ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে চাঞ্চল্যকর ফকির আলী হত্যার রহস্য ৫ বছর পর উদঘাটন, জামাতা খুন করে শ্বশুরকে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪ ২০০ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেরপুরে চাঞ্চল্যকর ফকির আলী হত্যার রহস্য ৫ বছর পর উদঘাটন, জামাতা খুন করে শ্বশুরকে!

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নং চরের চাঞ্চল্যকর আমের আলী ওরফে ফকির আলী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই।এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ইমতিয়াজ আলী (২৯) কে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জামাতা মাসুদই শ্বাসরোধ করে শ্বশুর ফকির আলীকে খুন করে বলে ১৫ মার্চ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দিতে গ্রেপ্তারকৃত ইমতিয়াজ আলী জানান। একই সাথে এ হত্যাকান্ডের সাথে তার জড়িত থাকার কথাও সে আদালতে স্বীকার করে।

পিবিআই, র‍্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৩ মার্চ রাতে ইমতিয়াজ আলীকে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ইমতিয়াজ আলী শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নং চর গ্রামের আক্কাছ আলীর ছেলে। রোববার বিকেলে পিবিআই জামালপুরের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহুরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পিবিআই জানায়, শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নংচর গ্রামের আমের আলী ওরফে ফকির আলীর মেয়েকে প্রেম করে বিয়ে করে এ ঘটনার প্রধান আসামী একই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ। কিন্তু ফকির আলী এ বিয়ে মেনে নেয়নি। এজন্য মাসুদ তার নিজ আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে ফকির আলীকে মেরে ষড়যন্ত্র করে। এরই অংশ হিসেবে বিগত ২০১৯ সালের ১৭ আগষ্ট জামালপুরের পাতালিয়ায় কাজে যায় ফকির আলী ও আসামীরা।পরবর্তীতে আসামীরা তাদের বাড়ীতে চলে আসলেও ফকির আলী আর বাড়ি ফিরে আসেনি। দুইদিন পর পাশ্ববর্তী ৬ নং চর গ্রামের রিপন খানের ধৈঞ্চা ক্ষেতে তার গলায় গামছা পেচানো অর্ধগলিত মরদেহ মিলে।এরপর শেরপুর সদর থানায় ২৪ আগষ্ট-২০১৯ তারিখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ফকির আলীর স্ত্রী কল্পনা বেগম। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও মামলার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব অর্পন করেন।

পিবিআই দীর্ঘদিন তদন্তশেষে পাচঁ বছর পরে এ মামলার অন্যতম আসামী ইমতিয়াজ আলীকে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার এবং স্বীকারোক্তির মাধ্যমে এ মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহুরুল ইসলাম জানান, আমরা দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যে আসামী ইমতিয়াজ আলীকে গ্রেপ্তার করেছি।সে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। অন্যআসামীরাও খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শেরপুরে চাঞ্চল্যকর ফকির আলী হত্যার রহস্য ৫ বছর পর উদঘাটন, জামাতা খুন করে শ্বশুরকে!

আপডেট সময় : ০২:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪

শেরপুরে চাঞ্চল্যকর ফকির আলী হত্যার রহস্য ৫ বছর পর উদঘাটন, জামাতা খুন করে শ্বশুরকে!

মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধি।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নং চরের চাঞ্চল্যকর আমের আলী ওরফে ফকির আলী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই।এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ইমতিয়াজ আলী (২৯) কে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জামাতা মাসুদই শ্বাসরোধ করে শ্বশুর ফকির আলীকে খুন করে বলে ১৫ মার্চ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দিতে গ্রেপ্তারকৃত ইমতিয়াজ আলী জানান। একই সাথে এ হত্যাকান্ডের সাথে তার জড়িত থাকার কথাও সে আদালতে স্বীকার করে।

পিবিআই, র‍্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৩ মার্চ রাতে ইমতিয়াজ আলীকে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ইমতিয়াজ আলী শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নং চর গ্রামের আক্কাছ আলীর ছেলে। রোববার বিকেলে পিবিআই জামালপুরের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহুরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পিবিআই জানায়, শেরপুর সদর উপজেলার ৭ নংচর গ্রামের আমের আলী ওরফে ফকির আলীর মেয়েকে প্রেম করে বিয়ে করে এ ঘটনার প্রধান আসামী একই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ। কিন্তু ফকির আলী এ বিয়ে মেনে নেয়নি। এজন্য মাসুদ তার নিজ আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে গোপন বৈঠক করে ফকির আলীকে মেরে ষড়যন্ত্র করে। এরই অংশ হিসেবে বিগত ২০১৯ সালের ১৭ আগষ্ট জামালপুরের পাতালিয়ায় কাজে যায় ফকির আলী ও আসামীরা।পরবর্তীতে আসামীরা তাদের বাড়ীতে চলে আসলেও ফকির আলী আর বাড়ি ফিরে আসেনি। দুইদিন পর পাশ্ববর্তী ৬ নং চর গ্রামের রিপন খানের ধৈঞ্চা ক্ষেতে তার গলায় গামছা পেচানো অর্ধগলিত মরদেহ মিলে।এরপর শেরপুর সদর থানায় ২৪ আগষ্ট-২০১৯ তারিখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ফকির আলীর স্ত্রী কল্পনা বেগম। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও মামলার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব অর্পন করেন।

পিবিআই দীর্ঘদিন তদন্তশেষে পাচঁ বছর পরে এ মামলার অন্যতম আসামী ইমতিয়াজ আলীকে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার এবং স্বীকারোক্তির মাধ্যমে এ মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহুরুল ইসলাম জানান, আমরা দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যে আসামী ইমতিয়াজ আলীকে গ্রেপ্তার করেছি।সে আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। অন্যআসামীরাও খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার হবে।