ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লালপুরে ৩১ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজশাহীতে সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট ও ভোগান্তি শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা নেসকোর চেয়ারম্যান হলেন গোদাগাড়ীর কৃতী সন্তান মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন মোহনপুরে শিব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিতে, প্লাবনের শঙ্কায় বিস্তীর্ণ জনপদ জাসাস নেতা আকবর আলীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে নলডাঙ্গায় মানববন্ধন জাতীয় জরিপে লিগ্যাল এইড সচেতনতায় দেশের সেরা চারে ঠাকুরগাঁও মোহনপুরে কীটনাশক দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ১০ হাজার টাকা জরিমানা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও মান্দার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ঝুলিতে দুই জাতীয় পুরস্কার, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ

রাজশাহীতে পুকুর খননে উজাড় হচ্ছে কৃষিজমি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২২ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীতে পুকুর খননে উজাড় হচ্ছে কৃষিজমি

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীতে পুকুর খননে উজাড় হচ্ছে কৃষিজমি।
রাজশাহীর অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। তবে একটি অসাধু চক্রের পরিকল্পিত কৌশলের কাছে পরাস্থ হয়ে রাজশাহীর কৃষি জমির মালিকরা অনেকটাই বাধ্য হয়ে তাদের আবাদি জমিতে পুকুর করতে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে রাজশাহীর ভূপ্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে দেশে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, রাজশাহী জেলায় গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৮০০ হেক্টর (প্রায় ২ হাজার ৪০০ বিঘা) পরিমাণে কৃষি জমি কমে আসছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৯-২০ অর্থ বছরেই কমেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি।

রাজশাহীর উপজেলাগুলোর প্রধান সড়ক থেকে একটু ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে পুকুরের বিস্তীর্ণ সীমানা। প্রধান সড়ক থেকে এই দৃশ্য অনেকটাই ফিকে। ফসলি জমি নষ্ট করে নতুন পুকুর খনন করা হচ্ছে, নয়তো এরইমধ্যে তা পুকুর গেছে। আবাদি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে এসব পুকুর খবন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আর একাজে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ওইসব এলাকার বর্তমান অথবা সাবেক রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি নয়তো প্রভাবশালী ব্যক্তি।

স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন একএকটি পুকুরের আয়নত ২০ থেকে ৫০ বিঘা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ। প্রভাবশালীরা প্রথমে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মধ্যে যে জমিতে ফসল উৎপাদন তুলনামূলক কম হয় ওই জমি বাছাই করে সেখানে কৌশলে পুকুর করা শুরু করে। এর পর ওই পুকুরের কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন ওই সব জরিম মালিকেরা ফসল উৎপাদনে লোকশানে পড়ে। এতে করে তারা বাধ্য হয়ে তাদের আবাদি জমি প্রভাবশালী ওই পুকুর খননকারীকে লীজ দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। কিছুদিন আগেও রাতের আধারে পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেলেও, এখন প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্যে দিন-রাত এক নাগাড়ে চলছে খনন কাজ। কৃষি জমির আকৃতি পরিবর্তন দণ্ডণীয় অপরাধ হলেও এনিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা হতাশাজনক। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে পুকুর খননকারী সিন্ডিকেট। পুকুর করতে গিয়ে কৃষি জমির উপরিতলের বিপুল পরিমাণ মাটি পাঠানো হচ্ছে ইটের ভাটায়। গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে ট্রাক্টর বা ট্রাকে করে পুকুর খননের মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো। চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

এদিকে একরের পর একর বিস্তৃত এসব পুকুরের পানির সরবরাহ ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। পুকুরের ধারে ব্যক্তিমালিকানায় গভীর নলকূপ বসিয়ে নয়তো বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়স কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচের পানি এসব পুকুরে সরাসরি ফেলা হচ্ছে পানির স্তর ঠিক রাখতে।

এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে রাজশাহীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে সংকট দেখা দিবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. সারওয়ার জাহান সজনল জানান, আপাতদৃষ্টিতে ফসলের চাইতে মাছকেই লাভজনক মনে করছেন অনেকে। তবে আবাদি জমি নষ্ট করে মাইলের পর মাইল অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন হতে পারে এই অঞ্চলের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ।

তিনি বলেন, ভূগর্ভস্ত পানির অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফল ভোগ করছে তানোর-গোদাগাড়ীর মানুষ। কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত পুকুর খনন অদূর ভবিষ্যতে বিপদে ফেলবে সকল পক্ষকেই। এবিষয়ে এখনই সতর্ক হতে হবে। দেশেকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে রাজশাহী অঞ্চলের আবাদি জমি ও কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। হাওড় অঞ্চলে প্রকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে প্রতি বছর শঙ্কা থাকলেও উত্তরের কৃষক নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ফসল উৎপাদন করে চলেছে। তবে জেলা প্রশাসনের প্রতি মাসের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় পুকুর খনন বিষয়ে আলোচনা হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, পুকুর খনন বন্ধের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহীতে পুকুর খননে উজাড় হচ্ছে কৃষিজমি

আপডেট সময় : ০৩:০১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২২

রাজশাহীতে পুকুর খননে উজাড় হচ্ছে কৃষিজমি

এম এম মামুন, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীতে পুকুর খননে উজাড় হচ্ছে কৃষিজমি।
রাজশাহীর অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। তবে একটি অসাধু চক্রের পরিকল্পিত কৌশলের কাছে পরাস্থ হয়ে রাজশাহীর কৃষি জমির মালিকরা অনেকটাই বাধ্য হয়ে তাদের আবাদি জমিতে পুকুর করতে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে রাজশাহীর ভূপ্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে দেশে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, রাজশাহী জেলায় গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৮০০ হেক্টর (প্রায় ২ হাজার ৪০০ বিঘা) পরিমাণে কৃষি জমি কমে আসছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র ২০১৯-২০ অর্থ বছরেই কমেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি।

রাজশাহীর উপজেলাগুলোর প্রধান সড়ক থেকে একটু ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে পুকুরের বিস্তীর্ণ সীমানা। প্রধান সড়ক থেকে এই দৃশ্য অনেকটাই ফিকে। ফসলি জমি নষ্ট করে নতুন পুকুর খনন করা হচ্ছে, নয়তো এরইমধ্যে তা পুকুর গেছে। আবাদি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে এসব পুকুর খবন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আর একাজে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ওইসব এলাকার বর্তমান অথবা সাবেক রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি নয়তো প্রভাবশালী ব্যক্তি।

স্থানীয় জমির মালিক ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন একএকটি পুকুরের আয়নত ২০ থেকে ৫০ বিঘা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ। প্রভাবশালীরা প্রথমে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মধ্যে যে জমিতে ফসল উৎপাদন তুলনামূলক কম হয় ওই জমি বাছাই করে সেখানে কৌশলে পুকুর করা শুরু করে। এর পর ওই পুকুরের কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন ওই সব জরিম মালিকেরা ফসল উৎপাদনে লোকশানে পড়ে। এতে করে তারা বাধ্য হয়ে তাদের আবাদি জমি প্রভাবশালী ওই পুকুর খননকারীকে লীজ দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। কিছুদিন আগেও রাতের আধারে পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেলেও, এখন প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে প্রকাশ্যে দিন-রাত এক নাগাড়ে চলছে খনন কাজ। কৃষি জমির আকৃতি পরিবর্তন দণ্ডণীয় অপরাধ হলেও এনিয়ে প্রশাসনের তৎপরতা হতাশাজনক। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে পুকুর খননকারী সিন্ডিকেট। পুকুর করতে গিয়ে কৃষি জমির উপরিতলের বিপুল পরিমাণ মাটি পাঠানো হচ্ছে ইটের ভাটায়। গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে ট্রাক্টর বা ট্রাকে করে পুকুর খননের মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে করে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো। চলাচলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

এদিকে একরের পর একর বিস্তৃত এসব পুকুরের পানির সরবরাহ ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। পুকুরের ধারে ব্যক্তিমালিকানায় গভীর নলকূপ বসিয়ে নয়তো বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়স কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচের পানি এসব পুকুরে সরাসরি ফেলা হচ্ছে পানির স্তর ঠিক রাখতে।

এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে রাজশাহীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে সংকট দেখা দিবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. সারওয়ার জাহান সজনল জানান, আপাতদৃষ্টিতে ফসলের চাইতে মাছকেই লাভজনক মনে করছেন অনেকে। তবে আবাদি জমি নষ্ট করে মাইলের পর মাইল অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন হতে পারে এই অঞ্চলের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ।

তিনি বলেন, ভূগর্ভস্ত পানির অপরিকল্পিত ব্যবহারের ফল ভোগ করছে তানোর-গোদাগাড়ীর মানুষ। কৃষি জমিতে অপরিকল্পিত পুকুর খনন অদূর ভবিষ্যতে বিপদে ফেলবে সকল পক্ষকেই। এবিষয়ে এখনই সতর্ক হতে হবে। দেশেকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে রাজশাহী অঞ্চলের আবাদি জমি ও কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। হাওড় অঞ্চলে প্রকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে প্রতি বছর শঙ্কা থাকলেও উত্তরের কৃষক নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ফসল উৎপাদন করে চলেছে। তবে জেলা প্রশাসনের প্রতি মাসের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় পুকুর খনন বিষয়ে আলোচনা হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, পুকুর খনন বন্ধের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।