মসজিদে খুতবা দেওয়া কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১!
- আপডেট সময় : ১১:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

মসজিদে খুতবা দেওয়া কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১!
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মসজিদে খুতবা দেওয়া কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত মৎস্যজীবী লীগের নেতা সাকিল আহম্মেদ (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনাজপুরে মারা গেছেন। রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিলের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত সাকিল আহম্মেদের বড় ভাই যুবলীগ নেতা সাঈদ আলম।
সাকিল উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং হলদিবাড়ী গ্রামের মৃত সামশুল আলমের ছেলে।
এ ঘটনায় শনিবার রাতেই ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ ২০ জনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করেছেন ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আলম। মামলার পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সব আসামি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও বাদী সাঈদ আলম সহ স্থানীয় সেই মসজিদের একজন মুসল্লির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) হলদিবাড়ী বাজার জামে মসিজের ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তিনি বলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন এবং নিজের কাপড় তিনি নিজেই সেলাই করতেন। তাই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) তিনি মুচি ও দর্জি ছিলেন।এই কথা বলার পরে ইমান সাহেব কে স্থানীয় মুস্ললিরা দলিল দেখাতে বলেন ইমাম সাহেব কে। এক পর্যায়ে মুসল্লিদের মাঝে দুটি পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, নবী কে অসম্মান করে কথা বলায় প্রতিবাদ জানান সাঈদ আলম ও মুসল্লিরা। এ সময় মসজিদের ইমামের লোকজন ও যুবলীগ নেতা সাঈদ আলমের লোকজনের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটলে ওই দিন রাতেই চারজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা করেন সাঈদ আলম।
মামলা কথা জানতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন ও মামলার অন্য আসামিরা শনিবার সকাল আনুমানিক ১১ টায় সাঈদ আলমের পথ রোধ করে তাকে মারধর শুরু করেন। এরপর তাকে বাঁচাতে ভাই সাকিল আহম্মেদসহ পরিবারের লোকজন ছুটে এলে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষ জরিয়ে পরে। এতে যুবলীগ নেতা সাঈদ আলম ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা সাকিল আহম্মেদ গুরুতর আহত হোন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং আহতদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে সাঈদ আলম বলেন, ‘সাকিল আহম্মেদের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার কারণে চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়। আমি গুরুতর আহত, মাথায় ৯টি সেলাই নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছি। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের দুই ভাইকে হত্যা করতে চেয়েছিল। শেষ পযন্ত একজনকে হত্যা করতে সে সফল হয়েছে।’ জনপ্রতিনিধির আড়ালে একজন খুনি আর একজন খুনির দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি।
ইতিমধ্যে মারামারির কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায় এক যুবক মাটিতে পড়ে আছে কিন্তু তারপর ও তাকে নির্মম ভাবে আঘাত করছে কয়েকজন।
এদিকে রোববার (৪ সেপ্টম্বর) দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ করে আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন ভানোর ইউনিয়ন যুবলীগ ও স্থানীয়রা।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম ডন জানান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ৪, সব আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
























