তানোরে ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর!
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৩ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

তানোরে ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর!
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
তানোরে ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর! রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য (মেম্বার) রশিদা বেগমের বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত ও বিচার চেয়ে মেম্বারের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত্ত দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং ঘটনা ধাঁমাচাঁপা দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে গত ১১ অক্টোবর বুধবার সমাজ সেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানি করতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও ভুক্তভোগীদের উপস্থিত হতে বলা হয়। ভুক্তভোগীরা যথা সময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে রহস্যজনক কারণে এদিন সমাজ সেবা কর্মকর্তা অফিসে আসেননি, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যও উপস্থিত হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র ও নগদ ৫ হাজার টাকা করে নেয় মেম্বার রশিদা বেগম। কিন্তু এখনো কার্ড হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ভুক্তভোগী সুফিয়া বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেবার কথা বলে তার কাছে থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। আঙ্গুরীর কাছে ৫ হাজা ৫০০ টাকা, সোনামন বিবির কাছে ৭ হাজার, মোজাফফর আলীর ৫ হাজার ও জোসনা বিবিকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেবার নামে ৩ হাজার টাকা নিয়েছেন মেম্বার।
কিন্তু এখানো কার্ড দেয়নি। ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা গরীব অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষ টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে হুমকি দেয় মেম্বার তার স্বামী ও পুত্র। ফলে বাধ্য হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। একাধিক গ্রামবাসি জানান, দু’এক জনের কাছ থেকে টাকা নিলে হয়। অনেকের কাছে টাকা আদায় করেছে। এমনকি যারা কার্ড পাওয়ার যোগ্য তাদের কাছেও নিয়েছে, যারা যোগ্য না তাদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করেছেন। কখানো উপজেলা চেয়ারম্যান কখানো ইউপি চেয়ারম্যান আবার কখানো অফিসে দেবার নামে এসব টাকা আদায় করেছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কামারগাঁ ইউপির চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি ফরহাদ বলেন, আমি ঘটনা শোনার পর যাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে তাদের ফেরত দিতে বলেছি এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সিফাতের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এবিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা মেম্বার রশিদা বেগম বলেন, সমাজ সেবা অফিসের কিছু কর্মকর্তা টাকা ছাড়া কোন কাজ করে দেন না।
তিনি বলেন, আমি যাদের কাছ থেকে অফিস খরচের টাকা নিয়েছি সবার কার্ড হয়েছে। আপনি কি টাকার বিনিময়ে কার্ড দিতে পারেন জানতে চাইলে তিনি জানান, ভোটের সময় কেউ তো বিনা টাকায় ভোট দেয়নি, তারা ভোটের সময় নিয়েছে আমি এখন নিবো, আর এসব টাকা তো আমি খায় না, অফিসে খরচ করতে হয়।
















