ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাগাতিপাড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন বাগাতিপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল বৃদ্ধের রাজশাহীতে ৪৩৮ কেন্দ্রে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু বাগাতিপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের জেল পঞ্চগড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু, ১ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে রাজশাহীতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা নারী দলের ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উন্মোচন লালপুরে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন মান্দায় পেট্রোল সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, তিন চালকের বিরুদ্ধে মামলা গোদাগাড়ীতে কু’কু’রের উপদ্রব: জলাতঙ্ক রোধে জরুরি ভ্যাকসিনের দাবিতে দুই মন্ত্রণালয়ে আবেদন রামেকে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনা, আলোচনায় মহিলাদল নেত্রী ফোরাতুন নাহার প্যারিস

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনা, আলোচনায় মহিলাদল নেত্রী ফোরাতুন নাহার প্যারিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে তার নাম; দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকলেও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুখে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে জেলা মহিলাদলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস-এর নাম। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন—দুই অঙ্গনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক পরিচিতি। দলের দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা, সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখা এবং নারী নেত্রীদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে তার অবদান তাকে জেলার রাজনীতিতে আলাদা অবস্থান এনে দিয়েছে।

ফোরাতুন নাহার প্যারিসের জন্ম আটোয়ারী উপজেলা-এর আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে একটি চৌধুরী পরিবারে। তিনি রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ইউনুস আলী-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এবং রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। দুই সন্তানের জননী প্যারিস পেশায় একজন স্কুলশিক্ষিকা। সংসার, শিক্ষকতা ও রাজনীতি—এই তিন ক্ষেত্র সামলে তিনি নিজেকে সংগ্রামী নারী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৯৩ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। এরপর থেকেই দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

২০১০ সালে তিনি জেলা মহিলাদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা ও হয়রানির মধ্যেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যান। ২০১৭ সাল থেকে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এর ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে চাকরিজীবনে চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েন। তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন-এর সময়েও নানা রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ ওঠে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি সভা-সমাবেশে সংগঠনের পক্ষে অবস্থান বজায় রাখেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তার স্বামী ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় এবং তিনি কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকেন। ওই সময় ফোরাতুন নাহার প্যারিসকেও আত্মগোপনে থাকতে হয়। একই বছর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন এবং প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তাকে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির সঙ্গেই রাজনীতি চালিয়ে যান।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে আহত হন তিনি। এরপর অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকলেও তিনি জেলা মহিলাদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যান।

জেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন প্যারিস। তার সাহসী ভূমিকা ও সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা তাকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে আস্থাভাজন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ফোরাতুন নাহার প্যারিস বলেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে আমি বিএনপির রাজনীতি করছি। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়, সেটি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনা, আলোচনায় মহিলাদল নেত্রী ফোরাতুন নাহার প্যারিস

আপডেট সময় : ০৪:১০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনা, আলোচনায় মহিলাদল নেত্রী ফোরাতুন নাহার প্যারিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে তার নাম; দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা থাকলেও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুখে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে জেলা মহিলাদলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস-এর নাম। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন—দুই অঙ্গনের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক পরিচিতি। দলের দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা, সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখা এবং নারী নেত্রীদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে তার অবদান তাকে জেলার রাজনীতিতে আলাদা অবস্থান এনে দিয়েছে।

ফোরাতুন নাহার প্যারিসের জন্ম আটোয়ারী উপজেলা-এর আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে একটি চৌধুরী পরিবারে। তিনি রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ইউনুস আলী-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এবং রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন। দুই সন্তানের জননী প্যারিস পেশায় একজন স্কুলশিক্ষিকা। সংসার, শিক্ষকতা ও রাজনীতি—এই তিন ক্ষেত্র সামলে তিনি নিজেকে সংগ্রামী নারী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কলেজ জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৯৩ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। এরপর থেকেই দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

২০১০ সালে তিনি জেলা মহিলাদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা ও হয়রানির মধ্যেও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যান। ২০১৭ সাল থেকে বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল-এর ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে চাকরিজীবনে চাপ ও হয়রানির মুখে পড়েন। তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন-এর সময়েও নানা রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ ওঠে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি সভা-সমাবেশে সংগঠনের পক্ষে অবস্থান বজায় রাখেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তার স্বামী ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় এবং তিনি কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকেন। ওই সময় ফোরাতুন নাহার প্যারিসকেও আত্মগোপনে থাকতে হয়। একই বছর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন এবং প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তাকে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির সঙ্গেই রাজনীতি চালিয়ে যান।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে আহত হন তিনি। এরপর অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকলেও তিনি জেলা মহিলাদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যান।

জেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সংগঠনকে ধরে রেখেছেন প্যারিস। তার সাহসী ভূমিকা ও সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা তাকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে আস্থাভাজন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ফোরাতুন নাহার প্যারিস বলেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে আমি বিএনপির রাজনীতি করছি। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকেছি। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেয়, সেটি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেবে।”