ঠাকুরগাঁওয়ের সেমাই কারখানায় লাখ টাকা জরিমানা, আবারও মেয়াদোত্তীর্ণ ডালডায় ভাজা হচ্ছে সেমাই
- আপডেট সময় : ০১:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ের সেমাই কারখানায় লাখ টাকা জরিমানা, আবারও মেয়াদোত্তীর্ণ ডালডায় ভাজা হচ্ছে সেমাই
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের অভিযোগ; প্রয়োজনে সিলগালার হুঁশিয়ারি প্রশাসনের
ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সেমাই কারখানাগুলোতে। তবে এ সুযোগে কিছু অসাধু মালিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ভোক্তারা।
জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত আদুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ-এ সরেজমিনে দেখা যায়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে লাচ্ছা ও সাদা সেমাই উৎপাদন করা হচ্ছে। একদিকে নোংরা পরিবেশে দ্রুত লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে, অন্যদিকে সাদা সেমাই উৎপাদনের পর খোলা আকাশের নিচে শুকাতে রাখা হয়েছে। সেখানে ধুলাবালির পাশাপাশি পোকামাকড়ের উপদ্রবও লক্ষ্য করা যায়।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের অভিযানে একই কারখানায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ডালডা ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের প্রমাণ মেলায় এ জরিমানা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, জরিমানার পরও আগের মতোই উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের দাবি, জরিমানাকে তোয়াক্কা না করে অর্থলোভে একইভাবে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজন হলে কারখানা সিলগালার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি জেলার সব সেমাই কারখানায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা আরও বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত এসব খাদ্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি কারখানার শ্রমিকদের মধ্যেও নেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই তারা এমন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছে।
এ বিষয়ে কারখানার ম্যানেজার ওসমান আলী পলাশ নোংরা পরিবেশে সেমাই উৎপাদনের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে। ভালো পরিবেশে উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল কবির জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি আদুরী ফুড কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই অনিয়ম চলতে থাকলে কারখানা সিলগালার সুপারিশ করা হবে। ফলোআপ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কারখানায় অভিযান চলমান থাকবে। ভোক্তারা যেন নিরাপদ খাদ্য পান, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
জেলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অন্তত ২০টির বেশি সেমাই কারখানা রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় গড়ে দৈনিক ১০ মনের বেশি বিভিন্ন ধরনের সেমাই উৎপাদন হয়।




















