ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে নেপালের বড় চমক নাটোরে ৭ বছরের শিশুর আঙুল কা/টার অভিযোগ, পুলিশ সদস্য ও স্ত্রী গ্রেপ্তার সাপাহার সীমান্তে ১১ বোতল ভারতীয় কিংডিল সিরাপ জব্দ নাটোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবা নিয়ে সমন্বয় সভা রাজশাহীতে ২৪১ গ্রাম স্বর্ণের দুই বারসহ দুইজন আটক রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ২৫ ঝিনাইগাতীতে বিজিবির আটক ২১ গরু নিয়ে চাঞ্চল্য, ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত নিয়ে অংশীজনদের সমন্বয় সভা বিশ্ব ফুসফুস দিবস: তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে বাগাতিপাড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নলডাঙ্গার তিন প্রবাসী নিহত

নাটোর প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

Naldanga sad news

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নলডাঙ্গার তিন প্রবাসী নিহত

নাটোর প্রতিনিধিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসা এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিয়াদের মুসাসা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের মো. জাকির আলীর ছেলে মো. শামীম হোসেন (৩৫), খাজুরার শ্রীপুরপাড়ার মো. গোলাম রাব্বানীর ছেলে মো. সাব্বির আহমেদ শুভ (৩০) এবং মহিশডাঙ্গা গ্রামের মো. আসলাম হোসেনের ছেলে মো. রবিউল আউয়াল হৃদয় (২৫)।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান খাঁন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত তিন প্রবাসীর প্রত্যেক পরিবারের হাতে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়। তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন জানান, নিহত তিন যুবকই পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তারা রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন। রোববার বিকেলে ওই কারখানায় হঠাৎ আগুন লাগলে তা দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কারখানার ভেতরে কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহত শামীম হোসেনের এক মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। শিশুটি এখনো বাবাকে দেখার সুযোগ পায়নি। অন্যদিকে সাব্বির আহমেদ শুভ দুই বছর আগে ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন। এখনো সরাসরি স্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়নি বলে জানান স্বজনরা।

স্বজনদের দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য শামীম ও সাব্বিরের বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় চার বছর আগেও একই গ্রামের চার যুবক সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করার সময় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত হয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নলডাঙ্গার তিন প্রবাসী নিহত

আপডেট সময় : ০২:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নলডাঙ্গার তিন প্রবাসী নিহত

নাটোর প্রতিনিধিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসা এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিয়াদের মুসাসা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের মো. জাকির আলীর ছেলে মো. শামীম হোসেন (৩৫), খাজুরার শ্রীপুরপাড়ার মো. গোলাম রাব্বানীর ছেলে মো. সাব্বির আহমেদ শুভ (৩০) এবং মহিশডাঙ্গা গ্রামের মো. আসলাম হোসেনের ছেলে মো. রবিউল আউয়াল হৃদয় (২৫)।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান খাঁন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত তিন প্রবাসীর প্রত্যেক পরিবারের হাতে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়। তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন জানান, নিহত তিন যুবকই পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তারা রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন। রোববার বিকেলে ওই কারখানায় হঠাৎ আগুন লাগলে তা দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কারখানার ভেতরে কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহত শামীম হোসেনের এক মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। শিশুটি এখনো বাবাকে দেখার সুযোগ পায়নি। অন্যদিকে সাব্বির আহমেদ শুভ দুই বছর আগে ভিডিও কলের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন। এখনো সরাসরি স্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়নি বলে জানান স্বজনরা।

স্বজনদের দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য শামীম ও সাব্বিরের বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় চার বছর আগেও একই গ্রামের চার যুবক সৌদি আরবের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করার সময় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত হয়েছিলেন।