ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জে ১ মাস পূর্বের লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের তুমুল সংঘ’র্ষ, আহত ২০ রাজশাহীতে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত বাগাতিপাড়ায় ট্রেনের ধা/ক্কা/য় মা’নসিক ভা’রসাম্যহীন ব্যক্তির মৃ-ত্যু বাগাতিপাড়ায় ঈদ পুনর্মিলনী করেছে এসএসসি ২০০৩-০৪ ব্যাচ লালপুরে ডোবায় পড়ে দিনমজুরের মৃত্যু লালপুরে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু বাগাতিপাড়ায় ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিলেন একই পরিবারের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আক্কেলপুরে জমিজমা বিরোধে যুবককে ছু/রি/কা/ঘা/তে হ’ত্যা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে গোমস্তাপুরে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে শিশুর মাথায় পাতিল আটকে বিপত্তি, ওয়ার্কশপে নিয়ে কেটে খুলতে হলো সিলভারের পাতিল

বাংলাদেশে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় বড় বাধা

ঢাকা অফিসঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় বড় বাধা

স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক বাধ্যতামূলক নিবন্ধন চালুর আহ্বান; বিএমএ ভবনে সাংবাদিক কর্মশালা

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে বাধাগ্রস্ত করছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যমান আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে আয়োজিত “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এ কর্মশালার আয়োজন করে। ৩ ও ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ৩২ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন হাজারো মানুষ জন্ম ও মৃত্যুবরণ করলেও প্রায় অর্ধেকই রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের আইনি পরিচয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের মৌলিক ভিত্তি। নিবন্ধনবিহীন নাগরিকরা বাস্তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে পড়েন, যা শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়নও ব্যাহত হয়।

বর্তমান আইনে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রধানত পরিবারের ওপর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর তা বাধ্যতামূলক নয়। অথচ দেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় বহু জন্ম নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অর্জনে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”

জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদান করলে জাতিসংঘের আঞ্চলিক সংস্থা ইউএনএসকাপ-এর শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি ১৬.৯—সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র—অর্জন সম্ভব হবে।”

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কারকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।”

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় বড় বাধা

আপডেট সময় : ১০:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় বড় বাধা

স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক বাধ্যতামূলক নিবন্ধন চালুর আহ্বান; বিএমএ ভবনে সাংবাদিক কর্মশালা

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে বাধাগ্রস্ত করছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যমান আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে আয়োজিত “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব মতামত তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এ কর্মশালার আয়োজন করে। ৩ ও ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ৩২ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন হাজারো মানুষ জন্ম ও মৃত্যুবরণ করলেও প্রায় অর্ধেকই রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের আইনি পরিচয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের মৌলিক ভিত্তি। নিবন্ধনবিহীন নাগরিকরা বাস্তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে পড়েন, যা শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়নও ব্যাহত হয়।

বর্তমান আইনে নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রধানত পরিবারের ওপর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর তা বাধ্যতামূলক নয়। অথচ দেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় বহু জন্ম নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অর্জনে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”

জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদান করলে জাতিসংঘের আঞ্চলিক সংস্থা ইউএনএসকাপ-এর শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি ১৬.৯—সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র—অর্জন সম্ভব হবে।”

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কারকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।”

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।