লালপুরে পদ্মা নদীতে নৌকায় আবারও মিলল গু/লি/বি/দ্ধ মরদেহ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে

লালপুরে পদ্মা নদীতে নৌকায় আবারও মিলল গু/লি/বি/দ্ধ মরদেহ
নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা থেকে সাহাবুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে লালপুর থানা পুলিশ ও ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। প্রাথমিকভাবে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহত সাহাবুল ইসলাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া গোপালপুর গ্রামের মো. ইউনুছ প্রামানিকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে লালপুর উপজেলার রাইটার চর এলাকায় পদ্মা নদীর কিনারায় একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকার ওপর সাহাবুল ইসলামের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে লালপুর থানা পুলিশ ও লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে মুয়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের সঙ্গে থাকা বলে দাবি করা রবিউল ইসলাম (৩৭) নামে অপর এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে জানান, সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২ টা থেকে আড়াইটার মধ্যে যেকোনো সময়ে চর এলাকার দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে আসা ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী ব্যক্তি নদীর কিনারার কাছাকাছি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে নৌকায় থাকা সাহাবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে তিনি পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে দূরে সরে যান। পরে তার শরীর ও দুই হাতে সামান্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
উদ্ধারের পর সাহাবুল ইসলামের শরীরে ডান কাঁধের পেছনের দিকে গুরুতর ক্ষতচিহ্ন, সামনের বাহুর বড় অংশে মাংস ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আলামত এবং থুতনির নিচে কেটে যাওয়ার মতো রক্তাক্ত চিহ্ন দেখা যায়। তবে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েই মারা গেছেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিহতের সঙ্গে থাকা ব্যক্তির প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের গুলিতে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাহাবুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম গত দুই দিন ধরে নিজেদের ব্যবহৃত শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পদ্মা নদীতে অবস্থান করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তারা প্রকৃতপক্ষে মাছ ধরছিলেন কি না কিংবা ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনার তথ্য এখন পর্যন্ত মূলত আহত রবিউল ইসলামের বক্তব্যের ভিত্তিতে পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার রহস্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।



















