ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্যান্সার আক্রান্ত নারীকে ধ র্ষ ণ চেষ্টার মামলার পলাতক আসামি ঢাকায় আটক প্রথমবারের মতো রাণীনগরে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মান্দায় খালে গোসলের সময় পানিতে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে বাগাতিপাড়ায় ৩০ লাখ টাকার বেশি ঋণের চেক বিতরণ বাগাতিপাড়ায় একদিনে আওয়ামী লীগের সাবেক তিন নেতা আটক রাণীনগরে এক মঞ্চে সাত কর্মসূচির উদ্বোধন ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ লালপুরে নানাবাড়ির পানি নিষ্কাশনের ডোবায় পড়ে শিশু রাফসান’র মৃত্যু রাজশাহীতে কলাবাগান থেকে তিন বস্তা গাঁজা উদ্ধার; জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে সিংড়ায় স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে শ্লী/ল/তা/হা/নি/র চেষ্টা, গণ-ধো’লা’ইয়ের পর অটোরিকশাচালককে পুলিশে সোপর্দ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর কেন চান না রাষ্ট্রীয় সম্মান!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩ ১৮১ বার পড়া হয়েছে

বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর কেন চান না রাষ্ট্রীয় সম্মান!

আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর কেন চান না রাষ্ট্রীয় সম্মান! গত রবিবার (১৯ মার্চ) ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম। আবেদন পত্রে তিনি লিখেন যুদ্ধ না করেও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। সরকারি ভাতা পাচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হচ্ছে। তাই আমার মৃত্যুর পর আমাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিবেন না। তিনি তার পত্রে আরও লিখেন, মুক্তিযোদ্ধার বহর দেখে মুক্তিযোদ্ধারা দুঃখিত, ব্যথিত, লজ্জিত ও অপমানিত। মৃত্যুর পর আমি আর অপমানিত হইতে চাই না। আমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করবেন না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলামের বাড়ি জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের ছোট পলাশবাড়ী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত সফিজ উদ্দীনের ছেলে। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নম্বর-৮৯৭, এফ এফ নম্বর-২০৭৭, লাল মুক্তিবার্তা নম্বর-০৩১০০৩০০৬০।
কেন মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা চান না এমন প্রশ্ন জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই অনেকে গত কয়েক বছরে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। সরকারি ভাতা পাচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হচ্ছে। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেওয়া আমাদের (প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা) জন্য অপমানের। তাই এর প্রতিবাদে আমি ডিসি বরাবরে আবেদন করেছি, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি যে রাষ্ট্রের পক্ষে থেকে বোনাসগুলো পাই তা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নীলকান্ত সিংহ বলেন, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা সবারই এমন। তিনি মনের দুঃখে এমনটা করেছেন। দবিরুল ইসলাম একজন প্রতিবাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মতো সবাই হলে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা কখনো স্বীকৃতি পেতো না।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করি। তা ছাড়া আবেদনটি তিনি হয়তো দপ্তরে এসে দিয়ে গেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর কেন চান না রাষ্ট্রীয় সম্মান!

আপডেট সময় : ০৩:২৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর কেন চান না রাষ্ট্রীয় সম্মান!

আলমগীর হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর কেন চান না রাষ্ট্রীয় সম্মান! গত রবিবার (১৯ মার্চ) ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলাম। আবেদন পত্রে তিনি লিখেন যুদ্ধ না করেও অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। সরকারি ভাতা পাচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হচ্ছে। তাই আমার মৃত্যুর পর আমাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিবেন না। তিনি তার পত্রে আরও লিখেন, মুক্তিযোদ্ধার বহর দেখে মুক্তিযোদ্ধারা দুঃখিত, ব্যথিত, লজ্জিত ও অপমানিত। মৃত্যুর পর আমি আর অপমানিত হইতে চাই না। আমাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করবেন না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা দবিরুল ইসলামের বাড়ি জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের ছোট পলাশবাড়ী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত সফিজ উদ্দীনের ছেলে। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নম্বর-৮৯৭, এফ এফ নম্বর-২০৭৭, লাল মুক্তিবার্তা নম্বর-০৩১০০৩০০৬০।
কেন মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা চান না এমন প্রশ্ন জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই অনেকে গত কয়েক বছরে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। সরকারি ভাতা পাচ্ছেন এবং মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হচ্ছে। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেওয়া আমাদের (প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা) জন্য অপমানের। তাই এর প্রতিবাদে আমি ডিসি বরাবরে আবেদন করেছি, আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত না করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি যে রাষ্ট্রের পক্ষে থেকে বোনাসগুলো পাই তা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা নীলকান্ত সিংহ বলেন, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা সবারই এমন। তিনি মনের দুঃখে এমনটা করেছেন। দবিরুল ইসলাম একজন প্রতিবাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর মতো সবাই হলে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা কখনো স্বীকৃতি পেতো না।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুবরণ করলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করি। তা ছাড়া আবেদনটি তিনি হয়তো দপ্তরে এসে দিয়ে গেছেন।