ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ৩১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজশাহীতে সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট ও ভোগান্তি শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা নেসকোর চেয়ারম্যান হলেন গোদাগাড়ীর কৃতী সন্তান মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন মোহনপুরে শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে, প্লাবনের শঙ্কায় বিস্তীর্ণ জনপদ জাসাস নেতা আকবর আলীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে নলডাঙ্গায় মানববন্ধন জাতীয় জরিপে লিগ্যাল এইড সচেতনতায় দেশের সেরা চারে ঠাকুরগাঁও মোহনপুরে কীটনাশক দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ১০ হাজার টাকা জরিমানা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও মান্দার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ঝুলিতে দুই জাতীয় পুরস্কার, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ

আম বাগানে মাসকলাই, খরচ কম লাভ বেশি!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২ ২৪৭ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আম বাগানে মাসকলাই, খরচ কম লাভ বেশি!

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:আম আম বাগানে মাসকলাই, খরচ কম লাভ বেশি! আম উৎপাদনকারী অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁর সাপাহারে আম বাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে মাসকলাই। মাসকলাইয়ের বীজ ডাল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।
ঐতিহ্যবাহী খাবার কলাইয়ের রুটিও তৈরি হয় মাসকলাই ডাল থেকেই। তাই মাসকলাই ডালের চাহিদাও রয়েছে বাজারে। মাসকলাই চাষে খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু মাত্র দু-একবার ভিটামিন আর কীটনাশক স্প্রে করলেই যথেষ্ট। ফলে খরচও তেমন বেশী হয় না। যার ফলে অল্প খরচে বাম্পার ফলন এবং অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার চাষিরা সরেজমিনে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার গোয়ালা, তিলনা ও শিরন্টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে মাসকলাই চাষের এমন চিত্র।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলায় এবারে প্রায় ২১০ হেক্টর আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে মাসকলাই। প্রতি হেক্টর জমিতে মাসকলাই ডাল উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে দেড় থেকে দুই মেট্রিক টন। যার উৎপাদন খরচ প্রতি বিঘা জমিতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ উপজেলায় মাসকলাই এর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষী ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। এতে করে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে উৎপাদিত ফসলের বাজার দর হিসাব মিলাতে গেলে, দেখা যায় লাভের অংক দাঁড়াবে কয়েকগুণ বেশী। তাই এই এলাকায় আম বাগানে গাছে ফাঁকে মাসকলাই চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। কাশিতাড়ার মাসকলাই চাষি আকবর আলী জানান, আম বাগানে গাছে ফাঁকে ফাঁকে বাড়তি ফসল হিসেবেই চাষ করি মাসকলাই। এই ফসল চাষে অধিক পরিচর্যার ঝামেলা নাই। আবার অল্প খরচে আয় আসে বেশি। তাই গত বছর থেকেই মাসকলাই চাষ শুরু করেছি। এবারও ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ফুল ফল ভালো হয়েছে। আশা করছি- গত বছরের থেকে এবার বেশি ফলন হবে। মাসকলাই চাষি সালাউদ্দিন জানান, আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে চাষ যায় বিভিন্ন রকমের শাক সবজি। কিন্তু আম গাছ বড় হয়ে গেলে অন্য কোনো ফসল হয় না। তাই প্রতিবছর এই জমিতে কলাই চাষ করা হচ্ছে। করণ এই ফসলে তেমন কোনো খরচ লাগে না বাড়তি ফসল হিসেবেই পাওয়া যায়। আবার প্রতিবছর বাগানের গাছগুলোতে ঠিক মতো আমও হয়। এবার ১০ বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করেছি। আশা করছি এবার ফলন আরও বেশি হবে।

মনোয়ারুল ইসলাম মনা নামে একজন কলাই চাষি জানান, ১২ বিঘা জমিতে এ বছর একটি আম বাগান গড়ে তুলেছি। আমার নতুন এই বাগানে ছোট ছোট আম গাছগুলোর ফাঁকে চাষ করছি মাসকলাই। মাসকলাইয় চাষে খরচ কম হওয়ায় গত বছর অল্প কিছু জমিতে মাসকলাই চাষ করেছিলাম। এতে আমার খরচ হয়েছিল প্রায় ৪-৬ হাজার টাকা। আর ওই জমি থেকে মাসকলাই হয়েছিল প্রায় ২১ মণ। যা বিক্রি করেছিলাম প্রায় ৫৭ হাজার টাকায়। তাই এবারও নতুন বাগানে ১২ বিঘা জমিতে চাষ করছি মাসকলাই। ফসলের বর্তমান অবস্থা দেখে আশা করছি এবার ফলন আরও বেশি হবে। স্থানীয় সাংবাদিক ও কলাই চাষি বাবুল আকতার জানান, গতবছর কম ছিল। এবার অনেকেই বেশী করে চাষ করা হয়েছে মাসকলাই। আমার এক প্রতিবেশী চাষীর মাসকলাই চাষের সফলতা দেখে আমার নিজের ৫ বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করছি। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। এই ফসল চাষে দু-একবার ভিটামিন আর কীটনাশক স্প্রে করলেই যথেষ্ট। তেমন বেশী খরচও নাই। বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। প্রতি বিঘা জমিতে ৫-৭ মণ পর্যন্ত কলাই উৎপাদন হয়ে থাকে। মাসকলাই বাজারে ৩-৪ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান টকি জানান, এবার উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হেক্টর প্রতি ধরা হয়েছে দেড় থেকে দুই মেট্রিক টন। আর গত বছর চাষ হয়েছিল ৬৫ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের আমরা মাসকলাই চাষে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছি। মাসকলাই মাড়াইয়ের পর কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে সামনের বছর মাসকলাই চাষ আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আম বাগানে মাসকলাই, খরচ কম লাভ বেশি!

আপডেট সময় : ০৩:১২:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২

আম বাগানে মাসকলাই, খরচ কম লাভ বেশি!

আলমগীর হোসেন, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:আম আম বাগানে মাসকলাই, খরচ কম লাভ বেশি! আম উৎপাদনকারী অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁর সাপাহারে আম বাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে মাসকলাই। মাসকলাইয়ের বীজ ডাল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।
ঐতিহ্যবাহী খাবার কলাইয়ের রুটিও তৈরি হয় মাসকলাই ডাল থেকেই। তাই মাসকলাই ডালের চাহিদাও রয়েছে বাজারে। মাসকলাই চাষে খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু মাত্র দু-একবার ভিটামিন আর কীটনাশক স্প্রে করলেই যথেষ্ট। ফলে খরচও তেমন বেশী হয় না। যার ফলে অল্প খরচে বাম্পার ফলন এবং অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার চাষিরা সরেজমিনে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার গোয়ালা, তিলনা ও শিরন্টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে মাসকলাই চাষের এমন চিত্র।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলায় এবারে প্রায় ২১০ হেক্টর আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে মাসকলাই। প্রতি হেক্টর জমিতে মাসকলাই ডাল উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে দেড় থেকে দুই মেট্রিক টন। যার উৎপাদন খরচ প্রতি বিঘা জমিতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ উপজেলায় মাসকলাই এর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষী ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। এতে করে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে উৎপাদিত ফসলের বাজার দর হিসাব মিলাতে গেলে, দেখা যায় লাভের অংক দাঁড়াবে কয়েকগুণ বেশী। তাই এই এলাকায় আম বাগানে গাছে ফাঁকে মাসকলাই চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। কাশিতাড়ার মাসকলাই চাষি আকবর আলী জানান, আম বাগানে গাছে ফাঁকে ফাঁকে বাড়তি ফসল হিসেবেই চাষ করি মাসকলাই। এই ফসল চাষে অধিক পরিচর্যার ঝামেলা নাই। আবার অল্প খরচে আয় আসে বেশি। তাই গত বছর থেকেই মাসকলাই চাষ শুরু করেছি। এবারও ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ফুল ফল ভালো হয়েছে। আশা করছি- গত বছরের থেকে এবার বেশি ফলন হবে। মাসকলাই চাষি সালাউদ্দিন জানান, আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে চাষ যায় বিভিন্ন রকমের শাক সবজি। কিন্তু আম গাছ বড় হয়ে গেলে অন্য কোনো ফসল হয় না। তাই প্রতিবছর এই জমিতে কলাই চাষ করা হচ্ছে। করণ এই ফসলে তেমন কোনো খরচ লাগে না বাড়তি ফসল হিসেবেই পাওয়া যায়। আবার প্রতিবছর বাগানের গাছগুলোতে ঠিক মতো আমও হয়। এবার ১০ বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করেছি। আশা করছি এবার ফলন আরও বেশি হবে।

মনোয়ারুল ইসলাম মনা নামে একজন কলাই চাষি জানান, ১২ বিঘা জমিতে এ বছর একটি আম বাগান গড়ে তুলেছি। আমার নতুন এই বাগানে ছোট ছোট আম গাছগুলোর ফাঁকে চাষ করছি মাসকলাই। মাসকলাইয় চাষে খরচ কম হওয়ায় গত বছর অল্প কিছু জমিতে মাসকলাই চাষ করেছিলাম। এতে আমার খরচ হয়েছিল প্রায় ৪-৬ হাজার টাকা। আর ওই জমি থেকে মাসকলাই হয়েছিল প্রায় ২১ মণ। যা বিক্রি করেছিলাম প্রায় ৫৭ হাজার টাকায়। তাই এবারও নতুন বাগানে ১২ বিঘা জমিতে চাষ করছি মাসকলাই। ফসলের বর্তমান অবস্থা দেখে আশা করছি এবার ফলন আরও বেশি হবে। স্থানীয় সাংবাদিক ও কলাই চাষি বাবুল আকতার জানান, গতবছর কম ছিল। এবার অনেকেই বেশী করে চাষ করা হয়েছে মাসকলাই। আমার এক প্রতিবেশী চাষীর মাসকলাই চাষের সফলতা দেখে আমার নিজের ৫ বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করছি। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। এই ফসল চাষে দু-একবার ভিটামিন আর কীটনাশক স্প্রে করলেই যথেষ্ট। তেমন বেশী খরচও নাই। বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। প্রতি বিঘা জমিতে ৫-৭ মণ পর্যন্ত কলাই উৎপাদন হয়ে থাকে। মাসকলাই বাজারে ৩-৪ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান টকি জানান, এবার উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হেক্টর প্রতি ধরা হয়েছে দেড় থেকে দুই মেট্রিক টন। আর গত বছর চাষ হয়েছিল ৬৫ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের আমরা মাসকলাই চাষে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছি। মাসকলাই মাড়াইয়ের পর কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে সামনের বছর মাসকলাই চাষ আরও বাড়বে।