পহেলা বৈশাখে রাবির শোভাযাত্রায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রতিফলন
- আপডেট সময় : ১০:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে

পহেলা বৈশাখে রাবির শোভাযাত্রায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রতিফলন
ঐতিহ্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বিশ্ব বাস্তবতা তুলে ধরছে চারুকলার শিক্ষার্থীরা
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশে সাজছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বর্ণিল শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে। এবারের শোভাযাত্রায় বাঙালির ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিফলন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ, লোহা ও রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন নানা আকর্ষণীয় মোটিফ। শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির প্রতিকৃতি। এছাড়া জাতীয় মাছ ইলিশ, টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশও যুক্ত করা হচ্ছে।
চারুকলা অনুষদের সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ যেভাবে পুরোনো বাহনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে, সেটিকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন মোটিফে। পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও থাকছে আলাদা উপস্থাপনা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য না থাকায় এবং কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে এবারের আয়োজন ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই অনুষ্ঠিত হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার আগেই সকল কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চারুকলার শিক্ষার্থী নাসির হোসেন বলেন, “গত বছর রমজান মাসের কারণে বড় পরিসরে আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এবার আমরা নতুন উদ্যমে কাজ করছি এবং চেষ্টা করছি ভিন্ন কিছু উপস্থাপন করতে।”
চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করতে আমরা এমন কিছু মোটিফ তৈরি করছি, যা মানুষকে ভাবাবে। জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষ আবার পুরোনো বাহনের দিকে ঝুঁকছে—এ বিষয়টি আমরা প্রতীকীভাবে তুলে ধরছি।”
অন্যদিকে অর্থায়নের বিষয়ে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শ্রম ও অর্থায়নেই এবারের আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর নেওয়া হয়নি।




















