নলডাঙ্গায় গৃহবধূ ধর্ষণ মামলা হলেও তদন্তে গতি নেই, আসামীরা প্রকাশ্যে!
- আপডেট সময় : ০২:০৪:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

নলডাঙ্গায় গৃহবধূ ধর্ষণ মামলা হলেও তদন্তে গতি নেই, আসামীরা প্রকাশ্যে!
নাটোর প্রতিনিধিঃ
নাটোরের নলডাঙ্গার বাঁশিলা গ্রামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের মামলার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই। একারনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযুক্ত আসামীরা। এমনকি মামলার আসামীরা পুলিশের সাথে ওঠাবসাও করছে বলে অভিযোগ বাদির। মামলা তুলে নিতে ওই গৃহবধুর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে অভিযুক্তর পক্ষের লোকজন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে গৃহবধূর পরিবার। মামলায় অভিযুক্ত তুহিন ব্যাপারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও তার ডিএনএ টেস্টের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
শনিবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোর শহরের একটি রেস্তোরায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবী জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গৃহবধূসহ তার শ্বশুর দুলাল ব্যাপারী, চাচা শ্বশুর আব্দুর রশিদ, কামাল ব্যাপারী, মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী, শামসুল ব্যাপারী, শাহ আলম মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ লিখিত বক্তব্যে জানান, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের বাসিন্দা মালেক ব্যাপারীরর ছেলে তুহিন ব্যাপারী, তার সহযোগী ওসমান, জীবন ও শুভ একই এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে। এসময় তার মুখ বেঁধে বাড়ি থেকে বের করে তুহিনের বাবার ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বাড়ির দরজা খোলা দেখে বাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূর খোঁজ করতে থাকে।বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে ফেলে চলে যায় অভিযুক্তরা। এই ঘটনায় চারজনকে আসামী করে পরদিন নলডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন ওই গৃহবধূ। এর পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
গৃহবধূ জানান, তার স্বামী বিদেশে থাকেন। এ ঘটনার পর তিনি লজ্জায় দেশে ফিরতে পারছেন না। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার না করায় তারা একদিকে আমাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে অপরদিকে পুলিশ ও ডাক্তারকে ম্যানেজের চেষ্টা করছে।
গৃহবধূর চাচা শ্বশুর শামসুল ব্যাপারী বলেন,পুলিশ আসামীদের সাথে বসছে,চলাফেরা করছে।শুধু গ্রেফতার করছে না। এতে বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা।
এ ব্যপারে অভিযুক্তদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রধান অভিযুক্ত প্রধান আসামী তুহিন ব্যাপারির বাবা স্থানীয় ইউপি সদস্য মালেক ব্যাপারি বলেন, ছেলে যদি অপরাধ করে থাকে তবে আইনের আওতায় এনে তার (ছেলের) বিচার করা হোক। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে হুমকি দেয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগ মিত্যা ও বানোয়াট।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নলডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক আলিম সর্দার জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। দ্রুুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পুলিশ আসামীদের সাথে ওঠাবসা করছে এমন অভিযোগ ঠিক নয়।

















