শ্রীনগরে পূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে মারধরের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

শ্রীনগরে পূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে মারধরের অভিযোগ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর নুরুজ্জামান মীরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ তাকে সভাস্থল থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। সভায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার ৮৫টি পূজামণ্ডপের সভাপতি-সম্পাদক এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিকেল ৫টার দিকে সভা শুরু হয়। সভায় বক্তব্য দেন শ্রীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল দাস।
এরপর মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে পেছন থেকে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর নুরুজ্জামান মীরও বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তাকে পরিচয় না জানায় কয়েকজন বিএনপি নেতা ধাক্কা দিয়ে হলরুম থেকে বের করে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
পরে নুরুজ্জামান মীরের পরিচয় জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা তাকে আবার সভাকক্ষে ডেকে নেন এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
নুরুজ্জামান মীর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খানের বক্তব্যের একটি অংশের প্রতিবাদ করেন। হাফিজুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের মতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে জানা যায়।
এ সময় সভাস্থলে উপস্থিত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নুরুজ্জামান মীরের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ তাকে সভাকক্ষ থেকে বের করে কিছু দূরে নিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে দেয়।
ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় সংসদ সদস্যের ক্যামেরাপারসন নাহিদ সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনায় আহত নুরুজ্জামান মীর বলেন, প্রথমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলে তাকে হলরুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে পরিচয় জানার পর আবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে সভায় সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাছিবুর রহমান বলেন, সভায় সাময়িকভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।


















