ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্য রক্ষায় রাজশাহীতে স্মারকলিপি: সন্দীপ কুমার রায়ের রাজবাড়ি সংরক্ষণের দাবি

এম এম মামুন:
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

collected

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঐতিহ্য রক্ষায় রাজশাহীতে স্মারকলিপি: সন্দীপ কুমার রায়ের রাজবাড়ি সংরক্ষণের দাবি

হেরিটেজ সাইট ঘোষণা, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় তিন দফা দাবি নাগরিক সমাজের

রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া মৌজায় অবস্থিত দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়ের নির্মিত ঐতিহাসিক রাজবাড়িসহ নানান ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজশাহীর নাগরিক সমাজ, সামাজিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী এবং ইতিহাস–ঐতিহ্য গবেষকরা যৌথভাবে এই স্মারকলিপি জমা দেন।

ঐতিহ্য রক্ষায় ৩ দফা দাবি

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়—রাজশাহী বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নগরী, যেখানে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার বহু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে। তবুও এসব স্থাপনার সঠিক সংরক্ষণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে যে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে— দরগাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী সন্দীপ কুমার রায়ের রাজবাড়ি ভাঙার উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা, নাগলিঙ্গম গাছসহ বাড়িটি সংরক্ষণ এবং হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা। রাজশাহী জেলা ও বিভাগজুড়ে পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা, এবং প্রতিটি নিদর্শনকে গুরুত্ব অনুযায়ী ক্যাটাগরিভুক্ত করে সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া। কান্ত কবি রজনীকান্ত সেনের বসতভিটা, মিঞাপাড়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমারের বসতভিটা (বর্তমানে একটি বিশেষ বাহিনীর দখলে) এবং তালন্দ ভবনসহ (এটিও একটি বিশেষ বাহিনীর দখলে) সব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

ঐতিহ্য ভাঙার প্রতিবাদ

স্মারকলিপিতে বলা হয়—দরগাপাড়ার ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাই না করেই ভাঙার জন্য নিলামে তোলা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। জনশ্রুতি আছে, পুঠিয়ার মহারানি হেমন্তকুমারী রাজশাহীতে এলে এই বাড়িতেই অবস্থান করতেন। বাড়ির সামনে থাকা নাগলিঙ্গম গাছটিও দীর্ঘ সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ।

ইতিহাস–ঐতিহ্য রক্ষায় সক্রিয় নাগরিক সমাজ

স্মারকলিপির অনুলিপি একই দিনে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সভাপতি শামীউল আলীম শাওন, সামাজিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী নাদিম সিনা, হাসিবুল হাসনাত রিজভিসহ অন্যান্যরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঐতিহ্য রক্ষায় রাজশাহীতে স্মারকলিপি: সন্দীপ কুমার রায়ের রাজবাড়ি সংরক্ষণের দাবি

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ঐতিহ্য রক্ষায় রাজশাহীতে স্মারকলিপি: সন্দীপ কুমার রায়ের রাজবাড়ি সংরক্ষণের দাবি

হেরিটেজ সাইট ঘোষণা, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় তিন দফা দাবি নাগরিক সমাজের

রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া মৌজায় অবস্থিত দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়ের নির্মিত ঐতিহাসিক রাজবাড়িসহ নানান ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজশাহীর নাগরিক সমাজ, সামাজিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী এবং ইতিহাস–ঐতিহ্য গবেষকরা যৌথভাবে এই স্মারকলিপি জমা দেন।

ঐতিহ্য রক্ষায় ৩ দফা দাবি

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়—রাজশাহী বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নগরী, যেখানে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার বহু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে। তবুও এসব স্থাপনার সঠিক সংরক্ষণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে যে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে— দরগাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী সন্দীপ কুমার রায়ের রাজবাড়ি ভাঙার উদ্যোগের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা, নাগলিঙ্গম গাছসহ বাড়িটি সংরক্ষণ এবং হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা। রাজশাহী জেলা ও বিভাগজুড়ে পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা, এবং প্রতিটি নিদর্শনকে গুরুত্ব অনুযায়ী ক্যাটাগরিভুক্ত করে সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া। কান্ত কবি রজনীকান্ত সেনের বসতভিটা, মিঞাপাড়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমারের বসতভিটা (বর্তমানে একটি বিশেষ বাহিনীর দখলে) এবং তালন্দ ভবনসহ (এটিও একটি বিশেষ বাহিনীর দখলে) সব ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

ঐতিহ্য ভাঙার প্রতিবাদ

স্মারকলিপিতে বলা হয়—দরগাপাড়ার ঐতিহাসিক বাড়িটি প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাই না করেই ভাঙার জন্য নিলামে তোলা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। জনশ্রুতি আছে, পুঠিয়ার মহারানি হেমন্তকুমারী রাজশাহীতে এলে এই বাড়িতেই অবস্থান করতেন। বাড়ির সামনে থাকা নাগলিঙ্গম গাছটিও দীর্ঘ সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ।

ইতিহাস–ঐতিহ্য রক্ষায় সক্রিয় নাগরিক সমাজ

স্মারকলিপির অনুলিপি একই দিনে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কাছেও পাঠানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) সভাপতি শামীউল আলীম শাওন, সামাজিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী নাদিম সিনা, হাসিবুল হাসনাত রিজভিসহ অন্যান্যরা।