ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায় জামনগর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা পঞ্চগড়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন সীমান্তে উঁচু ফসল চাষে নিরুৎসাহিত করতে রাণীশংকৈলে ৮০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ধান বীজ-সার বিতরণ আটঘরিয়ায় ছাদের পানি পড়া বন্ধ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, উদ্ধারে গিয়ে আহত ব্যবসায়ী বাগাতিপাড়ায় আমগাছে যেন বাবুই পাখির বাসা, জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি বাগাতিপাড়ায় নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় অ্যাডভোকেসি সভা গুরুদাসপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধ র্ষ ণে র দায়ে বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কা’রাদ’ণ্ড পুঠিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, আহত-২ বাগাতিপাড়ায় ৫০ পুড়িয়া হেরোইনসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বাগাতিপাড়ায় আমগাছে যেন বাবুই পাখির বাসা, জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় আমগাছে যেন বাবুই পাখির বাসা, জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি

দূর থেকে দেখলে মনে হবে আমগাছে ঝুলছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা। তবে এগুলো কোনো পাখির বাসা নয়, বরং আমকে পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত বিশেষ ফ্রুট ব্যাগ। নিরাপদ ও দাগমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় কয়েক বছর ধরে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাগানে গাছে গাছে ঝুলতে থাকা এসব ব্যাগ সৃষ্টি করেছে এক দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। একই সঙ্গে কৃষকরা পাচ্ছেন ভালো দাম, আর ভোক্তারা পাচ্ছেন নিরাপদ ও মানসম্মত আম।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানিযোগ্য আমের বাজার সম্প্রসারণে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে দিন দিন বাগাতিপাড়ার আমচাষিদের মধ্যে এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এর মাধ্যমে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তারাও পাচ্ছেন নিরাপদ ও দাগমুক্ত ফল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন আমবাগানে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে জামনগর ইউনিয়নে প্রায় ৪ হেক্টর জমির আমবাগানে সবচেয়ে বেশি ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। দূর থেকে তাকালে গাছজুড়ে ঝুলে থাকা ব্যাগগুলো অনেকটা বাবুই পাখির অসংখ্য বাসার মতো মনে হয়। এসব বিশেষ ব্যাগ আমকে ফলমাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং দাগমুক্ত ও উন্নতমানের ফল উৎপাদনে সহায়তা করে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে উপজেলায় নিরাপদ ও দাগমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি চালু করা হয়। বর্তমানে উপজেলার ৭ হেক্টর জমিতে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে আম চাষ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার আম বিক্রি হচ্ছে। পুরো মৌসুমে আম বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পৌরসভার আরজিমাড়িয়া ঘোরলাজ মহল্লার আমচাষি মুনতাজ আলী জানান, তাঁর প্রায় ৫০ বিঘা জমির বাগানে ফজলি, লখনা, আম্রপালি, হিমসাগর (খিরসাপাত), ল্যাংড়া ও আশ্বিনা জাতের আম রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ২০ হাজার আমে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয় এবং ফলের গায়ে কোনো দাগ পড়ে না। বিশেষ করে ফজলি ও আশ্বিনা জাতের আমে বেশি ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। এসব আম বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। এ বছর তিনি শুধু ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বিক্রি করেই ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন।

জামনগর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া এলাকার আমচাষি গুলজার মেম্বার বলেন, তিনি ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে ফজলি, হিমসাগর (খিরসাপাত) ও আশ্বিনা জাতের প্রায় লক্ষাধিক আমে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। এ প্রযুক্তির ফলে ফলমাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। কীটনাশকের ব্যবহারও কম প্রয়োজন হয়। ফলে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।

পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর এলাকার আমের আড়তদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, বর্তমানে ফ্রুট ব্যাগিং করা আম অল্প পরিমাণে বাজারে আসছে। সাধারণত ফজলি ও আশ্বিনা জাতের মতো দেরিতে পাকা আমেই এ প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি দেখা যায়। মৌসুমের শেষ দিকে এসব আম বাজারে আসে এবং তখন দামও তুলনামূলক বেশি থাকে। এছাড়া ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের দাম সাধারণ আমের চেয়ে সব সময়ই বেশি পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ভবসিন্ধু রায় বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমিয়ে নিরাপদ, দাগমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য মানের আম উৎপাদন করা সম্ভব। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষক এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় আমগাছে যেন বাবুই পাখির বাসা, জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় আমগাছে যেন বাবুই পাখির বাসা, জনপ্রিয় হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি

দূর থেকে দেখলে মনে হবে আমগাছে ঝুলছে অসংখ্য বাবুই পাখির বাসা। তবে এগুলো কোনো পাখির বাসা নয়, বরং আমকে পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত বিশেষ ফ্রুট ব্যাগ। নিরাপদ ও দাগমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় কয়েক বছর ধরে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বাগানে গাছে গাছে ঝুলতে থাকা এসব ব্যাগ সৃষ্টি করেছে এক দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। একই সঙ্গে কৃষকরা পাচ্ছেন ভালো দাম, আর ভোক্তারা পাচ্ছেন নিরাপদ ও মানসম্মত আম।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং রপ্তানিযোগ্য আমের বাজার সম্প্রসারণে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে দিন দিন বাগাতিপাড়ার আমচাষিদের মধ্যে এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এর মাধ্যমে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তারাও পাচ্ছেন নিরাপদ ও দাগমুক্ত ফল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন আমবাগানে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে জামনগর ইউনিয়নে প্রায় ৪ হেক্টর জমির আমবাগানে সবচেয়ে বেশি ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। দূর থেকে তাকালে গাছজুড়ে ঝুলে থাকা ব্যাগগুলো অনেকটা বাবুই পাখির অসংখ্য বাসার মতো মনে হয়। এসব বিশেষ ব্যাগ আমকে ফলমাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং দাগমুক্ত ও উন্নতমানের ফল উৎপাদনে সহায়তা করে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে উপজেলায় নিরাপদ ও দাগমুক্ত আম উৎপাদনের লক্ষ্যে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি চালু করা হয়। বর্তমানে উপজেলার ৭ হেক্টর জমিতে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে আম চাষ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার আম বিক্রি হচ্ছে। পুরো মৌসুমে আম বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পৌরসভার আরজিমাড়িয়া ঘোরলাজ মহল্লার আমচাষি মুনতাজ আলী জানান, তাঁর প্রায় ৫০ বিঘা জমির বাগানে ফজলি, লখনা, আম্রপালি, হিমসাগর (খিরসাপাত), ল্যাংড়া ও আশ্বিনা জাতের আম রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ২০ হাজার আমে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয় এবং ফলের গায়ে কোনো দাগ পড়ে না। বিশেষ করে ফজলি ও আশ্বিনা জাতের আমে বেশি ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। এসব আম বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। এ বছর তিনি শুধু ফ্রুট ব্যাগিং করা আম বিক্রি করেই ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন।

জামনগর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া এলাকার আমচাষি গুলজার মেম্বার বলেন, তিনি ১০ থেকে ১২ বিঘা জমিতে ফজলি, হিমসাগর (খিরসাপাত) ও আশ্বিনা জাতের প্রায় লক্ষাধিক আমে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। এ প্রযুক্তির ফলে ফলমাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। কীটনাশকের ব্যবহারও কম প্রয়োজন হয়। ফলে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।

পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর এলাকার আমের আড়তদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, বর্তমানে ফ্রুট ব্যাগিং করা আম অল্প পরিমাণে বাজারে আসছে। সাধারণত ফজলি ও আশ্বিনা জাতের মতো দেরিতে পাকা আমেই এ প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি দেখা যায়। মৌসুমের শেষ দিকে এসব আম বাজারে আসে এবং তখন দামও তুলনামূলক বেশি থাকে। এছাড়া ফ্রুট ব্যাগিং করা আমের দাম সাধারণ আমের চেয়ে সব সময়ই বেশি পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ভবসিন্ধু রায় বলেন, ফ্রুট ব্যাগিং একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমিয়ে নিরাপদ, দাগমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য মানের আম উৎপাদন করা সম্ভব। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষক এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।