নলডাঙ্গায় প্রায় ২৭ কোটি টাকার হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ!
- আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

নলডাঙ্গায় প্রায় ২৭ কোটি টাকার হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ!
ফজলে রাব্বি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উদ্বোধনের প্রায় তিন বছর হতে চললেও জনবল সংকটে শুরু হয়নি স্বাস্থ্য সেবা। ধুলার রাজ্যে পরিনত হয়েছে হাসপাতালটি। ধুলায় খাচ্ছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মীত ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ফলে হাতের কাছে সরকারী একটি আধুনিক হাসপাতাল থাকলেও ডাক্তার, নার্সসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলের অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার প্রায় ২ লক্ষ মানুষ। আর এই ২ লক্ষ মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে মাত্র ২জন চিকিৎসক। অর্থের অভাবে জেলা বা বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা করাতে পারছেন না হতদরিদ্র পরিবারসহ অনেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা দাবি করেছেন, খুব শীঘ্রই হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা যায়, ৫০ শর্য্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিনেও স্বাস্থ্য সেবা চালু না হওয়ায় এলাকাবাসীর দাবীর মুখে ও গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর স্বাস্থ্য সেবার জন্য পুরোপুরি কাজ সম্পূর্ণ না করেই ২০২১ সালের ২৭ জুলাই হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ হয়নি।
তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ২জন মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে হাসপাতালটির শুধুমাত্র বহিঃবিভাগ চালু রেখেছে। এতে জনবলের অভাবে জরুরী বিভাগ ও রোগীদের ওর্য়াড চালু করা সম্ভব হয়নি। বিনা টাকায় সরকারী ছুটির দিন ব্যাতিত প্রতিদিন দুপুর পর্যন্ত বহিঃবিভাগে রোগী দেখা ছাড়া অন্য সেবা প্রদান করা হয়না হাসপাতালটিতে। অথচ হাসপাতালটির ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীর আবাসিক সুবিদার জন্য আলাদা আলাদা আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মোট ২৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যায়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আলেয়া বেগমসহ রোগীরা জানান, হাসপাতালটি ২ বছর আগে হয়েছে কিন্তু এখনও পুরো দমে চালু হয়নি। এখানে শুধু সামান্য ঔষুধ দেওয়া হয়। হাসপাতালটি চালু হলে আমাদের নাটোর-রাজশাহী যাওয়া লাগে না।
স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মী রাসেল মিয়া, রাশেদ আলম হাসপাতালটি পুরো দমে দ্রুত চালুর দাবি করে বলেন, বর্তমানে হালপাতালের অবস্থা বড়ই নাজুক, যেন ধুলার রাজ্য পরিনত হয়েছে।
নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, হাসপাতালটি বর্তমানে ধুলো আর সাপের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটি চালু পুরোপুরিভাবে চালু না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নলডাঙ্গাবাসী। এ বিষয় নিয়ে আমি বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েছি, কিন্তু এখনও তার সুরাহা করা যায়নি। হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে নলডাঙ্গাবাসীর সেবা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কামনা করেন তিনি।
নাটোর সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, নলডাঙ্গা উপজেলা ৫০ বেডের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল অনুমোদন হয়নি। যার ফলে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তারাসহ নাটোর জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিষয়টি নিয়ে উদ্ধতন কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। হাসপাতালটিতে জনবল অনুমোদন দিলেই খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্য সেবা চালু হবে বলে তিনি আশা বযক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২৬ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ২০১৮ সালে হাসপাতালটি নির্মান কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। তা শেষ হয় ২০২১ সালের র্মাচ মাসে

















