রাবির ১১ হলে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৭:৫৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৯০ বার পড়া হয়েছে

রাবির ১১ হলে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক
নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ; ক্যাম্পাসে কার্যক্রমের সুযোগ নেই—উপাচার্য
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১১টি ছাত্র হলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাতে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবের স্বাক্ষরে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। জানা গেছে, পলাতক অবস্থায় থাকা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু নিজের ফেসবুক আইডি থেকেই এই তালিকা প্রকাশ করেন।
ঘোষিত তালিকায় প্রতিটি হলে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের জন্য কমিটি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়। তবে রাবির মোট ১৭টি হলের মধ্যে শুধুমাত্র ছেলেদের ১১টি হলেই এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তালিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে হলটির নাম পরিবর্তন হয়ে ‘বিজয়-২৪ হল’ করা হয়েছে। ওই হলে সভাপতি হিসেবে তানভির আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তামিম হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া শের-ই বাংলা ফজলুল হক হল, শাহমখদুম হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, সৈয়দ আমির আলী হল, শহীদ হবিবুর রহমান হল, মতিহার হল, মাদার বখ্শ হল, জিয়া হল, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও শহীদ শামসুজ্জোহা হলের জন্যও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘোষিত কমিটির অধিকাংশ নেতা বর্তমানে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন না। তাদের অনেকেই অতীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন এবং কেউ কেউ গ্রেপ্তার ও কারাভোগও করেছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। এরপর থেকে সংগঠনটির রাবি শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে তারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব বলেন, ঘোষিত নেতারা নির্যাতনের শিকার এবং সংগঠনকে সক্রিয় করতে তাদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, কমিটির কেউই বর্তমানে ক্যাম্পাসে উপস্থিত নেই।
রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাতে পারবে না। অনলাইনে কোনো ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে ক্যাম্পাসে তাদের কোনো কার্যকর অবস্থান নেই।
তিনি আরও বলেন, অনলাইনে নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















