তবে কীটনাশক, সেচের খরচ আর শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে কৃষকদের।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর শীতের প্রভাব আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন মুকুলের ম-ম গন্ধ। যে কারও প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। কোনো গাছ থেকে ক্ষুদ্র আকারে মুকুল বের হচ্ছে, আবার কোনো গাছে পরিপূর্ণ মুকুল এসে গেছে। ফলে বাগান পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই ধারে সারি সারি আম বাগানের গাছে গাছে সোনা রং ধারণ করতে শুরু করেছে পুরিস্ফুটিত মুকুল। জেলার বাঘা-চারঘাট ও পুঠিয়া  উপজেলার কৃষকরা জানান, গত বছর অধিকাংশ বাগানে আমের ভালো ফলন হয়নি। তবে এ বছর বাগানে পরিপূর্ণ মুকুল এসেছে। স্থানীয় আমচাষিদের মতে, এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে বিগত বছরের তুলনায় এবার আমের মুকুল ভালো হবে, এতে ভালো ফলন হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, রাজশাহী জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮টিতে যে পরিমাণ আম বাগান রয়েছে। তার সমপরিমাণ বাগান রয়েছে শুধু বাঘা উপজেলায়। এখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল আম।
বাগান মালিকরা জানান, প্রতি বছর মাঘের শুরুতে আম গাছের ডালে ডালে মুকুল ফুটতে শুরু করে। এবার একটু আগাম মুকুল এসেছে। বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যা শুরু করেছেন।

বাঘার আমোদপুর গ্রামের আম চাষি শামসুল হক জানান, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৫-৬ বার কীটনাশক  প্রয়োগ করতে হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮-৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক লাগে। সে হিসাবে বাঘায় ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির আমগাছে বছরে প্রায় ৭ লাখ টাকার কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার হয়ে থাকে। যার কমতি হবে না এবারও।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়া এলাকার বাগান মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আম বাগানের সারি সারি গাছে গাছে মকুল বেশি এসেছে আর সেই মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের ডালপালা। বাতাসে মিশে আসে মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণ মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে আমের মুকুল। তিনি আরো বলেন, আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন এ চাষি। চারঘাট উপজেলার ফিরোজ মন্ডল জানান, আম বাগানগুলোতে মুকুল আসায় যেনো মনে হচ্ছে হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভাল মুকুল ধরেছে এবং এখন পুরোদমে পরিচর্যা চলছে।

আমচাষিরা জানান, এ বছর সার, কীটনাশকের দাম বেড়েছে। বাগানের পরিচর্যার জন্য বালাইনাশক প্রয়োগ করার একটি মেশিনের ভাড়া আগে ছিল ১৫oo-১৭০০ টাকা। কিন্তু এখন ২৩০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সেচের মূল্য ছিল ১০০-১২০ টাকা। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় প্রতি ঘণ্টায় ১২০-১৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

চাষিরা বলেন, বাগান থাকলেই গাছের পরিচর্যা করতে হবে। গাছের যত্ম না নিলে ভালো ফলনও আশা করা যায় না। এদিকে এবার সার, কীটনাশকের দাম বাড়ছে। পরিচর্যা খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চিন্তা হচ্ছে। খরচ করে যদি আমের ন্যায্য দাম না পাই তাহলে খরচ করায় বৃথা হয়ে যাবে।