গোদাগাড়ীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় বন্ধ কাজ
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

গোদাগাড়ীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বাধায় বন্ধ কাজ
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ; অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করলেন পৌরসভার প্রকৌশলী
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। টেকসই ও মানসম্মত সড়কের দাবিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। রোববার (২০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পৌরসভার সুলতানগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী থানা থেকে গাঙ্গোবাড়ী পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন, সড়ক ও একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলিজা এন্টারপ্রাইজ। বর্তমানে কাচারীপাড়া হারুনের মিল থেকে গাঙ্গোবাড়ী পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত অংশের সড়ক নির্মাণকাজ চলছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা (সিডিউল) অনুসরণ না করে নিম্নমানের ইটের খোয়া (রাবিশ) ও বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
গাঙ্গোবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জামিল আহমেদ বলেন, “রাস্তার কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না। অথচ পৌরসভার তদারকিও চোখে পড়ছে না।”
অলকার মোড় এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, “নতুন রাস্তার চেয়ে আগের সড়কই ভালো ছিল। যেখানে উন্নতমানের বালি ও ইটের খোয়া ব্যবহার করার কথা, সেখানে মাটি ও নিম্নমানের রাবিশ দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এভাবে কাজ করলে প্রথম বর্ষাতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমরা মানসম্মত কাজের দাবিতে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান মুকুল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ এবং কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঠিকাদারকে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করে প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী নতুন করে সড়ক নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।



















