রাণীশংকৈলে পিআইও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

রাণীশংকৈলে পিআইও’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সাংবাদিক-নেতাদের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও আটকদের মুক্তির দাবি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিআইও নুরুন্নবী সরকারের দ্রুত অপসারণ, দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৭ এপ্রিল রাতে সরকারি বিধিবহির্ভূতভাবে অফিস পরিচালনা করছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকি দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে একটি ‘সাজানো’ চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
উক্ত মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ও সংবাদকর্মী জিয়াউর রহমান। এছাড়া উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী এবং সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌসসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি হযরত জাহেদ অভিযোগ করে বলেন, পিআইও নুরুন্নবী সরকার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা ডাকবাংলোতে অবস্থান করে ভাড়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায় তার দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসে প্রকাশ্যে ধূমপান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের হয়রানি করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকা জরুরি ছিল। অথচ একটি মিথ্যা মামলায় তিনি কারাগারে। আমি তার দ্রুত মুক্তি চাই।”
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আক্রোশে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অপসারণ এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হযরত জাহেদ, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি সাদেকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েদ, পীরগঞ্জ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আবুল বাসার, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
















