রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতির কক্ষে তালা, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
- আপডেট সময় : ১০:০৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

রাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগে সভাপতির কক্ষে তালা, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
সেশনজট, ফল প্রকাশে বিলম্ব ও উপস্থিতি গণনায় অনিয়মের অভিযোগ; শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বৈঠকের আশ্বাস বিভাগের সভাপতির
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দিয়েছেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সেশনজট, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা এবং উপস্থিতি গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে অবস্থিত নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির কক্ষে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কক্ষটিতে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘ছাত্র-ছাত্রীদের বিভাগ না, শিক্ষকদের বিভাগ?’, ‘কিসের অর্ডিন্যান্স, সাড়ে ছয় বছরে অনার্স কেন?’ এবং ‘৯ মাসে এক সেমিস্টার কেন?’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, করোনাকালীন শিক্ষাজট নিরসনে বিভাগ কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেমিস্টারের ফল প্রকাশেও দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেছে। এছাড়া মাস্টার্স পর্যায়ে উপস্থিতি গণনায় অনিয়ম করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, একটি ক্লাসের জন্য একটি উপস্থিতি গণনা করার নিয়ম থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তিন থেকে চারটি উপস্থিতি একসঙ্গে হিসাব করা হয়েছে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী একদিন অনুপস্থিত থাকলে একাধিক উপস্থিতি হারানোর কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ শতাংশ উপস্থিতি পূরণ করতে পারেননি।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু মুসা বলেন, “আমাদের অনার্স কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালে। কিন্তু চার বছরের কোর্স শেষ হতে প্রায় ছয় বছর সময় লেগেছে। মাস্টার্সও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হয়েছে। উপস্থিতি গণনায় অনিয়মের কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় উপস্থিতি পূরণ করতে পারেনি। বিষয়টি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছি।”
একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহসিনা আরাবি বলেন, “করোনাসহ বিভিন্ন কারণে আমাদের চার বছরের অনার্স সম্পন্ন হতে প্রায় ছয় বছর সময় লেগেছে। অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে, কিন্তু শেষ হয়েছে ২০২৬ সালে। ফল প্রকাশের পরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটি ক্লাসে একাধিক উপস্থিতি ধরা হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় উপস্থিতির হার পূরণ করতে পারছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমাধান চাই।”
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগের সভাপতি রবিউল আলম। তিনি বলেন, “কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৬০ শতাংশের নিচে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য নয়। আজ তাদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তারা সবাইকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে বিভাগে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিভাগের শিক্ষক সভার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।


















