ফুয়েল কার্ডের আশায় ৪ দিন ধরে বাইসাইকেলে সেচযন্ত্র নিয়ে ঘুরছেন কৃষক
- আপডেট সময় : ১০:১৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

ফুয়েল কার্ডের আশায় ৪ দিন ধরে বাইসাইকেলে সেচযন্ত্র নিয়ে ঘুরছেন কৃষক
প্রশাসনিক জটিলতায় ভোগান্তি, তেলের অভাবে সেচ বন্ধ হয়ে ক্ষতির শঙ্কা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় তেলের সংকট মোকাবিলায় ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ কৃষকদের জন্য নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার্ড সংগ্রহে জটিল প্রক্রিয়ার কারণে উপজেলার সাধারণ কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠেছে। এরই মধ্যে মতলেব হোসেন (৫০) নামে এক কৃষক চার দিন ধরে বাইসাইকেলে পেট্রোলচালিত সেচযন্ত্র বহন করে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কৃষি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি ফুয়েল কার্ড।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, দীর্ঘ চার দিন দৌড়ঝাঁপ করেও এখনো কার্ড পাননি। হতাশ হয়ে তাকে আবারও খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।
নেকমরদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মতলেব হোসেন কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি তিনি একটি পেট্রোলচালিত সেচযন্ত্র কিনেছেন। কিন্তু তেলের অভাবে সেটি ব্যবহার করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে দুই দিন আগে ২০০ টাকা দিয়ে এক লিটার পেট্রোল কিনে জমিতে সেচ দিতে হয়েছে, যা তার পক্ষে নিয়মিত বহন করা অসম্ভব।
তিনি বলেন, “ফুয়েল কার্ড না পেলে এ মৌসুমে ফসল ঘরে তুলতে পারব না। জমিতে পানি দিতে না পেরে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমির অবস্থা দেখে চোখে পানি চলে আসে।”
ফুয়েল কার্ড পেতে দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, মেশিনের প্রমাণ হিসেবে সেটি অফিসে নিয়ে আসা, বিক্রেতাকে হাজির করা এবং কৃষি অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহসহ নানা জটিলতার কারণে বারবার আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।
একই ভোগান্তির কথা জানান রাতোর ইউনিয়নের কৃষক আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, “এখানে আসতে তিন-চারটি যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে ১০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আবার ফিরতেও একই খরচ হবে।”
নেকমরদ ইউনিয়নের পারকুন্ডা গ্রামের কৃষক যতীন রায় জানান, “২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে অটোযোগে মেশিন নিয়ে এসেছি। পানি দিতে না পারলে ধানের জমি নষ্ট হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে জমি ফেটে গেছে।”
সারাদিনে দেখা যায়, আরও অনেক কৃষক সেচযন্ত্র নিয়ে কৃষি অফিসে ফুয়েল কার্ডের জন্য ভিড় করছেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া নিয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “অনেক আবেদনকারী সঠিক কাগজপত্র দিতে পারছেন না। কারও ইঞ্জিন বা চেসিস নম্বর নেই, কেউ আবার দোকানের মেমো নিয়ে আসছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনায় বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ডিজেলের কোনো সংকট নেই। আগামী বুধবার পেট্রোলচালিত সেচযন্ত্রের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

















