পঞ্চগড়ে সুখী বউ–শাশুড়ী ও যৌথ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান
- আপডেট সময় : ০১:৪২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩০ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ে সুখী বউ–শাশুড়ী ও যৌথ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান
প্রাচীনকাল থেকে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য একান্নবর্তী বা যৌথ পরিবার। সময়ের পরিবর্তন ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই ঐতিহ্য আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়লেও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় এখনও টিকে আছে কিছু ব্যতিক্রমী যৌথ পরিবার। এমন পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করে সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন।
যৌথ পরিবারের পাশাপাশি সংসারের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সুখী বউ–শাশুড়ীকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত শীত আনন্দ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব সম্মাননা দেওয়া হয়।
গত শনিবার রাতে তেঁতুলিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার সাড়ে সাত হাজার শিশুর মাঝে শীতবস্ত্র, স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চগড়ের একটি যৌথ পরিবার ও একটি পরিবারের বউ–শাশুড়ীকে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কবীর আহমেদ আকন্দ।
সেরা যৌথ পরিবার হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন পঞ্চগড় জেলা শহরের পশ্চিম জালাসী এলাকার ফিরোজা বেগমের পরিবার। পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরও তার পরিবারে রয়েছে পাঁচ ছেলে, পাঁচ বউমা, এক মেয়ে ও সাতজন নাতি-নাতনি। ১৯ সদস্যের এই পরিবারের রান্না হয় একই হাঁড়িতে। ননদ–ভাবি ও জা’দের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, নেই হিংসা কিংবা আভিজাত্যের অহংকার। সবাই মিলেমিশে কাজ ভাগাভাগি করে সংসার পরিচালনা করেন।
সেরা বউ–শাশুড়ী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন পঞ্চগড়ের সুগারমিল এলাকার আলেয়া খাতুন ও তার তিন বউমা—সাহিদা আক্তার, সাদিয়া হাসমিম এবং সাইফুন নাহার। এখানে বউ–শাশুড়ীর সম্পর্ক মা–মেয়ের মতো। ১৫ সদস্যের পরিবারের সবাই একসাথে টিকে থাকার পেছনে এই বউ–শাশুড়ীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বউমারা অসুস্থ শ্বশুরের সেবা করেন নিজের বাবার মতো, আর হাসি-ঠাট্টার মধ্য দিয়েই কাটে তাদের দিন।
শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কবীর আহমেদ আকন্দ বলেন, আমাদের সমাজে এখনও যেসব যৌথ পরিবার টিকে আছে, আমরা তাদের সম্মানিত করতে চাই। পাশাপাশি সমাজে বউ–শাশুড়ীর সম্পর্ক নিয়ে শুধু নেতিবাচক আলোচনা হয়, কিন্তু অনেক পরিবারেই এই সম্পর্ক মা–মেয়ের মতো সুন্দর। আমরা সেসব ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে চাই, যাতে আগামীর সমাজে ভালো বার্তা পৌঁছে যায়।
অনুষ্ঠানে কবীর আহমেদের স্ত্রী নাহিদা আক্তার আকন্দ, সম্মিলিত স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব এবং শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুরাদ হাসানসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।



















