শালিসের আগেই মারপিটে বৃদ্ধার মৃত্যু; গ্রেফতার-২!
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ নভেম্বর ২০২২ ১৬০ বার পড়া হয়েছে

শালিসের আগেই মারপিটে বৃদ্ধার মৃত্যু; গ্রেফতার-২!
নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শালিসের আগেই মারপিটে বৃদ্ধার মৃত্যু; গ্রেফতার-২! প্রতিবেশির সাথে ঝগড়া বিবাদের জেরে গতকাল শুক্রবার থানা পুলিশ উপজেলার কেউটান এলাকায় গিয়ে উভয় পক্ষকে বিচার শালিসের কথা বলেন। শনিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে বিচার হওয়ার কথা ছিল। তার পূর্বে প্রমিলার মৃত্যু হওয়ায় শালিসে বসা হলোনা চেয়ারম্যানের।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কেউটান গ্রামে তিলক রায়ের পরিবারের সাথে একই গ্রামের মনসিংহ (কাচালু)’র পরিবারের সাথে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে মারপিটের
ঘটনা ঘটে।ঘটনা স্থলে গেলে সংবাদকর্মীদের মৃত প্রমিলার পরিবার জানায়, ধান ট্রলিতে করে বাড়িতে নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে এই মারপিট হয়। মৃত্যু প্রমিলার স্বামী তিলক রায় বলেন,আমি বাড়ির পাশে গরুর খাবার কাটার সময় চিল্লাচিল্লি শুনতে পায়। পরে সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্ত্রী ও ছেলে কে মনসিংহ (কাচালুর) পরিবারের লোকজন মারপিট করছে।তখন আমি তাদের সেখনে মারাপিট ছুটানোর চেষ্টা করি। তারা আমাকেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
স্থানীয় কয়েক জন বলেন, বাড়ির সাথের রাস্তা দিয়ে ধানের গাড়ি প্রবেশের সময় কাচালুর পরিবারের লোকজন রাস্তায় বাঁশ পুতে রাখে এবং সেই রাস্তা দিয়ে ট্রলি নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয় এতে দুই পরিবারের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় অনেকে বলেন,সেই মহিলা আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু মৃতের ছেলের দাবি আমার মা` কে মারপিট করার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে।
থানার এ এস আই নুর আলম রাতেই ঘটনা স্থলে গিয়ে প্রস্তুতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় তিলকের স্ত্রী প্রমিলা রাণী (৫০) অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় ভাবে তাকে চিকিৎসা করেন তার বাড়ির লোকজন। রাতভর বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা করেও প্রমিলার কোন উন্নতি না হওয়ায় ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ নিয়ে প্রমিলার স্বামী তিলক রায় বাদী হয়ে মনসিংহ (কাচালু) ও তার ভাই পরেশ রায় সহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ অভিযুক্ত দুই জনকে গ্রেফতার করে পরদিন রবিবার জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদি তিলক চন্দ্র বলেন, মনসিংহ (কাচালু) সহ তার লোকজন আমার ছেলে ও স্ত্রীকে মাথার চুল ধরে বেধড়ক পিটিয়েছে। মারপিটের কারণেই আমার স্ত্রী প্রমিলার মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়া হোসেনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান এ ঘটনায় শনিবার দুপুর ১২টায় ইউপি কার্যালয়ে বিচার শালিস ডেকে ছিল।
সংশ্লিষ্ঠ্য ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মুঠোফোনে বলেন, শনিবার দুপুর ১২টায় ইউপি কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে শালিসে ডাকা হয়েছিল । কিন্তু রাতে প্রমিলার মৃত্যু হওয়ায় শালিস করা সম্ভব হয়নি।
থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন, এঘটনায় ছয়জনের নামে একটি হত্যা
মামলা রুজু হয়। দুইজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত
রিপোর্ট পাওয়া গেলেই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।



















