ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আনসার খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: অভিযুক্ত রায়হান, কোরবান ও নির্মল জনবল সংকটে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে অচল, বন্ধ ৪৩ ট্রেন ও ৬৭ স্টেশন রাজশাহী চেম্বার নির্বাচনে পরিচালক পদে লড়ছেন শরিফুল ইসলাম রাজশাহীর পদ্মাপাড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঘুড়ি উৎসব নববর্ষে মানবিক উদ্যোগ: বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ লালপুরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃ/ত্যু স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে, ফিরল লাশ হয়ে-রাণীশংকৈলে সোহানের শেষযাত্রায় জনতার ঢল বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ২৫০ লালপুরে ১২০ ইয়াবা ও হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক কৃষকের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি নওশাদ জমির

বাগাতিপাড়ায় মা/দকের ছড়াছড়ি, ধ্বং/সের পথে যুবসমাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭০ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগাতিপাড়ায় মা/দকের ছড়াছড়ি, ধ্বং/সের পথে যুবসমাজ

প্রকাশ্যে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ; বাড়ছে সামাজিক অপরাধ, উদ্বেগে অভিভাবকরা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উদ্বেগজনক হারে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক এখন এতটাই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে যে এর প্রভাবে বিপথে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। একই সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধও বেড়ে চলেছে। এতে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া, কুঠিপাড়া, মন্ডলপাড়া, দোবিলা, ভিতরভাগ, চরপাড়া, কাহারপাড়া, দেবনগর এবং জামনগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বেচাকেনা ও সেবন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক আড্ডাকেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিনই জড়ো হচ্ছে উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা।

এছাড়া কুঠিপাড়া গোরস্থান সংলগ্ন আমবাগান, শ্মশানঘাট, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বড়াল নদীর ধারের কলাবাগান, বর্গীপাড়া, চৌধুরীপাড়া মোড়বাজার পশ্চিমপাড়া, রহিমানপুর, বাজিতপুর ও বাঁশবাড়িয়া এলাকাকেও স্থানীয়রা মাদক লেনদেনের সক্রিয় স্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও বাগাতিপাড়ার সীমান্তবর্তী রুট হওয়ায় জামনগর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে চেকপোস্ট ও নজরদারি কমে যাওয়ায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক সিন্ডিকেট।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর, সন্ধ্যা ও গভীর রাতে নির্দিষ্ট সড়ক ব্যবহার করে মাদক, চোরাই যানবাহন ও অবৈধ অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। তবে এসব ঠেকাতে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের নীরবতা ও দুর্বল তৎপরতার সুযোগে মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করছে। তারা দ্রুত নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“পুলিশের নাকের ডগায় মাদক বিক্রি হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরদারি এবং তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক সামাজিক সম্পৃক্ততা তৈরি করা। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এ বিষয়ে জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন,
“মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।”

অন্যদিকে, বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হান্নান বলেন,
“খুব শিগগিরই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগাতিপাড়ায় মা/দকের ছড়াছড়ি, ধ্বং/সের পথে যুবসমাজ

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় মা/দকের ছড়াছড়ি, ধ্বং/সের পথে যুবসমাজ

প্রকাশ্যে বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ; বাড়ছে সামাজিক অপরাধ, উদ্বেগে অভিভাবকরা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উদ্বেগজনক হারে মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক এখন এতটাই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে যে এর প্রভাবে বিপথে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। একই সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধও বেড়ে চলেছে। এতে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া, কুঠিপাড়া, মন্ডলপাড়া, দোবিলা, ভিতরভাগ, চরপাড়া, কাহারপাড়া, দেবনগর এবং জামনগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বেচাকেনা ও সেবন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক আড্ডাকেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিনই জড়ো হচ্ছে উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা।

এছাড়া কুঠিপাড়া গোরস্থান সংলগ্ন আমবাগান, শ্মশানঘাট, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বড়াল নদীর ধারের কলাবাগান, বর্গীপাড়া, চৌধুরীপাড়া মোড়বাজার পশ্চিমপাড়া, রহিমানপুর, বাজিতপুর ও বাঁশবাড়িয়া এলাকাকেও স্থানীয়রা মাদক লেনদেনের সক্রিয় স্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও বাগাতিপাড়ার সীমান্তবর্তী রুট হওয়ায় জামনগর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্তমানে চেকপোস্ট ও নজরদারি কমে যাওয়ায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক সিন্ডিকেট।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর, সন্ধ্যা ও গভীর রাতে নির্দিষ্ট সড়ক ব্যবহার করে মাদক, চোরাই যানবাহন ও অবৈধ অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। তবে এসব ঠেকাতে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের নীরবতা ও দুর্বল তৎপরতার সুযোগে মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করছে। তারা দ্রুত নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মাদক বিক্রেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“পুলিশের নাকের ডগায় মাদক বিক্রি হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।”

সচেতন মহলের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না; মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরদারি এবং তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইতিবাচক সামাজিক সম্পৃক্ততা তৈরি করা। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এ বিষয়ে জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন,
“মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।”

অন্যদিকে, বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হান্নান বলেন,
“খুব শিগগিরই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন।”