মান্দায় শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, শোকজ নোটিশ জারি
- আপডেট সময় : ০৮:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

মান্দায় শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, শোকজ নোটিশ জারি
ছাত্রী ও সহকর্মীকে হয়রানির অভিযোগ; সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ
নওগাঁর মান্দায় পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) জিয়াউর রহমান জিয়ার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (২১ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, এক সহকর্মী শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মানববন্ধনের আগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন গোপালপুর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে কুপ্রস্তাব দেওয়া, উত্ত্যক্ত করা এবং যৌন হয়রানির মতো আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। কয়েকদিন আগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই শিক্ষকের হাত ধরে টানাহেঁচড়া করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আক্তার জাহান সাথী এবং মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও মানববন্ধনে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানাতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সেখান থেকে চলে যান বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, অভিযুক্তকে অপসারণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আক্তার জাহান সাথী বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষককে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















