আনসার খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: অভিযুক্ত রায়হান, কোরবান ও নির্মল
- আপডেট সময় : ০১:৫১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

আনসার খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: অভিযুক্ত রায়হান, কোরবান ও নির্মল
সম্মানী ও ভাতা থেকে বঞ্চিত তারকা খেলোয়াড়রা; ৫ লাখ টাকার চেক থেকেও আত্মসাতের অভিযোগ
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাহিনীর উপ-পরিচালক রায়হান ফকির এবং তায়কোয়ানডো কোচ মোঃ কোরবান আলী ও নির্মল চৌধুরীর বিরুদ্ধে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার সম্মানী এবং প্রশিক্ষণের দৈনিক ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন তায়কোয়ানডো, করাতে ও জুডোর একাধিক খেলোয়াড়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত বিভিন্ন তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী খেলোয়াড়দের সম্মানী এবং সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে প্রশিক্ষণরত খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি-এর সাবেক ক্রীড়া শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বর্তমান উপ-পরিচালক রায়হান ফকিরের প্রত্যক্ষ মদদে কোচ কোরবান আলী ও নির্মল চৌধুরী এসব অনিয়ম পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন-এর অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় নুরুদ্দিন হোসাইন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রতারণার বর্ণনা দিয়ে জানান, প্রাপ্য সম্মানী আদায়ের জন্য বারবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি।
তিনি বলেন, “একদিন রায়হান ফকির আমাকে ফোন করে জানতে চান আমি সম্মানী পেয়েছি কি না। না বললে তিনি আমাকে অফিসে ডাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই কোচ কোরবান আলী ও নির্মল চৌধুরী ফোন দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে বলেন এবং কেউ জানতে চাইলে টাকা পাওয়ার কথা বলতে নির্দেশ দেন।”
অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সম্মানী বাবদ ৫ লাখ টাকার একটি চেক নুরুদ্দিন হোসাইনের নামে ইস্যু করা হলেও তা তিনি নিজে উত্তোলন করতে পারেননি। বরং তাকে দিয়ে চেকে স্বাক্ষর করিয়ে সংশ্লিষ্টরা রূপালী ব্যাংক খিলগাঁও শাখা থেকে পুরো টাকা উত্তোলন করেন। পরে তাকে মাত্র ১ লাখ টাকা দিয়ে বাকি ৪ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন বলে অভিযোগ।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় তাবাসুম, রোমা, নাহার, ইলিয়াসসহ আরও অনেকে। এছাড়া ২০২২ সালের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশ সফরের ব্যয় বাবদ জনপ্রতি ৫০০ ডলার দেওয়ার কথা থাকলেও কেউ সেই অর্থ পাননি বলে দাবি করেছেন খেলোয়াড়রা।
দুর্নীতির অভিযোগ শুধু তায়কোয়ানডোতেই সীমাবদ্ধ নয়। জুডো ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রাও একইভাবে আর্থিক অনিয়মের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনা এসব ক্রীড়াবিদদের প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ হওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রায়হান ফকির ও কোচ কোরবান আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



















