বাগাতিপাড়ায় পরিত্যক্ত ইউনিয়ন সীড স্টোর ভবন, অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ
- আপডেট সময় : ০২:৫০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

বাগাতিপাড়ায় পরিত্যক্ত ইউনিয়ন সীড স্টোর ভবন, অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বীজ সংরক্ষণাগার বা সীড স্টোর ভবনগুলো।যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
অথচ কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দিতে বহু বছর আগে বাগাতিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয়েছিল বীজ সংরক্ষণাগার বা সীড স্টোর ভবন। এসব ভবনে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা ছিল। পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও রাখা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনগুলো এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনগুলো সংস্কার করে কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা গেলে সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি সেবাও আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নে বীজ সংরক্ষণাগার বা সীড স্টোর ভবন রয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া কৃষকদের দ্রুত ও কার্যকর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও এসব স্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর অধিকাংশ ভবন ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় সেগুলো অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়নের সীড স্টোর ভবনগুলোর দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের চারপাশে গজিয়ে উঠেছে ঘন ঝোপঝাড়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কিছু ভবন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া কয়েকটি ভবনের কক্ষ স্থানীয়দের দখলে চলে গেছে। কোথাও চায়ের দোকান, আবার কোথাও নিয়মিত ক্যারাম খেলার আড্ডা বসছে। ফলে কৃষি সেবার উদ্দেশ্যে নির্মিত এসব সরকারি স্থাপনা বর্তমানে তাদের মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের বীজ সংরক্ষণাগারগুলো সচল থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হতো এবং কৃষকরা সহজেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেতেন। কিন্তু ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় বিভিন্ন সেবা নিতে কৃষকদের উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।
উপজেলা পৌরসভার দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মো. মাহাতাব উদ্দিন জানান, তিনি পাশের জেলা থেকে প্রতিদিন বাগাতিপাড়ায় এসে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হয়, যা বেশ কষ্টসাধ্য। সীড স্টোর ভবনগুলো ভালো অবস্থায় থাকলে সেখানে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করা অনেক সহজ হতো। তিনি আরও বলেন, উপজেলার সব সীড স্টোরের অবস্থাই বর্তমানে নাজুক।
বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ভবসিন্ধু রায় এ বিষয়ে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের বীজ সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পুরোনো ভবনের স্থলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে সেখানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসন, কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হবে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা আরও সহজে কৃষি সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাবেন এবং কৃষি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ব্যবহার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে কৃষি অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















