ঝিনাইগাতীতে উপ নির্বাচন পরবর্তী দ্বন্দে হামলায় আহত মিলনের মৃত্যু, আটক ৩!
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪ ২৪৮ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইগাতীতে উপ নির্বাচন পরবর্তী দ্বন্দে হামলায় আহত মিলনের মৃত্যু, আটক ৩!
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপ-নির্বাচনের কলহের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত এমদাদুল হক মিলনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ঈদেরদিনে বিকেলে ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বুধবার ১০ এপ্রিল সন্ধায় উপজেলার তেতুলতলা বাজার এলাকায় এমদাদুল হক মিলনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত চারজন আহত হয়।
এ ঘটনায় তিনজন কে আটক করেছে থানা পুলিশ। হামলার ঘটনায় নিহত ৪২ বছরের এমদাদুল হক মিলন ঝিনাইগাতী উপজেলার ঘাগড়া সরকার পাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে। আহতরা হলো-নিহত মিলনের স্ত্রী লাবনী আক্তার, শিশু নিরব মিয়া, ইয়ানুছ মিয়া, হাশর আলী। আর হামলার অভিযোগে আটককৃত ৩ জন হলো-উপজেলার ঘাগড়া সরকার পাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মঞ্জুরুল হক বেবিন, নজরুল ইসলাম ও চাঁন মিয়ার ছেলে সাদা মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্যের মৃত্যুতে গত ৯ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সুরুজ আলী ও বাহাদুর মিয়া প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ওই নির্বাচনে সুরুজ আলী বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরেও সুরুজ আলীর সন্দেহ এমদাদুল হক মিলনের পরিবার তাকে ভোট দেয়নি। এমন সন্দেহে মিলনের বাড়ির কাছে উচ্চস্বরে সাইন্ড বক্স বাজিয়ে তাদেরকে বিরক্ত করে সুরুজ আলীর লোকজন। এ ঘটনায় মিলন প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় মিলনসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এরপর মিলন ও তার ভাইয়েরা কাজে যোগ দিতে ঢাকায় চলে যায়। এরপর তারা ঈদ পালনের জন্য বাড়ি এলে সুরুজ মেম্বারের লোকজন তাদের উপর হামলা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার ১০ এপ্রিল সন্ধ্যার পরে তেতুলতলা বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে মঞ্জুরুল হক বেবিনের নেতৃত্বে পরিকল্পিত ভাবে মিলনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে বাচাঁতে এসে তার স্ত্রী লাবনী আক্তার, শিশু নিরব মিয়া, ইয়ানুছ মিয়া, হাশর আলী আহত হয়। পরে আহত মিলনসহ অন্যদের প্রথমে ঝিনাইগাতী হাসপাতালে পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে এবং মিলনসহ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমদাদুল হক মিলন মারা যান। এ ঘটনায় মিলনের স্ত্রী লাবনী আক্তার বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ সহ আরও ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানায় মামলা দায়েরের পর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজন কে আটক করে পুলিশ।
লাবনী আক্তার তার স্বামীর হত্যাকারীদের কঠিন বিচার ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, সুরুজ মেম্বারের পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী বেবিন গ্রুপ আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েই আমরা এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। অতি দ্রুত সময়ে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তের করা হবে। আটককৃত তিনজনকে শুক্রবার ১২ এপ্রিল বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ কর হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ অফিসার।




















