শেরপুরে প্রণোদনার ভাগ না পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে পে’টালেন ছাত্রদল নেতা!
- আপডেট সময় : ০১:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরে প্রণোদনার ভাগ না পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে পে’টালেন ছাত্রদল নেতা!
নকলায় কৃষি কর্মকর্তার অফিসে ঢুকে মারধর, মামলা দায়ের — অভিযুক্ত দুই নেতা পলাতক
সরকারি কৃষি প্রণোদনার ভাগ না পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অফিসে ঢুকে মারধর ও হেনস্তা করেছেন ছাত্রদল নেতা। বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে শেরপুরের নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
মারধর ও হেনস্তার শিকার কর্মকর্তা হলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহারিয়ার মুরসালিন মেহেদী। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাহাত হাসান কাইয়ুম নকলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এবং তার সহযোগী ফজলু একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে। তারা দুজনই নকলা পৌরসভার ধুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে রাহাত ও ফজলু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চান, কৃষি কর্মকর্তা এখনো বদলি হননি কেন, কারা প্রণোদনা পেয়েছেন এবং “নেতাদের ভাগ” কত দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, ছাত্রদলের ভাগ দিতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তা জানিয়ে দেন যে সরকারি প্রণোদনা কেবল প্রকৃত কৃষকদের জন্য এবং রাজনৈতিক ভাগাভাগির কোনো সুযোগ নেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাহাত ও ফজলু অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাহাত আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে কর্মকর্তাকে অফিসের ভেতরেই মারধর করেন।
ঘটনার পর বুধবার রাতেই নকলা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রাহাত হাসান কাইয়ুম ও ফজলুকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অফিসের সিসিটিভি থেকে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসেম সিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাহাত হাসান কাইয়ুমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কাশেম বলেন, “কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”




















