রাজশাহীতে হিমাগারে আলুর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেচাকেনা বন্ধ
- আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীতে হিমাগারে আলুর ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেচাকেনা বন্ধ
রাজশাহীতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কর্মসূচির প্রথম দিনেই জেলার বিভিন্ন হিমাগারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, হিমাগারের প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার সরকার কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগার থেকে আলু বের করার কোনো কার্যক্রম চলছে না। একই চিত্র দেখা যায় পাশের উত্তরা কোল্ড স্টোরেজেও। স্বাভাবিক সময়ে এসব হিমাগারের সামনে আলু কেনাবেচা, লোড-আনলোড এবং পরিবহন কার্যক্রমে ব্যস্ততা থাকলেও আন্দোলনের কারণে সকাল থেকে সেখানে ছিল থমথমে পরিবেশ।
আলুচাষিদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনের নেতারা জানান, হিমাগারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আলু বেচাকেনা বন্ধ রাখবেন।
সমিতির আওতাধীন ৩৬টি হিমাগারে মঙ্গলবার থেকে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে পবার তকিপুর এলাকায় সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি।
তিনি বলেন, “২০২৫ সাল থেকে হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করে আসছেন। আগে প্রতি বস্তা আলুর ভাড়া ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, যা পরে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় উন্নীত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন ও ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশন একতরফাভাবে বস্তাপ্রতি ভাড়া ৪৭৫ টাকা নির্ধারণ করে।”
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, এক বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগার মালিকদের সর্বোচ্চ ব্যয় হয় প্রায় ১০০ টাকা। অথচ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪৭৫ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন করেছি। তখন দেশের পরিস্থিতির কারণে সুশীল সমাজ, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতারা আমাদের ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করেছিলেন। বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টির সমাধান হবে। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
অন্যদিকে হিমাগার মালিকদের দাবি, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সংরক্ষণ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তারা বলছেন, বর্তমান ব্যয় কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে আলুর বাজারজাতকরণে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

















