ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাণীশংকৈলে ক্লাস বন্ধ রেখে ‘ক্লাস পার্টি’, ক্ষোভ অভিভাবকদের লিবিয়ায় অপহৃত নওগাঁর প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যুর খবর, আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন গোদাগাড়ীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস ও তিন দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন ইসলামী ব্যাংক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন রাজশাহীতে কার্যক্রম নি ষি দ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল সিংড়ায় নিখোঁজের ২২ দিন বৃদ্ধার বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে-পুত্রবধূ লালপুরের পদ্মা নদীতে স্পিডবোটে মিলল বাগাতিপাড়ার ঝড়ুর গু লি বি দ্ধ মরদেহ, পদ্মায় বালুমহল নিয়ে সং ঘ র্ষে নিহত নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা করাতে এসে ধ/র্ষ/ণে/র শিকার মা, ৩ সুইপার আটক বাগাতিপাড়ায় সরকারি রাস্তার ইট তুলে অন্য রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ বাগাতিপাড়ায় দুই বছরেও শেষ হয়নি চার সড়কের সংস্কার কাজ, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ

জব্দ করা মোটরসাইকেল তানোর থানা থেকে গায়েব!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর তানোর থানা

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জব্দ করা মোটরসাইকেল তানোর থানা থেকে গায়েব!

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:
জব্দ করা মোটরসাইকেল তানোর থানা থেকে গায়েব! রাজশাহীর তানোর থানায় জব্দ করা একটি মোটর সাইকেল গায়েব হয়ে গেছে। মোটরসাইকেলটি আর খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলছেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। আর যে উপপরিদর্শক (এসআই) মোটরসাইকেলটি আটক করেছিলেন, তিনি এখন অন্য থানায় বদলি হয়ে গেছেন। তবে ওই এসআই বলছেন, মোটরসাইকেল জব্দের বিষয়ে থানার ওসির অনুমতি নিয়ে জিডি করা রয়েছে।
মোটরসাইকেলের মালিক তার বাইক ফিরে পেতে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের (এসপি) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এসপি এক দিনের মধ্যে মোটর সাইকেলটি বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মোটর সাইকেলটির মালিকের নাম বেলাল হোসেন (৩৯)। তার বাড়ি তানোর পৌর এলাকার বুরুজ মহল্লায়।

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি মোটর সাইকেল চালিয়ে কাশিমবাজার থেকে তানোর সদরে যাচ্ছিলেন। জিওল-চাঁদপুর নামক মোড়ে মোটর সাইকেলের সঙ্গে মনজিলা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মনজিলা সামান্য আহত হন। পরে বেলাল হোসেন তাঁকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। এরই মধ্যে তানোর থানার পুলিশ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোটর সাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর থেকে আহত ব্যক্তির সঙ্গে মোটর সাইকেলের মালিক মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। মীমাংসা না হওয়ার কারণে তিনি মোটর সাইকেল নিতে যাননি। তবে মাঝে মধ্যেই থানায় গিয়ে মোটর সাইকেল দেখে আসেন। গত ২৪ জুন সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় কাউন্সিলর মুনজুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস হয়। এতে চিকিৎসা খরচ বাবদ আরও ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মিমাংসা করা হয়।

বেলাল হোসেন জানান, কাউন্সিলরের মীমাংসাপত্র নিয়ে ওই দিন (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে থানায় যান। সঙ্গে তানোর পৌরসভার নারী কাউন্সিলর মমেনা আহম্মেদ ও তাঁর ভাই আলফাজ উদ্দিন ছিলেন। এ সময় বেলাল হোসেন মোটর সাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য ওসি কামরুজ্জামান মিয়াকে অনুরোধ জানান। এ সময় ওসি তাঁকে বলেন, দারোগা মানিক থানায় নেই। অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। মোটরসাইকেলটি নিতে চাইলে মানিককে নিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া তিনি মোটরসাইকেলের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
ওই সময় বেলাল হোসেন ওসিকে বলেন, থানা চত্বরেই তিনি তাঁর মোটরসাইকেলটি দেখতে পাচ্ছেন। এ কথা বলার পর ওসি তাঁকে বলেন, ‘ঠিক আছে খোঁজখবর নিয়ে দেখি ১৫ দিন পরে আসেন।’

বেলাল হোসেন বলেন, ওসির কথামতো ১৫ দিন পরে থানায় গিয়ে মোটরসাইকেলটি থানা চত্বরে আর দেখতে পাননি। এ বিষয়ে জানতে গেলে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বলেন, ‘এসআই মানিককে নিয়ে এসে মোটরসাইকেল নিতে হবে। আমি এ বিষয়ে কোনো কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি করলে মোটরসাইকেলটি চিরতরে হারাবে বলে হুমকি দেন।’
বেলাল হোসেন জানান, ওসি তাঁকে থানা থেকে অপমান করে বের করে দেন। নিরুপায় হয়ে গতকাল সোমবার পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এ সময় পুলিশ সুপার ছিলেন না। অন্য একজন পুলিশ সদস্য অভিযোগটি গ্রহণ করেন।
তানোর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মমেনা আহম্মেদ বলেন, দুর্ঘটনায় আহত নারীর সঙ্গে মীমাংসার পর বেলালের সঙ্গে তিনি মোটরসাইকেলটি নেওয়ার জন্য থানায় গিয়েছিলেন। ওসি সাহেব তাঁদের ১৫ দিন পরে যেতে বলেছিলেন। পরেরবার তিনি আর থানায় যাননি।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মোটর সাইকেলটির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তবে তানোর থানার তৎকালীন এসআই মানিক বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি থানায় বদলি হয়ে গেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওসির অনুমতি নিয়েই তিনি মোটরসাইকেলটি জব্দ করে নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেন। দুই পক্ষ মীমাংসা করে নিতে চান তাই মোটরসাইকেলটি জব্দ তালিকায় তোলা হয়নি।

ওসি তখন বলেছিলেন মীমাংসা হলে আরেকটি জিডি করে মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দেওয়া যাবে। মঙ্গলবার ওসি ফোন করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি তাঁকে ফোন করে মোটর সাইকেল কোথায় আছে, বের করে দিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি বলেন, দাপ্তরিক বার্তা পেলেই তিনি যাবেন।
এ ব্যাপারে রাজশাহীর পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন মোটরসাইকেলটি বের করে দেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জব্দ করা মোটরসাইকেল তানোর থানা থেকে গায়েব!

আপডেট সময় : ০৩:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ অগাস্ট ২০২২

জব্দ করা মোটরসাইকেল তানোর থানা থেকে গায়েব!

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী:
জব্দ করা মোটরসাইকেল তানোর থানা থেকে গায়েব! রাজশাহীর তানোর থানায় জব্দ করা একটি মোটর সাইকেল গায়েব হয়ে গেছে। মোটরসাইকেলটি আর খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলছেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। আর যে উপপরিদর্শক (এসআই) মোটরসাইকেলটি আটক করেছিলেন, তিনি এখন অন্য থানায় বদলি হয়ে গেছেন। তবে ওই এসআই বলছেন, মোটরসাইকেল জব্দের বিষয়ে থানার ওসির অনুমতি নিয়ে জিডি করা রয়েছে।
মোটরসাইকেলের মালিক তার বাইক ফিরে পেতে রাজশাহীর পুলিশ সুপারের (এসপি) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এসপি এক দিনের মধ্যে মোটর সাইকেলটি বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মোটর সাইকেলটির মালিকের নাম বেলাল হোসেন (৩৯)। তার বাড়ি তানোর পৌর এলাকার বুরুজ মহল্লায়।

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি মোটর সাইকেল চালিয়ে কাশিমবাজার থেকে তানোর সদরে যাচ্ছিলেন। জিওল-চাঁদপুর নামক মোড়ে মোটর সাইকেলের সঙ্গে মনজিলা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মনজিলা সামান্য আহত হন। পরে বেলাল হোসেন তাঁকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান। এরই মধ্যে তানোর থানার পুলিশ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোটর সাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর থেকে আহত ব্যক্তির সঙ্গে মোটর সাইকেলের মালিক মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। মীমাংসা না হওয়ার কারণে তিনি মোটর সাইকেল নিতে যাননি। তবে মাঝে মধ্যেই থানায় গিয়ে মোটর সাইকেল দেখে আসেন। গত ২৪ জুন সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় কাউন্সিলর মুনজুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস হয়। এতে চিকিৎসা খরচ বাবদ আরও ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মিমাংসা করা হয়।

বেলাল হোসেন জানান, কাউন্সিলরের মীমাংসাপত্র নিয়ে ওই দিন (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে থানায় যান। সঙ্গে তানোর পৌরসভার নারী কাউন্সিলর মমেনা আহম্মেদ ও তাঁর ভাই আলফাজ উদ্দিন ছিলেন। এ সময় বেলাল হোসেন মোটর সাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য ওসি কামরুজ্জামান মিয়াকে অনুরোধ জানান। এ সময় ওসি তাঁকে বলেন, দারোগা মানিক থানায় নেই। অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। মোটরসাইকেলটি নিতে চাইলে মানিককে নিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া তিনি মোটরসাইকেলের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
ওই সময় বেলাল হোসেন ওসিকে বলেন, থানা চত্বরেই তিনি তাঁর মোটরসাইকেলটি দেখতে পাচ্ছেন। এ কথা বলার পর ওসি তাঁকে বলেন, ‘ঠিক আছে খোঁজখবর নিয়ে দেখি ১৫ দিন পরে আসেন।’

বেলাল হোসেন বলেন, ওসির কথামতো ১৫ দিন পরে থানায় গিয়ে মোটরসাইকেলটি থানা চত্বরে আর দেখতে পাননি। এ বিষয়ে জানতে গেলে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বলেন, ‘এসআই মানিককে নিয়ে এসে মোটরসাইকেল নিতে হবে। আমি এ বিষয়ে কোনো কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি করলে মোটরসাইকেলটি চিরতরে হারাবে বলে হুমকি দেন।’
বেলাল হোসেন জানান, ওসি তাঁকে থানা থেকে অপমান করে বের করে দেন। নিরুপায় হয়ে গতকাল সোমবার পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এ সময় পুলিশ সুপার ছিলেন না। অন্য একজন পুলিশ সদস্য অভিযোগটি গ্রহণ করেন।
তানোর পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মমেনা আহম্মেদ বলেন, দুর্ঘটনায় আহত নারীর সঙ্গে মীমাংসার পর বেলালের সঙ্গে তিনি মোটরসাইকেলটি নেওয়ার জন্য থানায় গিয়েছিলেন। ওসি সাহেব তাঁদের ১৫ দিন পরে যেতে বলেছিলেন। পরেরবার তিনি আর থানায় যাননি।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, মোটর সাইকেলটির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তবে তানোর থানার তৎকালীন এসআই মানিক বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি থানায় বদলি হয়ে গেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওসির অনুমতি নিয়েই তিনি মোটরসাইকেলটি জব্দ করে নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেন। দুই পক্ষ মীমাংসা করে নিতে চান তাই মোটরসাইকেলটি জব্দ তালিকায় তোলা হয়নি।

ওসি তখন বলেছিলেন মীমাংসা হলে আরেকটি জিডি করে মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দেওয়া যাবে। মঙ্গলবার ওসি ফোন করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসি তাঁকে ফোন করে মোটর সাইকেল কোথায় আছে, বের করে দিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি বলেন, দাপ্তরিক বার্তা পেলেই তিনি যাবেন।
এ ব্যাপারে রাজশাহীর পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন মোটরসাইকেলটি বের করে দেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।