পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে বিদ্যুতের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন
২৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎহীন থাকার প্রতিবাদে বিক্ষোভ; নেসকো–পল্লী বিদ্যুতের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ, সন্ধ্যার মধ্যে সংযোগ স্বাভাবিকের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
পঞ্চগড় জেলা শহরের পুরাতন পঞ্চগড়সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোমবার চার ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড়-দিনাজপুর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের পুরাতন পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা ও চিনিকল বাজার এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর আশ্বাস পেয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকেলে শহরের ধাক্কামারা এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে লাইন মেরামতের সময় শাহিন আলম নামে নেসকোর এক লাইনম্যান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরাতন পঞ্চগড়, সুগার মিল এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। একইসঙ্গে দেখা দেয় পানি সংকট, নষ্ট হতে থাকে ফ্রিজে রাখা খাদ্যসামগ্রী। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময়েও নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পঞ্চগড় শহরের চিনিকল এলাকার বাসিন্দা নায়বুল ইসলাম বলেন, “প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে আমরা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। অথচ সমস্যার সমাধানে কারও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ ছিল না।”
আরেক গ্রাহক সবুজ অভিযোগ করে বলেন, “বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করলে কেউ রিসিভ করে না। এই গরমে শিশুদের নিয়ে অসহনীয় সময় পার করছি। ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
পুরাতন পঞ্চগড়ের বাসিন্দা শিল্পী বলেন, “এক-দুই ঘণ্টার লোডশেডিং মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকাটা খুবই কষ্টকর।”
শহিদুল ইসলাম নামে আরেক গ্রাহক বলেন, “নেসকো ও পল্লী বিদ্যুতের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
অবরোধের সময় পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড়-দিনাজপুর মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রী, রোগী বহনকারী যানবাহন এবং পণ্য পরিবহনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
এ বিষয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেব শর্মা বলেন, “পল্লী বিদ্যুতের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তা সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।”
অন্যদিকে পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মাজহারুল আলম বলেন, “আমাদের লাইনে কোনো সমস্যা ছিল না। অবরোধের পর নেসকোর পক্ষ থেকে সহায়তা চাওয়া হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে জনবল দিয়েছি। সমস্যাটি মূলত নেসকোর দিকেই ছিল।”
তবে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন এলাকাবাসী। তারা এ ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি এড়াতে জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

























