রাণীনগরে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে!
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অক্টোবর ২০২২ ২০১ বার পড়া হয়েছে

রাণীনগরে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে!
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরে যৌতুকের দাবিতে রিয়ামুনি (২০) নামে এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার পর গাছে ঝুলে রাখার অভিযোগে উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে আম গাছ থেকে রিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রিয়ামুনি ঐ গ্রামের জনৈক নূর মোহাম্মদের ছেলে মিলন হোসেনের স্ত্রী ও একই উপজেলার একডালা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের রুবেল ফকিরের মেয়ে। বুধবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ছাতারদীঘি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। যৌতুকের দাবিতে রিয়াকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে বাবা রুবেল ফকির বাদী হয়ে জামাই মিলনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার আগে রিয়ার শ্বাশুড়ী মনেকা বিবি সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দুই বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তার ছেলে মিলনের সাথে রিয়ার বিয়ে হয়। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে টাকা-পয়সা নিয়ে ছেলে এবং বউয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে। এরপর রাতে ছেলে এবং বউ একসাথে ঘুমিয়ে পরে। রাত অনুমান পৌনে ১২টা নাগাদ বউ নিখোঁজ হয়। এর পর সকালে বাড়ীর উত্তর দিকে অদুরে মাঠের মধ্যে আমগাছে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
রিয়ার দাদা আফজাল হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই কারনে অকারনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। বেশ কয়েকবার নিরসনর করা হয়েছে। হঠাৎ করেই বুধবার সকালে মোবাইল ফোনে জানতে পারেন রিয়া মারা গেছে। রিয়াকে হত্যার পর গলায় রশি দিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রিয়ার ছোট ভাই রিফাত হোসেন বলেন, আমি প্রায় সময় বোন-দুলাভাইয়ের বাড়ীতে এসে থাকতাম। দুলাভাই নিয়মিত গাঁজা-হেরোইন খেতো এবং তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলত। নেষাগ্রস্থ্য অবস্থায় রাতে বাড়ীতে এসে বোনের উপর অত্যাচার করত এবং বেশ কয়েকবার আমার সামনে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল।
রিয়া নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ও এ বিষয়ে থানায় মামলার কথা স্বীকার করে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে স্বামীসহ স্বজনরা পলাতক থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: রকিবুল হাসান ইবনে রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান ওসি।
















