ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১০ সদস্য গ্রেফতার, অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার রাণীশংকৈলে আধুনিক প্রযুক্তিতে আলুর ফলন বাড়াতে ব্র্যাক সীডের কর্মশালা মান্দায় পুকুর খননের সময় মাটির নিচে অজ্ঞাত মূর্তি উদ্ধার রাণীনগরে ২০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার মান্দায় নিম্নমানের উপকরণে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ রাজশাহী অঞ্চলে শিক্ষকতার পাশাপাশি ‘কাজি’ পেশা: ২৯ শিক্ষককে শোকজ রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ৬ বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ২২ হাজারের বেশি বাগাতিপাড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন বাগাতিপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল বৃদ্ধের রাজশাহীতে ৪৩৮ কেন্দ্রে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু

রাজশাহীতেই থাকবে নেসকোর প্রধান কার্যালয়: ভূমিমন্ত্রী মিনু

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতেই থাকবে নেসকোর প্রধান কার্যালয়: ভূমিমন্ত্রী মিনু

বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ; সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি গঠন বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের

নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিষয়টি জানাজানি হলে রাজশাহীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং নেসকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন প্রশাসনিক শহর। ব্রিটিশ আমল থেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের সদর দপ্তর এখানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজশাহী ব্রিটিশ আমলের বিভাগীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র। তখন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মালদা, পশ্চিম দিনাজপুর ও জলপাইগুড়িও এর প্রশাসনিক আওতায় ছিল। রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি এ বিষয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে।”

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে নিজ জেলা বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নেসকোর কার্যক্রম উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহীতে থাকায় রংপুর বিভাগের অনেক কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী অবস্থান হওয়ায় বগুড়ায় সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং গ্রাহক সেবার মান বাড়বে।

এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ সানাউল হককে। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধিকেও সদস্য রাখা হয়েছে।

এদিকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া হলে তা শহরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি বলেন, “নেসকোর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহীতে আমরা সোচ্চার থাকি। প্রতিষ্ঠানটি অন্য জেলায় চলে গেলে এসব বিষয়ে কথা বলার মানুষ কমে যাবে।”

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে লোকমুখে আলোচনা শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি এখনো তারা পাননি।

তিনি বলেন, “সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই আমাদের চলতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের আলাদা কিছু বলার সুযোগ নেই।”

বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব ফারজানা খানম বলেন, একটি ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে, এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা নিয়ে ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর নেসকোর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণ করছে এবং গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। রাজশাহী মহানগরের তিনটি ভবন থেকে সংস্থাটির প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতেই থাকবে নেসকোর প্রধান কার্যালয়: ভূমিমন্ত্রী মিনু

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীতেই থাকবে নেসকোর প্রধান কার্যালয়: ভূমিমন্ত্রী মিনু

বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ; সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি গঠন বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের

নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিষয়টি জানাজানি হলে রাজশাহীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং নেসকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন প্রশাসনিক শহর। ব্রিটিশ আমল থেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের সদর দপ্তর এখানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজশাহী ব্রিটিশ আমলের বিভাগীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র। তখন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মালদা, পশ্চিম দিনাজপুর ও জলপাইগুড়িও এর প্রশাসনিক আওতায় ছিল। রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি এ বিষয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে।”

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে নিজ জেলা বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নেসকোর কার্যক্রম উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহীতে থাকায় রংপুর বিভাগের অনেক কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী অবস্থান হওয়ায় বগুড়ায় সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং গ্রাহক সেবার মান বাড়বে।

এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ সানাউল হককে। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধিকেও সদস্য রাখা হয়েছে।

এদিকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া হলে তা শহরের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি বলেন, “নেসকোর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহীতে আমরা সোচ্চার থাকি। প্রতিষ্ঠানটি অন্য জেলায় চলে গেলে এসব বিষয়ে কথা বলার মানুষ কমে যাবে।”

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে লোকমুখে আলোচনা শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি এখনো তারা পাননি।

তিনি বলেন, “সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই আমাদের চলতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমাদের আলাদা কিছু বলার সুযোগ নেই।”

বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব ফারজানা খানম বলেন, একটি ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে, এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা নিয়ে ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর নেসকোর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণ করছে এবং গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। রাজশাহী মহানগরের তিনটি ভবন থেকে সংস্থাটির প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।