ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ৩১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজশাহীতে সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট ও ভোগান্তি শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা নেসকোর চেয়ারম্যান হলেন গোদাগাড়ীর কৃতী সন্তান মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন মোহনপুরে শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে, প্লাবনের শঙ্কায় বিস্তীর্ণ জনপদ জাসাস নেতা আকবর আলীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে নলডাঙ্গায় মানববন্ধন জাতীয় জরিপে লিগ্যাল এইড সচেতনতায় দেশের সেরা চারে ঠাকুরগাঁও মোহনপুরে কীটনাশক দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ১০ হাজার টাকা জরিমানা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও মান্দার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ঝুলিতে দুই জাতীয় পুরস্কার, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ

রাজশাহীসহ তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৫০৫ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীসহ তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির ইস্যুকে কেন্দ্র করে আজ শনিবারও বন্ধ রয়েছে চাঁপাইনবয়াবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর থেকে ঢাকাগামী বাস। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই টানা বাস বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস না পেয়ে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ- অগ্রীম টিকিট কাটা থাকলেও টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ফোন করলেও পরিবহন কর্মকর্তারা সাড়া দিচ্ছেন না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। যদিও এই রুটে একতা ট্রান্সপোর্টের বাস স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

সম্প্রতি শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে কয়েক দফায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংকট নিরসনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বৈঠকে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনা অনুযায়ী চালকের বেতন ট্রিপপ্রতি ১২৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৭৫০, সুপারভাইজারের ৫০০ থেকে ৭৫০ এবং সহকারীর ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা করার কথা ছিল শুক্রবার থেকে। কিন্তু বাস্তবায়নের আগের রাতেই মালিকরা হঠাৎ করে বাস বন্ধ করে দেন।

মালিকপক্ষ বলছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে তারা দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হলেও তারা আবারও নতুন দাবি তুলেছেন।

শ্রমিকরা যত্রতত্র যাত্রী তোলার সুযোগ ও অতিরিক্ত খোরাকি ভাতার দাবি জানালে মালিকপক্ষ প্রতিবাদস্বরূপ বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। একতা ট্রান্সপোর্ট ও লোকাল বাস ছাড়া অন্যান্য সব দূরপাল্লার পরিবহন এখনো বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বজলুর রহমান রতন বলেন, চলতি মাসেই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা দুই দফা বাস বন্ধ করেছিলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকায় বৈঠক করে সমঝোতার পর বাস চালু হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে শ্রমিকরা অযৌক্তিক দাবি তুলেছে।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- যাত্রাবিরতির খাবারের হোটেল বিল কোম্পানিকে দিতে হবে, ডিউটি ২৪ ঘণ্টা হলে খোরাকি দিতে হবে, এসি কোটের ২০টি টিকিট বিক্রি হলে একটি ও ফুল হলে দুইটি দিতে হবে, অতিরিক্ত যাত্রী উঠালে ইউনিয়নকে জানিয়ে এক হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে এবং রাজশাহীর ট্রিপ হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেতন দিতে হবে।

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকায় প্রতি ট্রিপে একজন চালক ১ হাজার ৭৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৭৫০ ও সহকারী ৭০০ টাকা পাবেন। শুক্রবার থেকে তা বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ বৃহস্পতিবার রাতেই বাস বন্ধ করে দিয়েছে।

চালক-সুপারভাইজার ও সহকারীদের নতুন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, এগুলো আগে থেকেই আছে। বিভিন্ন গাড়ি বিভিন্ন নিয়মে দেয়। সবাইকে এক নিয়মে আনার জন্য এ দাবিগুলো ওঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত ভাড়া ও অনিশ্চয়তার কারণে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীসহ তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট সময় : ০৮:৪৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজশাহীসহ তিন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির ইস্যুকে কেন্দ্র করে আজ শনিবারও বন্ধ রয়েছে চাঁপাইনবয়াবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর থেকে ঢাকাগামী বাস। বৃহস্পতিবার রাত থেকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই টানা বাস বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস না পেয়ে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ- অগ্রীম টিকিট কাটা থাকলেও টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি কোনো বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ফোন করলেও পরিবহন কর্মকর্তারা সাড়া দিচ্ছেন না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। যদিও এই রুটে একতা ট্রান্সপোর্টের বাস স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

সম্প্রতি শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে কয়েক দফায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংকট নিরসনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বৈঠকে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনা অনুযায়ী চালকের বেতন ট্রিপপ্রতি ১২৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৭৫০, সুপারভাইজারের ৫০০ থেকে ৭৫০ এবং সহকারীর ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা করার কথা ছিল শুক্রবার থেকে। কিন্তু বাস্তবায়নের আগের রাতেই মালিকরা হঠাৎ করে বাস বন্ধ করে দেন।

মালিকপক্ষ বলছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে তারা দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হলেও তারা আবারও নতুন দাবি তুলেছেন।

শ্রমিকরা যত্রতত্র যাত্রী তোলার সুযোগ ও অতিরিক্ত খোরাকি ভাতার দাবি জানালে মালিকপক্ষ প্রতিবাদস্বরূপ বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। একতা ট্রান্সপোর্ট ও লোকাল বাস ছাড়া অন্যান্য সব দূরপাল্লার পরিবহন এখনো বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বজলুর রহমান রতন বলেন, চলতি মাসেই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা দুই দফা বাস বন্ধ করেছিলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকায় বৈঠক করে সমঝোতার পর বাস চালু হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে শ্রমিকরা অযৌক্তিক দাবি তুলেছে।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- যাত্রাবিরতির খাবারের হোটেল বিল কোম্পানিকে দিতে হবে, ডিউটি ২৪ ঘণ্টা হলে খোরাকি দিতে হবে, এসি কোটের ২০টি টিকিট বিক্রি হলে একটি ও ফুল হলে দুইটি দিতে হবে, অতিরিক্ত যাত্রী উঠালে ইউনিয়নকে জানিয়ে এক হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবে এবং রাজশাহীর ট্রিপ হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেতন দিতে হবে।

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকায় প্রতি ট্রিপে একজন চালক ১ হাজার ৭৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৭৫০ ও সহকারী ৭০০ টাকা পাবেন। শুক্রবার থেকে তা বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ বৃহস্পতিবার রাতেই বাস বন্ধ করে দিয়েছে।

চালক-সুপারভাইজার ও সহকারীদের নতুন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, এগুলো আগে থেকেই আছে। বিভিন্ন গাড়ি বিভিন্ন নিয়মে দেয়। সবাইকে এক নিয়মে আনার জন্য এ দাবিগুলো ওঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত ভাড়া ও অনিশ্চয়তার কারণে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।