ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রায়গঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি পঞ্চগড়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারওয়ার বকুল গ্রেপ্তার রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতির কক্ষে তালা, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রাজশাহীতে পেঁয়াজের বাজারে নজিরবিহীন দরপতন, চরম সংকটে কৃষক সাপাহার সীমান্তে নারী-শিশুসহ ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ বড়াইগ্রামে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগাতিপাড়ার অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক সামগ্রী বিক্রির বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা মান্দায় যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়ে শেয়ালের কামড়ে শিশুসহ আহত ৯, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: দেবীগঞ্জের পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় বদলি, গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি

প্রচন্ড তাপদাহে ঝরছে সাপাহারের বাগানের আম!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

ঝরছে সাপাহারের বাগানের আম

চ্যানেল এ নিউজ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রচন্ড তাপদাহে ঝরছে সাপাহারের বাগানের আম!

আলমগীর হোসেন, সাপাহার প্রতিনিধি:
প্রচন্ড তাপদাহে ঝরছে সাপাহারের বাগানের আম! আমের রাজধানী খ্যাত নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহার উপজেলায় প্রচন্ড তাপদাহ ও খরার কারণে মাটিতে ঝরে পড়ছে কৃষকের স্বপ্নের আম। তীব্র খরা আর টানা বৃষ্টিহীনতায় শুকিয়ে গেছে পুকুর খাল ও ডোবা গুলো। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা পুকুর খাল ও ডোবা গুলো দীর্ঘদিন খনন ও সংস্কার না করায় প্রচন্ড রোদ ও খরোতাপে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং প্রচন্ড তাপদাহে ঝরে পড়েছে গাছের আম।যার ফলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর উপজেলায় আমের ফলন বিপর্যয় ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আমচাষীরা।
গত কয়েক দিন আগেও এলাকার বিভিন্ন আম গাছ গুলোতে থোকায় থোকায় আমের গুটি দেখা গেলেও এখন তার অনেকটাই ঝরে পড়তে দেখা গেছে। সেই গাছ গুলোতেই এখন আর থোকায় থোকায় দেখা যাচ্ছে না আমের গুটি। প্রচন্ড রোদ ও তাপদাহে আমের গুটিগুলো ঝরে পড়ায় আমবিহীন ডাটা দেখা গেছে।গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শুরুতে আমের মুকুল বেশি থাকলেও পরবর্তীতে তাপমাত্রা ও খরার কারণে ঝরে পড়েছে বাগানের অধিকাংশ আম।আম প্রধান এই অঞ্চলে চাষীরা বর্তমানে গাছের দিকে তাকিয়ে হতাশার পাশাপাশি বুক ফাটা আর্তনাদ করছেন এবং বলছেন এবছর সব চাইতে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন তারা। এলাকার অনেক আম বাগানীরা জানান প্রচন্ড খরোতাপে গাছে গাছে পানি ও ঔষুধ স্প্রে করে গাছের আম রক্ষার চেষ্টা করেও গাছে আম আটকাতে পারছেন না। প্রচন্ড খরোতাপ ও রোদে ঝরে পড়েছে বেশিরভাগ গাছের আমের গুটি। তাছাড়া সেচের জন্য পানি না থাকায় বাগানে সেচ দেয়া যাচ্ছেনা।

উপজেলার পিছলডাঙ্গা গ্রামের আমচাষী মুমিনুল হক, দেলোয়ার হোসেন, জবই গ্রামের শাহজাহান আলীর ও পাতাড়ী গ্রামের কাজী আবু হাসান রানার সাথে কথা হলে তারা বলেন যে, এবছর শুরুতে প্রতিটি বাগানে যে পরিমান মুকুল ফুটেছিল মুকুল এবং পরবর্তীতে আমের গুটি দেখে সকলেই আশায় বুক বেধেছিল। কিন্ত হঠাৎ করে প্রচন্ড দীর্ঘ খরা ও মাত্রাতিরিক্ত তাপদাহ এর কারণে এখন গাছের আমের গুটি ঝরে পড়া দেখে আমচাষীদের সে আশা গুড়ে বালিতে পরিণত হতে বসেছে। তবে এখনও আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি নামলে গাছে যে পরিমানে গুটি রয়েছে তাতে কোন রকমে বাগানিরা তাদের ক্ষতি হয়ত পুশিয়ে নিতে পারবে।

সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে প্রচন্ড রোদ ও খরার কারণে গাছের আম ঝরে পড়া থেকে রক্ষার জন্য বাগানীদের গাছের গোড়ায় পানি গাছের পাতায় পানি স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় পানির সু ব্যবস্থা না থাকায় আমের ফলনের লক্ষমাত্রা পুরণ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বৃষ্টি হলে অনেকাংশে ক্ষতি কম হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মনিরুজ্জামান টকি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে আম রক্ষার্থে ১৫ দিন পরপর বাগান মালিক ও চাষিদের আমের গাছে বেশি করে পানি দিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং ছত্রাকনাশক ও বোরন স্প্রে করতে বলা হচ্ছে। সাপাহার বাজার আম বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন বর্তমানে কিছু কিছু বাগানে সেচ দিতে পারায় সে বাগানগুলিতে আমের গুটি ভালো পরিমানে রয়েছে। খরার পাশাপশি প্রাকৃতিক কোন বড় ধরণের দূর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন না হলেও চাষীরা তাদের খরচ পুশিয়ে নিতে পারবে বলে কৃষিদপ্তর ও আমচাষীরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রচন্ড তাপদাহে ঝরছে সাপাহারের বাগানের আম!

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩

প্রচন্ড তাপদাহে ঝরছে সাপাহারের বাগানের আম!

আলমগীর হোসেন, সাপাহার প্রতিনিধি:
প্রচন্ড তাপদাহে ঝরছে সাপাহারের বাগানের আম! আমের রাজধানী খ্যাত নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল সাপাহার উপজেলায় প্রচন্ড তাপদাহ ও খরার কারণে মাটিতে ঝরে পড়ছে কৃষকের স্বপ্নের আম। তীব্র খরা আর টানা বৃষ্টিহীনতায় শুকিয়ে গেছে পুকুর খাল ও ডোবা গুলো। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা পুকুর খাল ও ডোবা গুলো দীর্ঘদিন খনন ও সংস্কার না করায় প্রচন্ড রোদ ও খরোতাপে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। সেই সাথে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় এবং প্রচন্ড তাপদাহে ঝরে পড়েছে গাছের আম।যার ফলে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর উপজেলায় আমের ফলন বিপর্যয় ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আমচাষীরা।
গত কয়েক দিন আগেও এলাকার বিভিন্ন আম গাছ গুলোতে থোকায় থোকায় আমের গুটি দেখা গেলেও এখন তার অনেকটাই ঝরে পড়তে দেখা গেছে। সেই গাছ গুলোতেই এখন আর থোকায় থোকায় দেখা যাচ্ছে না আমের গুটি। প্রচন্ড রোদ ও তাপদাহে আমের গুটিগুলো ঝরে পড়ায় আমবিহীন ডাটা দেখা গেছে।গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শুরুতে আমের মুকুল বেশি থাকলেও পরবর্তীতে তাপমাত্রা ও খরার কারণে ঝরে পড়েছে বাগানের অধিকাংশ আম।আম প্রধান এই অঞ্চলে চাষীরা বর্তমানে গাছের দিকে তাকিয়ে হতাশার পাশাপাশি বুক ফাটা আর্তনাদ করছেন এবং বলছেন এবছর সব চাইতে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন তারা। এলাকার অনেক আম বাগানীরা জানান প্রচন্ড খরোতাপে গাছে গাছে পানি ও ঔষুধ স্প্রে করে গাছের আম রক্ষার চেষ্টা করেও গাছে আম আটকাতে পারছেন না। প্রচন্ড খরোতাপ ও রোদে ঝরে পড়েছে বেশিরভাগ গাছের আমের গুটি। তাছাড়া সেচের জন্য পানি না থাকায় বাগানে সেচ দেয়া যাচ্ছেনা।

উপজেলার পিছলডাঙ্গা গ্রামের আমচাষী মুমিনুল হক, দেলোয়ার হোসেন, জবই গ্রামের শাহজাহান আলীর ও পাতাড়ী গ্রামের কাজী আবু হাসান রানার সাথে কথা হলে তারা বলেন যে, এবছর শুরুতে প্রতিটি বাগানে যে পরিমান মুকুল ফুটেছিল মুকুল এবং পরবর্তীতে আমের গুটি দেখে সকলেই আশায় বুক বেধেছিল। কিন্ত হঠাৎ করে প্রচন্ড দীর্ঘ খরা ও মাত্রাতিরিক্ত তাপদাহ এর কারণে এখন গাছের আমের গুটি ঝরে পড়া দেখে আমচাষীদের সে আশা গুড়ে বালিতে পরিণত হতে বসেছে। তবে এখনও আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি নামলে গাছে যে পরিমানে গুটি রয়েছে তাতে কোন রকমে বাগানিরা তাদের ক্ষতি হয়ত পুশিয়ে নিতে পারবে।

সাপাহার উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে প্রচন্ড রোদ ও খরার কারণে গাছের আম ঝরে পড়া থেকে রক্ষার জন্য বাগানীদের গাছের গোড়ায় পানি গাছের পাতায় পানি স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় পানির সু ব্যবস্থা না থাকায় আমের ফলনের লক্ষমাত্রা পুরণ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বৃষ্টি হলে অনেকাংশে ক্ষতি কম হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মনিরুজ্জামান টকি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে আম রক্ষার্থে ১৫ দিন পরপর বাগান মালিক ও চাষিদের আমের গাছে বেশি করে পানি দিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং ছত্রাকনাশক ও বোরন স্প্রে করতে বলা হচ্ছে। সাপাহার বাজার আম বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন বর্তমানে কিছু কিছু বাগানে সেচ দিতে পারায় সে বাগানগুলিতে আমের গুটি ভালো পরিমানে রয়েছে। খরার পাশাপশি প্রাকৃতিক কোন বড় ধরণের দূর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন না হলেও চাষীরা তাদের খরচ পুশিয়ে নিতে পারবে বলে কৃষিদপ্তর ও আমচাষীরা মনে করছেন।