জিআই স্বীকৃত মোহনপুরের পানের ঐতিহ্যের প্রতীক বহনকারী সীমানা পিলারের উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ০৪:০০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

জিআই স্বীকৃত মোহনপুরের পানের ঐতিহ্যের প্রতীক বহনকারী সীমানা পিলারের উদ্বোধন
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া রাজশাহীর মোহনপুরের ঐতিহ্যবাহী পানের পরিচয় এবার দৃশ্যমান রূপ পেল। উপজেলার প্রবেশমুখে নির্মিত হয়েছে পানের প্রতীক সংবলিত নান্দনিক সীমানা পিলার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই স্থাপনা শুধু প্রশাসনিক সীমানার পরিচয় বহন করবে না, বরং মোহনপুরের কৃষি ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড পরিচিতিকেও আরও সমৃদ্ধ করবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের শেষ সীমান্ত বসন্তকেদার এলাকায় নির্মিত সীমানা পিলারের ফলক উন্মোচন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি উপজেলার প্রবেশমুখে নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরার মতো একটি সীমানা পিলার থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে মোহনপুরে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। জিআই স্বীকৃত মোহনপুরের পান এ উপজেলার ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও স্বকীয়তার অন্যতম প্রতীক। তাই সীমানা পিলারে পানের প্রতীক সংযোজনের মাধ্যমে উপজেলার নিজস্ব পরিচয়কে স্থায়ীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমানা পিলারের পাশে ‘এক নজরে মোহনপুর’ শিরোনামে একটি তথ্যসমৃদ্ধ বোর্ড স্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষি ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাবেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে মোহনপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, মোহনপুরের প্রধান কৃষিপণ্য পান। দেশের বিভিন্ন জেলায় এ পানের ব্যাপক সুনাম ও চাহিদা রয়েছে। তাই উপজেলার স্বকীয় পরিচয় তুলে ধরতেই সীমানা পিলারের শীর্ষে পানের প্রতীক সংযোজন করা হয়েছে। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং মোহনপুরের কৃষি ঐতিহ্যের প্রতীক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল মোহনপুরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে একটি সীমানা পিলার নির্মাণের। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নতুন প্রজন্ম এই প্রতীক দেখে নিজেদের এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে।
মোহনপুরের পান বহু বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে আসছে। উপজেলার হাজারো কৃষকের জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এই পান। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর সেই ঐতিহ্যকে আরও সুসংহতভাবে তুলে ধরতেই নতুন সীমানা পিলারের শীর্ষে পানের প্রতীক সংযোজন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি এলাকার পরিচিতি ও ব্র্যান্ডিং গড়ে তুলতে এমন প্রতীকী স্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম। জিআই স্বীকৃত পানের প্রতীক বহনকারী এই সীমানা পিলার মোহনপুরকে নতুনভাবে তুলে ধরবে। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পর্যটনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং জাতীয় পর্যায়ে উপজেলার পরিচিতি আরও বিস্তৃত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



















