ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নেপালের বড় চমক নাটোরে ৭ বছরের শিশুর আঙুল কা/টার অভিযোগ, পুলিশ সদস্য ও স্ত্রী গ্রেপ্তার সাপাহার সীমান্তে ১১ বোতল ভারতীয় কিংডিল সিরাপ জব্দ নাটোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবা নিয়ে সমন্বয় সভা রাজশাহীতে ২৪১ গ্রাম স্বর্ণের দুই বারসহ দুইজন আটক রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ২৫ ঝিনাইগাতীতে বিজিবির আটক ২১ গরু নিয়ে চাঞ্চল্য, ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত নিয়ে অংশীজনদের সমন্বয় সভা বিশ্ব ফুসফুস দিবস: তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে বাগাতিপাড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইডে ৭১৪ আবেদন নিষ্পত্তি, আপসে আদায় ৪৪ লাখ টাকা

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে

Collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইডে ৭১৪ আবেদন নিষ্পত্তি, আপসে আদায় ৪৪ লাখ টাকা

বিনামূল্যে আইনি সহায়তায় বাড়ছে আস্থা; বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে দ্রুত সমাধান

অর্থাভাবে আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারা মানুষের জন্য নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের লিগ্যাল এইড সেবা। বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ এখন সহজেই বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছেন।

জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত লিগ্যাল এইড অফিসে প্রতিদিনই নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষের ভিড় দেখা যায়। পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা, প্রতারণা কিংবা দেনা-পাওনা—বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে এখানে আসছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারি এই সেবার আওতায় আইনজীবী নিয়োগ থেকে শুরু করে মামলা পরিচালনার সব ব্যয় বহন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষও নির্ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন।

লিগ্যাল এইড অফিস থেকে মূলত তিন ধরনের সেবা দেওয়া হয়—বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, মামলা পরিচালনায় আইনজীবী নিয়োগ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)। এর মধ্যে এডিআর পদ্ধতি সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যেখানে আদালতের বাইরে বসেই দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করা হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকে।

কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মোট ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭১৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময়ে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩৬ জনে। মামলা দায়ের হয়েছে ২২৫টি। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আপসে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৭০৩ জন বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ পেয়েছেন। একই সময়ে আদালতে বিচারাধীন ১৯১টি মামলা আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৮টি ক্ষেত্রে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আইনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা ও মতবিনিময় করা হচ্ছে।

উপকারভোগী আব্দুল করিম বলেন, “আমি গরিব মানুষ। কোর্ট-কাচারি সবসময় ভয় লাগত। কিন্তু লিগ্যাল এইড আমাকে সাহস দিয়েছে, আমার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।”

এক নারী ভুক্তভোগী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। পরে লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন।

লিগ্যাল এইড আইনজীবী ললিত কুমার রায় বলেন, এই কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সহজ করেছে। বিশেষ করে এডিআর পদ্ধতিতে দ্রুত সমাধান সম্ভব হওয়ায় আদালতের ওপর চাপও কমছে।

লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মজনু মিয়া বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তার আওতায় আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে জনবল ও যানবাহন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সীমাবদ্ধতা দূর হলে আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইডে ৭১৪ আবেদন নিষ্পত্তি, আপসে আদায় ৪৪ লাখ টাকা

আপডেট সময় : ০৮:১৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইডে ৭১৪ আবেদন নিষ্পত্তি, আপসে আদায় ৪৪ লাখ টাকা

বিনামূল্যে আইনি সহায়তায় বাড়ছে আস্থা; বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে দ্রুত সমাধান

অর্থাভাবে আদালতের দ্বারস্থ হতে না পারা মানুষের জন্য নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের লিগ্যাল এইড সেবা। বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ এখন সহজেই বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছেন।

জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত লিগ্যাল এইড অফিসে প্রতিদিনই নানা সমস্যায় জর্জরিত মানুষের ভিড় দেখা যায়। পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা, প্রতারণা কিংবা দেনা-পাওনা—বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতে এখানে আসছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারি এই সেবার আওতায় আইনজীবী নিয়োগ থেকে শুরু করে মামলা পরিচালনার সব ব্যয় বহন করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষও নির্ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন।

লিগ্যাল এইড অফিস থেকে মূলত তিন ধরনের সেবা দেওয়া হয়—বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ, মামলা পরিচালনায় আইনজীবী নিয়োগ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)। এর মধ্যে এডিআর পদ্ধতি সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যেখানে আদালতের বাইরে বসেই দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করা হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকে।

কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মোট ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭১৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময়ে উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৩৬ জনে। মামলা দায়ের হয়েছে ২২৫টি। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আপসে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৭০৩ জন বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ পেয়েছেন। একই সময়ে আদালতে বিচারাধীন ১৯১টি মামলা আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৮টি ক্ষেত্রে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আইনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা ও মতবিনিময় করা হচ্ছে।

উপকারভোগী আব্দুল করিম বলেন, “আমি গরিব মানুষ। কোর্ট-কাচারি সবসময় ভয় লাগত। কিন্তু লিগ্যাল এইড আমাকে সাহস দিয়েছে, আমার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে।”

এক নারী ভুক্তভোগী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। পরে লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আইনি পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন।

লিগ্যাল এইড আইনজীবী ললিত কুমার রায় বলেন, এই কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সহজ করেছে। বিশেষ করে এডিআর পদ্ধতিতে দ্রুত সমাধান সম্ভব হওয়ায় আদালতের ওপর চাপও কমছে।

লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মজনু মিয়া বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তার আওতায় আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে জনবল ও যানবাহন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সীমাবদ্ধতা দূর হলে আরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।