ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু, ১ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে রাজশাহীতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা নারী দলের ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উন্মোচন লালপুরে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন মান্দায় পেট্রোল সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, তিন চালকের বিরুদ্ধে মামলা গোদাগাড়ীতে কু’কু’রের উপদ্রব: জলাতঙ্ক রোধে জরুরি ভ্যাকসিনের দাবিতে দুই মন্ত্রণালয়ে আবেদন রামেকে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০ রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হাসেন আলী আইসিইউ না পেয়ে শিশুর মৃ/ত্যু, একদিন পরই ফোন-‘এখন আর লাগবে না, গৌরি নেই’ ভাঙা মন্দিরে জ্ঞানের প্রদীপ: এগিয়ে চলেছে চন্দনা রাণীর পাঠশালা রাণীশংকৈলে নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনা: সেফটি ট্যাংকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণের ও পাচার চেষ্টার অপরাধে হাফিজুলের ৬০ বছর কারাদন্ড!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

রায় ঘোষণার পরে জেল হাজতে নেয়া হচ্ছে আসামি হাফিজুলকে

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণের ও পাচার চেষ্টার অপরাধে হাফিজুলের ৬০ বছর কারাদন্ড!

বিশেষ প্রতিনিধি নাটোরঃ
নাটোরের নলডাঙ্গায় স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণ ও ভারতে পাচারের চেষ্টার অপরাধে হাফিজুল ইসলাম নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ৬০ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দু’টি ধারায় ৯ (১) ও ৭ ধারায় পৃথকভাবে দু’বার যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে অভিযুক্ত হাফিজুলকে। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারী) নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দিয়েছেন। দন্ডপ্রাপ্ত হাফিজুল ইসলাম নলডাঙ্গা উপজেলার বাঙ্গালখলসি গ্রামের ইমন আলীর ছেলে।

আদালত সুত্রে জানা যায়, দন্ড্প্রাপ্ত হাফিজুল ইসলাম প্রায় তার প্রতিবেশী মামলার ভিকটিম ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রায় উত্যক্ত করতো। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত্রি আনুমানিক ৮ টার দিকে ১৩ বছর বয়সী ভিকটিম প্রকৃতির কাজ সারতে ঘরের বাহিরে বের হলে হাফিজুল তার মুখ চেপে ধরে দুই সহযোগী সিরাজ ও সিদ্দিকের সহযোগীতায় ভিকটিমকে অপহরণ করে। তারা ওই ভিকটিমকে যশোহরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করে। কিন্তু সীমান্ত রক্ষিদের কড়াকড়ি অবস্থানের কারণে ভিকটিমকে বাসযোগে ঢাকায় নিয়ে আসামীর পরিচিত জনৈক মিলনের বাড়িতে নেয়। সেখানে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর পুনরায় ভিকমকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যশোহরে নেয়া হয়। এসময় যশোহর থানার পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার সহ হাফিজুলকে আটক করে। এঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদি হয়ে নলডাঙ্গা থানায় হাফিজুল, সিরাজ ও সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অপহরণ সহ শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে হাফিজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র আদালতে জমা দেয়। মামলাটি বিচারের জন্য অত্র আদালতে প্রেরিত হলে স্বাক্ষী প্রমান শেষে বিচারক রোববার দুপুরে আসামী হাফিজুলের বিরুদ্ধে উল্লেখিত রায় ঘোষনা করেন।

আদালতের স্পেশাল পিপি আনিসুর রহমান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর দু’টি ধারায় ৯ (১) ধারায় আমসামী হাফিলকে যাবজ্জীবন ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই মামলার ৭ ধারায় আসামী হাফিজুলকে আবারো যাবজ্জীবন সহ ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। জরিমানার টাকা ভিকটিম পাবে এবং হাফিজুলের সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে। সেই হিসেবে তাকে ৬০ বছর কারাভোগ করতে হবে। আসামী হাফিজুলের উপস্থিতিইে রায় ঘোষনা করেন বিজ্ঞ বিচারক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণের ও পাচার চেষ্টার অপরাধে হাফিজুলের ৬০ বছর কারাদন্ড!

আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণের ও পাচার চেষ্টার অপরাধে হাফিজুলের ৬০ বছর কারাদন্ড!

বিশেষ প্রতিনিধি নাটোরঃ
নাটোরের নলডাঙ্গায় স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণ ও ভারতে পাচারের চেষ্টার অপরাধে হাফিজুল ইসলাম নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ৬০ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দু’টি ধারায় ৯ (১) ও ৭ ধারায় পৃথকভাবে দু’বার যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে অভিযুক্ত হাফিজুলকে। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারী) নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দিয়েছেন। দন্ডপ্রাপ্ত হাফিজুল ইসলাম নলডাঙ্গা উপজেলার বাঙ্গালখলসি গ্রামের ইমন আলীর ছেলে।

আদালত সুত্রে জানা যায়, দন্ড্প্রাপ্ত হাফিজুল ইসলাম প্রায় তার প্রতিবেশী মামলার ভিকটিম ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রায় উত্যক্ত করতো। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত্রি আনুমানিক ৮ টার দিকে ১৩ বছর বয়সী ভিকটিম প্রকৃতির কাজ সারতে ঘরের বাহিরে বের হলে হাফিজুল তার মুখ চেপে ধরে দুই সহযোগী সিরাজ ও সিদ্দিকের সহযোগীতায় ভিকটিমকে অপহরণ করে। তারা ওই ভিকটিমকে যশোহরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করে। কিন্তু সীমান্ত রক্ষিদের কড়াকড়ি অবস্থানের কারণে ভিকটিমকে বাসযোগে ঢাকায় নিয়ে আসামীর পরিচিত জনৈক মিলনের বাড়িতে নেয়। সেখানে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর পুনরায় ভিকমকে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যশোহরে নেয়া হয়। এসময় যশোহর থানার পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার সহ হাফিজুলকে আটক করে। এঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদি হয়ে নলডাঙ্গা থানায় হাফিজুল, সিরাজ ও সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অপহরণ সহ শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে হাফিজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র আদালতে জমা দেয়। মামলাটি বিচারের জন্য অত্র আদালতে প্রেরিত হলে স্বাক্ষী প্রমান শেষে বিচারক রোববার দুপুরে আসামী হাফিজুলের বিরুদ্ধে উল্লেখিত রায় ঘোষনা করেন।

আদালতের স্পেশাল পিপি আনিসুর রহমান জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর দু’টি ধারায় ৯ (১) ধারায় আমসামী হাফিলকে যাবজ্জীবন ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই মামলার ৭ ধারায় আসামী হাফিজুলকে আবারো যাবজ্জীবন সহ ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। জরিমানার টাকা ভিকটিম পাবে এবং হাফিজুলের সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে। সেই হিসেবে তাকে ৬০ বছর কারাভোগ করতে হবে। আসামী হাফিজুলের উপস্থিতিইে রায় ঘোষনা করেন বিজ্ঞ বিচারক।