পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড, গরম কাপড় কিনতে মানুষের ভিড় বেড়েছে
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড, গরম কাপড় কিনতে মানুষের ভিড় বেড়েছে
তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছে ৬.৮ ডিগ্রিতে, শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
অব্যাহত হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় পঞ্চগড়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে চলমান হালকা থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শীত। এতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইদিন সকাল ৬টাতেও তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে এবং সর্বোচ্চ ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কয়েকদিন ধরে দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার ভোর থেকেই জেলার গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং চালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে।
চলমান শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা। কনকনে শীতে অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না। শ্রমজীবীরা জানান, কাজ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে।
শীত নিবারণের জন্য ভোর হলেই মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। শুধু পঞ্চগড় শহর নয়, জেলার সর্বত্র একই চিত্র দেখা গেছে।
তীব্র শীতের সুযোগে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে পুরোনো কাপড় (ডাকের কাপড়) বিক্রির দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়া সড়কের কোর্ট চত্বরসহ শহরের বিভিন্ন ভাসমান দোকানে জমজমাট বেচাকেনা লক্ষ্য করা গেছে। সিনেমা হল মার্কেটসহ অন্যান্য দোকানেও একই অবস্থা দেখা যায়।
এবার শীতের দাপট বেশি হওয়ায় ফুটপাতে গড়ে উঠেছে জুতা, মোজা, কানটুপি, ক্যাপ ও শিশুদের শীতবস্ত্রের দোকান। বয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের জন্য এসব পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল ১০টার আগে মেঘ ও কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি দিলেও শীত আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় মানুষ গরম কাপড়সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ছুটছে বাজারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, “কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীত আরও অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।”




















