ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৬০ বছরের ঐতিহ্য, তবু জাতীয়করণের বাইরে লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় তানোরে সরকারি খাস জমি দখল করে পাকা দোকান নির্মাণের অভিযোগ, গাছ কাটায় ক্ষোভ প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাগাতিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা গোদাগাড়ীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় বন্ধ কাজ নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জিআই স্বীকৃত মোহনপুরের পানের ঐতিহ্যের প্রতীক বহনকারী সীমানা পিলারের উদ্বোধন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন বাগাতিপাড়ায় এসএসএসের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ফলজ গাছের চারা বিতরণ দুই দফা দাবিতে নাটোর সুগার মিলে শ্রমিক-কর্মচারীদের গেট মিটিং; সিংড়ায় মহিষবোঝাই ভুটভুটি উল্টে দুই গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

এম এম মামুনঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

Rajshahi-Pesticide Humanchain

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা রক্ষায় প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক (Highly Hazardous Pesticides-HHPs) পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রীন কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক-কৃষাণী, পরিবেশকর্মী, যুব প্রতিনিধি, গবেষক, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গ্রীন কোয়ালিশন পবা উপজেলা শাখার সভাপতি রহিমা বেগমের সভাপতিত্বে এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক শুধু ক্ষতিকর পোকামাকড় নয়, মানুষ, মৌমাছি, মাছ, পাখি, মাটি, পানি ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) যেসব কীটনাশককে Highly Hazardous Pesticides (HHPs) হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো ক্যান্সার, হরমোনজনিত জটিলতা, প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।

বক্তারা জানান, PAN Asia Pacific-এর ২০২৫ সালের এক গবেষণায় বাংলাদেশসহ চারটি এশীয় দেশে ব্যবহৃত ৯৬ ধরনের কীটনাশকের মধ্যে ৫৩টিকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কীটনাশকের প্রভাবে খাদ্যে বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ, পানিদূষণ, মাটির উর্বরতা হ্রাস, পরাগায়নকারী প্রাণীর মৃত্যু এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি।

মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প কৃষি পদ্ধতি সম্প্রসারণে সফল হয়েছে। Rotterdam Convention ও Stockholm Convention-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নওহাটা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সামা বলেন, আগে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও এখন কৃষিজমির বিষাক্ত পানি জলাশয়ে গিয়ে মাছের পোনা নষ্ট করছে। ফলে মৎস্যজীবীদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশকের কারণে বুনো শাক, ভেষজ উদ্ভিদ, দেশীয় মাছ, শামুক, কাঁকড়াসহ নানা প্রাকৃতিক খাদ্য দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। এতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খাদ্য বৈচিত্র্য, পুষ্টি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে এখনই ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

বারসিকের গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী শহিদুল ইসলাম বলেন, WHO ও FAO স্বীকৃত অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের সঙ্গে ক্যান্সার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, হরমোনজনিত সমস্যা এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এসব কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন এবং পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ করা মানেই কৃষিকে দুর্বল করা নয়; বরং এগ্রোইকোলজি, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM), জৈব বালাই নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষিকে আরও টেকসই, লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব।

গ্রীন কোয়ালিশন পবা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আগ্রহী হলেও বিকল্প প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজার সহায়তার অভাবে অনেক সময় রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন আরও সহজ হবে।

এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের পরিচালনাকারী কৃষাণি সুলতানা খাতুন বলেন, এগ্রোইকোলজি শুধু কৃষি পদ্ধতি নয়, এটি প্রকৃতি, কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে ন্যায্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি দর্শন। স্থানীয় বীজ, জৈব সার ও জৈব বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ উৎপাদন সম্ভব, যা মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে গ্রীন কোয়ালিশন পবা উপজেলা শাখার সভাপতি রহিমা বেগম ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে ব্যবহৃত সব কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন, WHO-FAO মানদণ্ড অনুযায়ী অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ, খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার জাতীয় কর্মসূচি জোরদার, কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এগ্রোইকোলজি বিস্তার, কৃষকদের নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তিতে ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণ, মৌমাছি ও পরাগায়নকারী প্রাণী সংরক্ষণ, জাতীয় বিষক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং একটি জাতীয় এগ্রোইকোলজি রূপান্তর কর্মসূচি গ্রহণ।

বক্তারা বলেন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবি কোনো একক সংগঠনের নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য, কৃষকের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। বৈজ্ঞানিক, অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক কৃষি রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, উৎপাদনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০২:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা রক্ষায় প্যারাকুয়েটসহ অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক (Highly Hazardous Pesticides-HHPs) পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রীন কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে কৃষক-কৃষাণী, পরিবেশকর্মী, যুব প্রতিনিধি, গবেষক, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গ্রীন কোয়ালিশন পবা উপজেলা শাখার সভাপতি রহিমা বেগমের সভাপতিত্বে এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক কীটনাশক শুধু ক্ষতিকর পোকামাকড় নয়, মানুষ, মৌমাছি, মাছ, পাখি, মাটি, পানি ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) যেসব কীটনাশককে Highly Hazardous Pesticides (HHPs) হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো ক্যান্সার, হরমোনজনিত জটিলতা, প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।

বক্তারা জানান, PAN Asia Pacific-এর ২০২৫ সালের এক গবেষণায় বাংলাদেশসহ চারটি এশীয় দেশে ব্যবহৃত ৯৬ ধরনের কীটনাশকের মধ্যে ৫৩টিকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কীটনাশকের প্রভাবে খাদ্যে বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ, পানিদূষণ, মাটির উর্বরতা হ্রাস, পরাগায়নকারী প্রাণীর মৃত্যু এবং জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি।

মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প কৃষি পদ্ধতি সম্প্রসারণে সফল হয়েছে। Rotterdam Convention ও Stockholm Convention-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নওহাটা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সামা বলেন, আগে খাল-বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও এখন কৃষিজমির বিষাক্ত পানি জলাশয়ে গিয়ে মাছের পোনা নষ্ট করছে। ফলে মৎস্যজীবীদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি উপেন রবিদাস বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশকের কারণে বুনো শাক, ভেষজ উদ্ভিদ, দেশীয় মাছ, শামুক, কাঁকড়াসহ নানা প্রাকৃতিক খাদ্য দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। এতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খাদ্য বৈচিত্র্য, পুষ্টি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে এখনই ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

বারসিকের গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী শহিদুল ইসলাম বলেন, WHO ও FAO স্বীকৃত অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের সঙ্গে ক্যান্সার, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, হরমোনজনিত সমস্যা এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এসব কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন এবং পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ করা মানেই কৃষিকে দুর্বল করা নয়; বরং এগ্রোইকোলজি, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM), জৈব বালাই নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষিকে আরও টেকসই, লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব।

গ্রীন কোয়ালিশন পবা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আগ্রহী হলেও বিকল্প প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজার সহায়তার অভাবে অনেক সময় রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিলে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন আরও সহজ হবে।

এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের পরিচালনাকারী কৃষাণি সুলতানা খাতুন বলেন, এগ্রোইকোলজি শুধু কৃষি পদ্ধতি নয়, এটি প্রকৃতি, কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে ন্যায্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি দর্শন। স্থানীয় বীজ, জৈব সার ও জৈব বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ উৎপাদন সম্ভব, যা মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে।

মানববন্ধন থেকে গ্রীন কোয়ালিশন পবা উপজেলা শাখার সভাপতি রহিমা বেগম ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে ব্যবহৃত সব কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন, WHO-FAO মানদণ্ড অনুযায়ী অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ, খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার জাতীয় কর্মসূচি জোরদার, কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এগ্রোইকোলজি বিস্তার, কৃষকদের নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তিতে ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণ, মৌমাছি ও পরাগায়নকারী প্রাণী সংরক্ষণ, জাতীয় বিষক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং একটি জাতীয় এগ্রোইকোলজি রূপান্তর কর্মসূচি গ্রহণ।

বক্তারা বলেন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবি কোনো একক সংগঠনের নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য, কৃষকের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। বৈজ্ঞানিক, অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক কৃষি রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, উৎপাদনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।